বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সীমান্ত হত্যা

বন্ধুরাষ্ট্রের আচরণ এমন হয় কেমন করে? ‘বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ’ শিরোনামের খবরটি মুদ্রিত হয়েছে প্রথম আলোয়। ৫ নবেম্বর মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ওয়াহেদপুর সীমান্তে ভারতীয় ভূখন্ডে ডালিম মাঝি (২২) নামের এক বাংলাদেশি রাখালকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ডালিম মাঝির বাড়ি শিবগঞ্জের নিশিপাড়া গ্রামে। বাবার নাম মংলু মাঝি। ৪ নবেম্বর সকালে ডালিমের লাশ বাড়িতে এনে  দাফন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, একদল বাংলাদেশি গত শনিবার রাতে জহরপুরটেক সীমান্ত দিয়ে ভারতে গরু আনতে যান। গরু নিয়ে আসার পথে ভারতের পাতলাটোলা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া করে। অন্যরা পালিয়ে আসতে পারলেও ডালিম ধরা পড়েন। ডালিমকে ধরার পর বিএসএফের সদস্যরা তাকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন। সীমান্ত দিয়ে গরু আনার ঘটনা নতুন কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিকরা এই গরু ব্যবসার সাথে জড়িত। আগে এনিয়ে তেমন সমস্যা হতো না। তবে সাম্প্রতিককালে উগ্ররাজনীতির কারণে গরু আনা-নেয়া নিয়ে নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটছে, হত্যার ঘটনাও ঘটে চলেছে অব্যাহতভাবে। আর ভারতে গো-রক্ষা আন্দোলনের কথা তো বিশ্ববাসী অবগত হয়েছে। গরুর গোস্ত রাখা ও খাওয়ার অপরাধে মানুষ পর্যন্ত হত্যা করা হয়েছে। বিশ্ববাসী অবাক হয়েছে এ কথা জেনে যে, ভারতে মানুষের চেয়ে গরুর মূল্য বেশি!
সীমান্ত পথে গরু আনা-নেয়ার ঘটনায় আইনের প্রসঙ্গও তোলা হয়। বলা হয় এই ব্যবসা অবৈধ। অবৈধ হলেতো তা আইনের মাধ্যমেই অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর অবৈধ কাজের শাস্তি তো আইনেই নির্দিষ্ট থাকার কথা। সেই আইনের কোথাও কি লেখা আছে, ভারত থেকে গরু আনার অপরাধে বিএসএফ সদস্যরা কাউকে রাইফেলের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করতে পারবে? এমন কোনো বিধান না থাকলেতো বিএসএফ সদস্যরা হত্যার অপরাধ করেছে। এ অপরাধের কোনো বিচার হবে কী? বাংলাদেশ সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কী? ভাবতে অবাক লাগে, লঘু পাপে এমন গুরুদন্ড হয় কেমন করে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ