সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ন্যায়বিচার : প্রকৃতির ধর্ম, ইতিহাস ও প্রতিশোধ

সুমাইয়া তাসনীম : ক্ষমতাসীন রাজা- বাদশাহ ও সশাসকদের অদ্ভুত শখ, খেয়াল ও অআশা পূরণের ইতিহাস বেশ পুরনো। এ কারণে যুগে যুগে হয়তো শাসিত জনগণকে দিতে হয়েছে চড়ামূল্য।  কিন্তু তাতে শাসকগোষ্ঠীর উপলব্ধির কিছু এসে যায়নি। কিংবা বন্ধ হয়নি এ অদ্ভুত ও নিষ্ঠুর খেয়াল। যতক্ষণ না আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের টুটি চেপে ধরেছেন-
১. ভ্লাদ দ্য ইম্পেলার : বিশ্বের সকল রাজা-রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। রোমানিয়ার দক্ষিণাংশের কিং ভøাদ অব ওয়ালাচিয়া ইতিহাসে বিখ্যাত ও কুখ্যাত হয়েছেন তার নিষ্ঠুরতার মাধ্যমে। তার নিষ্ঠুরতার এত গল্প ছড়িয়েছে যে, তার অনেকটা মিথলজির জন্ম দিয়েছে। তার চরিত্রের ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে ব্রাম স্টোকারের বিখ্যাত চরিত্র ড্রাকুলা। তিনি নাকি বাস্তবে ড্রাকুলার চেয়েও ভয়ঙ্কর ছিলেন। শাসক অবস্থায় প্রায় ২০ হাজার মানুষকে মেরেছেন তিনি। আর তার মৃত্যুদণ্ডের প্রিয় উপায়টি ছিলো শূলে চড়িয়ে মারা। এটি সর্বকালের সবচেয়ে নিষ্ঠুত মৃত্যুদণ্ডের উপায় হিসেবে বিবেচিত।
২. জাস্টিন টু অব বাইজান্টাইন : নিজের বিশাল অঞ্চল খুইয়ে পাগলপ্রায় হয়ে যান এই রাজা। তিনি মাথার ভেতরে শুধু মানুষের ফিসফিসানি শুনতে পেতেন। চাকরদের বলতেন তার মাথায় বাড়ি দিতে। কিংবদন্তি রয়েছে, তিনি তার দুজন চাকরকে হত্যা করে তাদের খেয়েও ফেলেন। তাকে শান্ত করতে নিজের রাজপ্রাসাদের মতো খেলনা প্রাসাদ বানিয়ে সাজিয়ে রাখতে হতো।
৩. এম্প্রেস অ্যানা অব রাশিয়া : একজন পাপেট সম্রাজ্ঞী ছিলেন। মূলত দেশের এলিট শ্রেণি তাকে পরিচালিত করতো। তার সবচেয়ে বড় পাগলামি হলো, বয়স্ক প্রিন্সের বিয়ে ঠিক করেন একজন ভৃত্যের সঙ্গে। বরফের তৈরি আচ্ছাদনে তাদের বিয়ে আয়োজিত হয়। সেখানে তিনি ভাঁড়ের পোশাক পরে আনন্দ উপভোগ করেন।
৪. হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর সাথে নমরুদের নকল খোদা সাজার কথা খুবই প্রচলিত। হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে আল্লাহ অগ্নিকুন্ডকে শান্তির বাগানে পরিণত করেন। এ ঘটনা কোরআনে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা আগুনকে নির্দেশ প্রদান করেন : ইয়ানারু কুলি বারদান অ-সালামান আলা ইবরাহিম (আ.)- হে আগুন, ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও। নমরুদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে যায়। নমরুদের অগ্নিকুন্ড ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য শান্তির বাগান হয়ে যায়। তিনি নিরাপদে বের হয়ে আসেন। নমরুদের দুঃখের সীমা থাকে না।
নমরুদ বুঝতে পারে ইবরাহিমের (আ.) খোদা মহাশক্তিশালী, তার সাথে যুদ্ধ করতে হবে। নমরুদ তার দরবারের শীর্ষস্থানীয়দের সাথে পরামর্শক্রমে একটি সুউচ্চ মিনার নির্মাণ করে, খোদার সাথে যুদ্ধ করবে বলে। তিন বছর মুদ্দতে দুই কোস অর্থাৎ তিন হাজার গজ উঁচু মিনার প্রস্তুত হয়ে যায়। নমরুদ যখন এ মিনারের শীর্ষদেশে পৌঁছে যায় তখনো আসমান এত উঁচুতে দেখা যাচ্ছিল। সে নিরাশ হয়ে নেমে আসে। তার এ ব্যবস্থা কাজে আসল না। খোদার অসীম কুদরত কারো বোঝার সাধ্য নেই। মিনারটিও উপড়ে পড়ে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও অসংখ্য লোকজন ধ্বংস হয়ে যায়। এতে নমরুদ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং সে বলে, ইবরাহিমের (আ.) খোদার সাথে যুদ্ধ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
শয়তান-নমরুদকে আকাশে পৌঁছার একটি পথ দেয় বলে, চারটি শকুন পালন কর এবং কাঠের একটি বক্স তৈরি করো, যাতে দুজন লোকের বসার সঙ্কুলান হয়। বক্সটি এমন আকারের হবে, যার চতুর্দিকে লাটির আকারে বাইরের দিকে থাকবে। অতঃপর একদিন একরাত শকুনগুলোকে সম্পূর্ণভাবে ভুখা-অভুক্ত রাখতে হবে এবং চারটি ডান্ডালাঠি ওদের দেহে বেঁধে দেবে এবং ওই বাক্সে আরোহন করে চারটি শকুনের মাথার ওপর গোশতের টুকরো ঝুলিয়ে দেবে। শকুনগুলো ভুখা থাকার কারণে গোশতের টুকরোগুলো খাওয়ার জন্য উপরের দিকে উড়তে থাকবে।
শয়তানের পরামর্শ অনুযায়ী নমরুদ কাজ করে এবং তার প্রধানমন্ত্রীকে তার সঙ্গে সোয়ারী বসিয়ে আকশে উড়াল দেয়। এ আকাশ যানটি ভূখন্ড থেকে এত উঁচুতে পৌঁছে যে, ভূমি দৃষ্টি হতে আড়াল হয়ে যায়। তখন নমরুদ তীর বের করে আকাশের দিকে নিক্ষেপ করে। আল্লাহর কুদরতে তীরটি রক্তে রঞ্জিত হয়ে ফিরে আসে। নমরুদ মনে করে, ইবরাহিম (আ.)-এর খোদাকে হত্যা করতে সে সফল হয়েছে। এবার নমরুদ গোশতের টুকরোগুলো শকুনদের পায়ের নিচে রেখে দেয়। শকুনগুলো ভূমিতে অবতরণ করে।
নমরুদ ইবরাহিম (আ.) কে বলে, আমি তোমার খোদাকে খতম করে দিয়েছি, এখন তো আমাকে খোদা স্বীকার করে নিতে তোমার দ্বিধা থাকতে পারে না। হযরত ইবরাহিম (আ.) বলেন, তুমি তো আস্ত পাগল, কোনো মানুষ কি খোদাকে মারতে পারে? নমরুদ বলে, যদি ব্যাপার এরূপ হয় তাহলে তুমি আমাকে বল খোদার  সৈন্যসংখ্যা কত? হযরত ইবরাহিম (আ.) বলেন, খোদাতায়ালার সৈন্যসংখ্যা কত, তা তিনি ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না। নমরুদ বলল, তুমি স্বীয় খোদার কাছে বল, তিনি যেন আমার সাথে সর্বশেষ যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। আমি ও আমার সৈন্যবাহিনী একত্রিত করছি এবং খোদাও যেন তার সৈন্যবাহিনীসহ মোকাবিলা করতে আসেন। খোদার সাথে যুদ্ধ করার জন্য নমরুদ তার সৈন্য বাহিনীকে একত্রিত করে। আল্লাহতায়ালা কুহেকাফের দিকে একটি মশাবাহিনী প্রেরণ করেন। সেই মশাবাহিনী নমরুদ বাহিনীর সকল সৈন্যের মগজ খেয়ে ফেলে এবং সেখানেই তাদের সকলের মৃত্যু ঘটে। একটি ল্যাংড়া মশা নমরুদের মগজে প্রবেশ করে। সে খোদায়ী দাবিও ভুলে যায়। সে ল্যাংড়া মশা তার মস্তিষ্কে ৪০ দিন পর্যন্ত কামড়াতে থাকে। এ থেকে বাচার জন্য অনবরত জুতা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হতে থাকে। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। অবশেষে জুতার আঘাতে আঘাতে এভাবেই ৪০ দিন পর নমরুদের মৃত্যু ঘটে।
৫. ফেরাউনের জোতিষী ভবিষৎবাণী করলো, খুব শীঘ্রই এক শিশু জন্ম নিবে যার হাতে ফেরাউনের পতন হবে। সেই ভয়ে ফেরাউন রাজ্যের সমস্ত শিশু হত্যার অরাজকতা শুরু করে দিল রাজ্যজুড়ে। নতুন শিশু জন্ম নেয়ার পথ বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করলো। কিন্তু লাভ হলোনা। মহান আল্লাহর ইচ্ছায় মূসা আ: জন্ম নিলেন। জন্মের পরপরই তার মা তাকে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিলেন। সেই মূসা আ: ভিড়তে ভিড়তে ফেরাউনের ঘাটেই এসে পৌঁছলেন। ফেরাউনের দয়ালু স্ত্রী ঈমানদার আছিয়া আ: তার রক্ষক হয়ে রইলেন। ফেরাউনের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির ছায়াতলে মূসা আ: বড় হতে লাগলেন। যৌবনে উপনীত হওয়ার পর ঘটলো নতুন বিপত্তি। ফেরাউনের বংশধরের একজন মূসা আ: এর চড়ের আঘাতে নিহত হলো। মূসা আ: আবার দেশান্তরি হলেন। এরপর পরিণত বয়সে নবুয়তের দাওয়াত নিয়ে ফিরে এলেন ফেরাউনের দরবারে। ততদিনে ফেরাউনের অত্যাচার, নির্যাতনে মানুষের জীবন দুর্বিষহ। তার খোদায়ী দাবির অধিকার বাস্তবায়নে জনসাধারণ শিরকের অন্ধকারে নিমজ্জিত। নতুন করে শুরু হলো ফেরাউনের রাজ্যের পট পরিবর্তন। অনেক তর্ক- বিতর্ক, হুমকি ও কৌশল সত্ত্বেও ফেরাউন দরবারের কয়েকজন ব্যক্তি তার সামনেই তার খোদায়ীকে চ্যালেঞ্জ করে বসলো এবং ইসলাম গ্রহণ করলো। দীর্ঘ দশকের পর দশক ধরে খোদায়ী দাবিদার ফেরাউন এ ঘটনা মানবে কেন? এ ছিল তার সহ্যের বাইরে। মূসা আ: কে তার পুরো বংশসহ হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সংবাদ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ওহীর মাধ্যমে তাকে জানিয়ে দিলেন এবং নীল নদ পাড়ি দিয়ে হিজরতের আদেশ দিলেন। রাতের আধারেই মূসা আ: যাত্রা করলেন। কিন্তু শেষ মূহুর্তে মূসা আ: টের পেয়ে পিছু ধাওয়া করে। আল্লাহর অসীম কুদরতে নীলনদের মাঝ বরাবর রাস্তা তৈরী হয় এবং মূসা আ: নীল নদ পার হলেন। পিছু ধাওয়াকারী ফেরাউন বাহিনী নদীর মাঝখানে রাস্তা দেখে ঘোড়া ছুটিয়ে দিল। মাঝ নদীতে আসতেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাস্তাকে সমুদ্র উচ্ছ্বাসে পরিণত করে দিলেন। দলবলসহ সলীল সমাধি ঘটে ফেরাউনের। ইতিহাস হয়ে রইলো তার করুণ মৃত্যু।
৬.বাংলাদেশের অন্যতম মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এক প্রতিবেদনে বলেছে চলতি ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে দেশে বিচারবর্হির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন ৪২২ জন। শনিবার প্রকাশিত অধিকারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ৪২২ জনের মধ্যে ক্রসফায়ারে ৪১৫ জন, গুলীতে ২ জন এবং নির্যাতনে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে গুমের শিকার হয়েছেন ৭১ জন এবং কারাগারে মৃত্যু হয়েছে ৫৭ জনের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সংস্থাটি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যার মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি ঘটনা স্থান পেয়েছে।
এর আগে ২০১৬ সালে ‘অধিকার’র গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- ঘটেছে ১১৮টি। এর মধ্যে ক্রসফায়ার ১৩৭, গুলীতে নিহত ১০, নির্যাতনে মৃত্যু ৮ ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ৩টি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা পায়ে গুলীবিদ্ধ হয়েছেন ১৬ জন। গুমের শিকার হয়েছেন ৮৪ জন। গাইবান্ধা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক গাওছুল আজম ডলার (৪৮)সহ কারাগারে মারা গেছেন ৫৪ জন।
ভারতীয় বিএসএফ বাহিনী কর্তৃক মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ছিল ৮২টি। এর মধ্যে বিএসএফএ’র গুলীতে ২৮ জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩৫ জন বাংলাদেশী এবং অপহৃত হন ১৯ জন। সরকার যতই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলুন না কেন, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বিদায়ী বছরে সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ আহত ৫১ জন আহত ও ১৬ জন লাঞ্ছিত হয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২০৯ জন ও আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৬৪৪ জন।
নারীর ওপর যৌতুক সহিংসতার ঘটনা ঘটে ১৮৭টি। এছাড়া আলোচ্য সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৯৭ নারী ও শিশু, যৌন হয়রানির শিকার ২৫৯, এসিড সহিংসতা ৪০, গণপিটুনীতে মৃত্যু ৪৭, তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ৩, বিক্ষোভের সময় ও কারখানায় আগুনে পুড়ে আহত ২৭১ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গ্রেফতার (সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ফেসবুকসহ অনলাইনে লেখার কারণে) হয়েছেন ৩৪ জন।
৭. আজকের জেএসসি/ জেডিসি পরীক্ষা পেছানো হলো এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হেফাজতে ইসলাম দাওরা হাদীসের মান দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিবে বলে। (৫ মে শাপলা চত্বরের রক্তের দাগ মানুষের অন্তর থেকে মুছে যায়নি এখনো)।  এই অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে রাজধানীর বেশ অনেক রাস্তা জুড়ে নেয়া হয়েছে ব্যবস্থাপনা। কিন্তু এই কারণে জনগণের ভোগান্তি কোন পর্যায়ে পৌছাবে তা কল্পনাতীত। ইতিহাসের কোনকালে অনুষ্ঠানের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে এটা মনে হয় নতুন ঘটনা। শখ বলে কথা।
৮. সম্প্রতি জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। এই ঘটনা এতদিনে দেশময় সবার জানা। বিগত দুই আড়াই দশক আগে জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের জোট ছিল এটাও সর্বজনবিদিত। জামায়াতের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের ফাসি কার্যকর এই সরকারের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন হয়েছে। কিন্তু জামায়াত থেমে যায়নি। কয়েকদিন আগে বিবিসির সাক্ষাতকারে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমান সাহেব তাদের নিজেদের কর্মপন্থা নিয়ে কথা বলেছেন। এই বক্তব্য সর্বমহলে সাড়া জাগিয়েছে ইতিমধ্যে। তাদের অভ্যন্তরীণ মানসিক মজবুতির একটি চিত্র এই বক্তব্যের মাধ্যমে পাই।
ইতিহাস কখনো কোন অত্যাচারীকে ক্ষমা করেনা। তার কর্মের উপযুক্ত প্রতিফল দিয়ে দেয়। এরজন্য সময়ের প্রয়োজন হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের জন্য সুযোগের রশি ঢিল দেন। তার শোধরানোর জন্য সুযোগ দেন। এই সময়ে নির্যাতিতের ধৈর্যের পরীক্ষাও নেন। কিন্তু যখনি এই সময় শেষ হয়, ততদিনেও ব্যক্তি  ক্রমাগত অন্যায়ের পথ থেকে ফিরে না আসে, আল্লাহ তার রশি গুটিয়ে নেন। অত্যাচারীকে নিক্ষেপ করেন ইতিহাসের আস্তাকুড়ে। এই দুনিয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকৃতির এই নীতিই তিনি ঠিক করে দিয়েছেন। এটাই এর ধর্ম। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধও। ন্যায়বিচার আদায়ের পথও এটাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ