মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

জাইকার মাধ্যমে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে

সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, পাশে জাইকা চীফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিতোশী হিরাতা, জাপানের অনারারী কনস্যুল জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম, আইকোসা’র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. নাওহিরো কুরোসী, স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান ও চট্টগ্রাম চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ

চট্টগ্রাম ব্যুরো : দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (সিসিসিআই), বাংলাদেশ এওটিএস এলামনাই সোসাইটি (বিএএএস), চট্টগ্রাম এওটিএস এলামনাই সোসাইটি (সিএএএস) এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (জেবিসিসিআই)’র যৌথ আয়োজনে আইকোসা’র “দ্যা রোল অব এসএমই ইন দ্যা ন্যাশনাল ইকোনমি-দ্যা কেস অব জাপান এন্ড হাউ বাংলাদেশ শুড গো এহেড” শীর্ষক দি ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন ফর স্মল এন্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইসেস ইন এশিয়া (আইকোসা) সেমিনার গতকাল  বুধবার বিকেলে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে উদ্বোধনি পর্বে চিটাগাং চেম্বার  প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশে জাইকা চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিতোশী হিরাতা, চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, আইকোসা স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান, মেম্বার সেক্রেটারি ড. এ. কে. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন ও সিএএএস’র প্রেসিডেন্ট সাইফুদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশ ও জাপানে এসএমই খাতের ভূমিকা শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইকোসা’র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. নাওহিরো কুরোসী। এছাড়া সাবেক সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোঃ সালেহ জহুর বাংলাদেশের এসএমই খাতের উপর তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। সেমিনারে মূল বিষয়ের উপর আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম উদ্দিন এফসিএ।
 চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-জাপান সরকার জাইকার মাধ্যমে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের অবকাঠামো, যোগাযোগ ও জ্বালানী খাতের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। জাপান এসএমই সেক্টরের উন্নয়নের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তুলেছে যা বাংলাদেশের জন্য অনুকরণীয় মডেল। আমাদের এসএমই উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হলো নারী উদ্যোক্তা। তাই নারী উদ্যোক্তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন-বাংলাদেশ সরকার এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত এবং পরামর্শমূলক সহায়তার জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন, বিসিক ও বেসিক ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। কিন্তু এখনো আর্থিক প্রণোদনা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং যথোপযোগী নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। চেম্বার সভাপতি বলেন-চিটাগাং চেম্বার এসএমই’র উন্নয়নে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে যার অংশ হিসেবে সেমিনার ও মেলার আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানাবিধ সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জাপানকে বিশেষ শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের আহবান জানান। চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ বলেন-এ সেমিনার বাংলাদেশ ও জাপানের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জাইকা চীফ রিপ্রেজেন্টেটিভ হিতোশী হিরাতা বলেন-বাংলাদেশ বিগত এক দশকে আশাতীত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য। জাইকা চীফ চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য শিল্প ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনয়ন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। জাপানের অনারারি কনস্যুল জেনারেল মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন-জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রয়েছে যাদের সহযোগিতায় জাপান এগিয়ে আসতে পারে। আইকোসা’র সভাপতি সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান বলেন-দেশের প্রতিটি চেম্বারে এসএমই’র জন্য আলাদা সেকশন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তিনি প্রতিটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এসএমই জোন স্থাপনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানকে ভিয়েতনাম মডেল অনুসরণ ও বাংলাদেশকে আসিয়ান’র ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণের অনুরোধ জানান। আইকোসা প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রবন্ধে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর জাপানের এসএমই খাতে সাফল্যের ইতিহাস তুলে ধরেণ। তিনি বাংলাদেশে এসএমই খাতে প্রতিযোগিতামূলক শ্রম ও বাজার সক্ষমতার সাথে জাপানী এসএমই খাতে বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব ও তাদের কারিগরি এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার সংমিশ্রণের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ খাতে নতুন দিনের সূচনা করতে পারে যা বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি উভয় দেশের জন্য পণ্য বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। আইকোসা স্টিয়ারিং কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ড. এ. কে. এম. মোয়াজ্জেম হোসেন আইকোসা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। সিএএএস’র প্রেসিডেন্ট সাইফুদ্দিন আহমেদ মনে করেন মানবসম্পদের দক্ষতা ও আর্থিক প্রণোদনা, যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় এদেশের এসএমই খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে যা থেকে উত্তরণ হওয়া জরুরী। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ জহুরুল আলম, মোঃ রকিবুর রহমান (টুটুল) ও অঞ্জন শেখর দাশ, প্রাক্তন পরিচালকবৃন্দ, ওম্যান চেম্বার নেত্রীবৃন্দ, বিনিয়োগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সরকারী উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রিহ্যাব, এসএমই হেল্পলাইন বাংলাদেশ, ফ্রোজেন ফ্রুটস এসোসিয়েশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবর্গ, এ.কে.খান এন্ড কোং, ফিনলে, লুব-রেফ, জেএফ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাবৃন্দ ও ‘স্বাধীনতা নারী শক্তি সংগঠন’-এর নেত্রীবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ