শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেন কাদের সিদ্দিকী

গতকাল সোমবার মতিঝিলস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দানের ঘোষণা দেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম -সংগ্রাম

# অতীতের ন্যায় বর্তমান স্বৈরাচারকেও আত্মসমর্পণ করতে হবে ----কাদের সিদ্দিকী
# দেশ সঙ্কটে পড়লে তার দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে ----আ স ম রব
স্টাফ রিপোর্টার : কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিলেন। গতকাল সোমবার দুপুরে মতিঝিলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করার ঘোষণা দিলেন সাবেক আওয়ামী লীগের এই নেতা। যোগদানকালে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আজকের দিন আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন। আমি আনন্দের সাথে আজ আমার দলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে, আমি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করছি। জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য, দেশের জনগণকে মুক্ত করার জন্য আমরা তার নেতৃত্বে কাজ করার অঙ্গীকার করছি।
যোগদানের আগে কাদের সিদ্দিকী কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে  বৈঠক করেন। পরে সেখানে জাতীয় ঐক্যের কয়েকজন নেতার সঙ্গেও আলোচনা করেন। এরপরই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেন।
গত ৩ নবেম্বর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আয়োজিত জেলহত্যা দিবসের আলোচনা সভায় ড. কামাল হোসেনের কাছে তার ফ্রন্টে যোগদানের জন্য একদিন সময় নিয়েছিলেন। ওই আলোচনা সভায় ড. কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এই সংক্ষিপ্ত যোগদান অনুষ্ঠানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডির আসম আবদুর রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপির বরকত উল্লাহ বুলু, কাদের সিদ্দিকীর স্ত্রী নারগিস সিদ্দিকী বক্তব্য রাখেন। বক্তারা কাদের সিদ্দিকীর যোগদানের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ফ্রন্টের ৭ দফা দাবির আন্দোলন নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে দাবি করে তাকে অভিনন্দন জানান।
এই অনুষ্ঠানে গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির মোহাম্মদ শাহজাহান, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সুলতান মো. মনসুর আহমেদ, গণফোরামের মোকাব্বির খানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। এই ফ্রন্টে বিএনপি, জেএসডি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে এখন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও যোগ হলো।
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার সব শক্তি দিয়ে ড. কামাল হোসেনকে সহায়তা করবো। দেশের মানুষের মুক্তির জন্য যতটা সম্ভব কাজ করবো। লড়াইয়ে জেতা আমার জন্য কোনো কঠিন কাজ নয়। আইনের সহায়তা করবেন ড. কামাল হোসেন। আর লড়াই করবো আমরা, যুদ্ধ করবো আমরা। আমাদের হাতে যদি টিক্কা খান হেরে থাকে, ইয়াহিয়া খান হেরে থাকে, নিয়াজী যদি নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণ করতে হয় তাহলে আজকের দিনে যারা  স্বৈরাচার সাজছেন তাদেরকেও আতœসমর্পণ করতে হবে।
বিকল্পধারার সভাপতি ডা. বদরুদ্দৌজা চৌধুরীকে লক্ষ্য করে বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ৩ নবেম্বর বি. চৌধুরীকে আমার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কিন্তু ড. কামাল হোসেন আসবেন বলে তিনি আসেননি। এজন্য আমার দুঃখ নেই। নবেম্বরে আসেননি, ডিসেম্বরে নিশ্চয়ই তিনি আসবেন, সে প্রত্যাশা রয়েছে।
শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী আর মাহী বি. চৌধুরী এমপি হবেন- বি. চৌধুরীর এমন প্রত্যাশা সংক্রান্ত খবরের প্রসঙ্গ টেনে কাদের সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বি. চৌধুরী (যুক্তফ্রন্ট ও বিকল্পধারা চেয়ারম্যান) ও ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে আমি একটি জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বি. চৌধুরী আসেননি। তিনি বলেন, তার (বি. চৌধুরী) ইচ্ছা যদি হয় শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী থাকুক, তার ছেলে মাহী বি. চৌধুরী সংসদে আসুক, তাহলে তাকে বাংলাদেশের মানুষের আর কোনো প্রয়োজন নেই। দেশের মানুষের প্রয়োজন মুক্তি। বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনই সেই পথ দেখাতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে সম্মত হওয়ায় কাদের সিদ্দিকী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে মুহূর্তে আলোচনায় বসেছেন, তখন থেকে দেশে কিছুটা হলেও পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতারা যেখানে সংলাপের কথা শুনতেই পারতেন না, এখন সমঝোতার সুরে কথা বলছেন। পোড়া মানুষের গন্ধ শুকতে শিখেছেন, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রধামন্ত্রীকে উদ্দেশ জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, আপনি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে চান, আমাদের দাবি মানতে হবে। আর যদি দেশকে সঙ্কটে ফেলে দিতে চান, তাহলে এর দায় আপনাকেই নিতে হবে। ছলচাতুরি করে রেহাই পাবেন না। রব বলেন, ঐক্য গঠন করতে তার (কাদের সিদ্দিকী) যথেষ্ট অবদান রয়েছে। আমাদের এ লড়াই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই। ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াই। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে লড়াইয়ের মাত্রা বেড়ে গেল।’
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে আ স ম রব বলেন, আপনাদের পায়ের তলার মাটি নেই। দেশের মানুষ বোকা নয়। ভোট জালিয়াতি বন্ধ করতে ইভিএম বন্ধ করতে হবে। নির্বাচন করতে হলে সাত দফা মানতে হবে।
ঐক্যফ্রন্টে কাদের সিদ্দিকীকে স্বাগত জানিয়ে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, দেশের সঙ্কটে বিগত সময়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী দেশকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আজকের সঙ্কটেও আমরা তাকে সামনের সারিতে পাব বলে আশা করি। আমরা একসঙ্গে কাজ করব। দেশের মানুষ আশা নিয়ে সংলাপের দিকে তাকিয়ে আছে।
বিএনপির নেতা বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, আমাদের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়ার জন্য বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে মোবারকবাদ জানাই। তার যোগদানের মধ্য দিয়ে আন্দোলন পরিণতি লাভ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ