শুক্রবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ডেড লাইন ৭ নবেম্বর!

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল:

ফের আলেচনায় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার সংলাপ। কাল বুধবার সেই মহাক্ষণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কালকের দিনটাকে দেখছেন ভিন্নভাবে। অনেকেই এটাকে ‘ডেডলাইন’ হিসেবেই দেখছেন। পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, বুধবারের সংলাপ থেকে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত না হলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে রাজপথের আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। ফলে দেশজুড়ে আবারো শঙ্কা তৈরী হবে। সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে। এদিকে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশ থেকেও সরকারকে একটি আল্টিমেটাম দেয়া হবে বলে জানা গেছে। থাকবে নির্বাচন ও আন্দোলনের কৌশলী বার্তা। সমাবেশকে মহাসমাবেশে রূপ দেয়ার সকল আয়োজন চলছে বলে জানা গেছে।
সংলাপ প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগ যদি মনে করে গতবারের মতো নির্বাচন করে পার পেয়ে যাবে, তবে মনে রাখতে হবে এবার কোনো পথ পাবে না। এবার আওয়ামী লীগকে সবখানে লড়াইয়ের মোকাবিলা করতে হবে। মান্না বলেন, আওয়ামী লীগের গুম, খুনের ইতিহাস সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, এসব পথ বাদ দিয়ে একটি সুন্দর পথে আসুন। আমরা যদি আলোচনায় সমস্যার সমাধান করতে পারি, তাহলে আন্দোলনে যাওয়া লাগবে না। কিন্তু আলোচনা হবে না বলে ছলচাতুরী করে ক্ষমতায় টিকে থাকবেন, তা হবে না। মান্না বলেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে চিঠি দিয়েছে। ইসির সাথে কথা বলেছে। তাদেরকে বলেছি তফসিল পেছানোর জন্য। তিনি বলেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমাদের সংলাপ। তার আগে মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুনে রাখুন, ৬ তারিখের জনসভায় আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করব। কিন্তু আন্দোলন মানে সহিংসতা না, ভাঙচুর না। কিছুই করিনি তাতেই তাদের (সরকার) যে অবস্থা, কিছু করলে কী হবে? সন্ত্রাস কাকে বলে, তা আপনারা করছেন। তবে আমরা মনে কর, কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগেই সরকার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি মেনে নিবে। মান্না আরও বলেন, সরকারের সময় শেষ। বিগত ভোটের এক বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগের চলে যাওয়া উচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছর থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এখন চলে যাওয়া উচিত। চলে যাওয়ার আগে তিনি একটি নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যবস্থা করে যেতে পারেন, যেখানে কোনো কর্মকর্তা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না।
আজ ঐক্যফ্রন্টের জনসভা : আজ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকফ্রন্টে। নির্বাচন ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আগের দিন রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ এই জনসভা থেকে দুই ধরনের আগাম বার্তা দিতে চায় নবগঠিত রাজনৈতিক এই জোটটি। সংলাপ সফল হলে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামা আর ব্যর্থ হলে দাবি আদায়ে আন্দোলনের মাঠে নামতে কর্মীদের দিক নির্দেশনা মূলত কৌশলী বার্তা দিবেন ফ্রন্ট নেতারা।
ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানিয়েছেন, ২৪ শর্তে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করার লিখিত অনুমতি পেয়েছে ঐক্যফন্ট। বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ঐক্যফ্রন্ট মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনসভায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া ঐকফ্রন্টের সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটসহ বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে এই জনসভায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই জনসভায় বিপুল লোকের সমাগমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপি বড় ধরনের শোডাউন করতে যাচ্ছে। এজন্য প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মীদের জনসভায় যোগ দেয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
জনসভার আগে গতকাল সোমবার ভেন্যু পরিদর্শন করেন ফ্রন্ট নেতারা। এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বলেন, জনসভায় রাজধানীসহ ঢাকার আশাপাশের জেলা থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন। ইতোমধ্যে সমাবেশ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। স্মরণকালের সর্ববৃহত জনসভা হবে এটি।
এদিকে জনসভা সফল করতে গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিক বৈঠক করেছে বিএনপি ও ঐক্যফন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। গতকাল বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এবং ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে জনসভা সফল করতে নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বৈঠকগুলোতে মূলত একাদশ সংসদ নির্বাচন ও আন্দোলন-এ দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আজকের জনসভায় নির্বাচন ও আন্দোলন দুই ধরনের কৌশলী বার্তা দেযার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংলাপ সফল হলে সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামা আর ব্যর্থ হলে দাবি আদায়ে আন্দোলনের মাঠে নামতে কর্মীদের দিক নির্দেশনা বার্তা দিবেন ফ্রন্ট নেতারা।
ফ্রন্টের সিনিয়র এক নেতা জানান, দ্বিতীয় দফা সংলাপের মধ্য দিয়ে সমঝোতা হলে ঐক্যফ্রন্টের অবস্থান হবে ইতিবাচক; অর্থাৎ আন্দোলন বাদ দিয়ে তারা নির্বাচনের মাঠে নামবে। আর সংলাপ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের পথেই হাঁটবে তারা। এই বার্তাটিই থাকবে জনসভায়। সংলাপের কারণে বড় ধরনের কোন কর্মসূচি আসবে না।
কর্মসূচির বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, ৬ নবেম্বর মূলত সুষ্ঠু নির্বাচনের পক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য জেলায় জেলায় মিটিং এবং লিফলেট বিতরণসহ হালকা কর্মসূচি দেওয়া হবে। কঠোর কর্মসূচি আসবে আরো পরে। আমরা বুধবারের সংলাপের জন্য অপেক্ষা করবো। আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেটা যদি না হয় তাহলে দাবি আদায়ে রাজপথের কোনো বিকল্প থাকবে না।
এর আগে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল সোমবার দুপুরে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি এ কথা জানান। গতকাল দুপুরে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানিসহ দলটির তিন নেতা সমাবেশের অনুমতির জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কার্যালয়ে যান। পরে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সমাবেশের অনুমতির জন্য তিনি, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর সমাবেশের অনুমতি দেয় পুলিশ। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, কাল বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশটি হবে। অনুমতি পাওয়ার পর এখন মঞ্চ  তৈরির কাজ চলছে।
কাল ফের সংলাপ: আগামীকাল বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বেলা ১১টায় গণভবনে এই সংলাপ অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এটি নিশ্চিৎ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্ট থেকে আবার সংলাপে বসতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই জানিয়েছিলেন যে সংলাপের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত। তবে ৭ নবেম্বরের পর সংলাপ সম্ভব নয়। সবমিলিয়ে ৭ নবেম্বর বেলা ১১টায় ছোট আকারে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ হবে। প্রথম সংলাপের ‘অসম্পূর্ণ আলোচনা সম্পূর্ণ’ করতে আবার আলোচনায় বসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোববারই চিঠি দিয়েছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কামাল হোসেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে গত ১ নবেম্বর গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বহুল আলোচিত সংলাপে বসে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ওই সংলাপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। তবে প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো দাবি মানার সুযোগ নেই বলে তাদের জানান। সেদিন সংলাপ শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কামাল হোসেন বলেন, এ আলোচনায় বিশেষ কোনো সমাধান তারা পাননি। আর জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির ফখরুল বলেন, আলোচনায় তারা সন্তুষ্ট নন। আবার সংলাপ চেয়ে ড. কামালের চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত আলোচনার পরও আমাদের আলোচনাটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেইদিন আপনি বলেছিলেন, আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
জানা গেছে, এবারের আলোচনার বিষয়বস্তু ‘সীমিত পরিসরে’ রাখার পক্ষে মত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, এই ক্ষেত্রে দফাগুলোর সাংবিধানিক এবং আইনগত দিক বিশ্লেষণের জন্য উভয়পক্ষের বিশেষজ্ঞসহ সীমিত পরিসরে আলোচনা আবশ্যক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপে যাওয়ার আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে বিশেষজ্ঞ আইনজীবীদের মতামত নিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আইন বিষয়ক সাংবাদিক সালেহউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ফোন করে সময় জানিয়েছেন। ৭ নবেম্বর বেলা ১১টায় গণভবনে  বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে  বৈঠকে কে কে অংশ নেবেন, তা জানতে চাইলে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, সোমবার স্টিয়ারিং কমিটির মিটিংয়ে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইতিমধ্যে এই জোট বিভিন্ন আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এবারের বৈঠকে এই বিশেষজ্ঞদের অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের দিকেই তাকিয়ে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ৭ নবেম্বর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের ফলাফল জেনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছেন জোটের নেতারা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সিইসিসহ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অনুরোধের কথা জানান জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। তিনি বলেন, ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচনের সময় রয়েছে। ৮ নবেম্বর তফসিল না দিলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। আমরা এটা ইসিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। ২০১৯ সালের জানুয়ারির পরেও আপনারা (ইসি) দেশে থাকবেন, কথাটি মাথায় রেখেই কমিশনকে দায়িত্ব পালন করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আব্দুর রব। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলের প্রতি মানুষের আস্থা আছে কি না এ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তবে বৈঠকের পরে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় নয়, ভেতরে গলার আওয়াজ এমনই ছিল। সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বৈঠকে বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কোনো অনাস্থার কথা বলতে আসেননি। তবে এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা নেই। মান্নার বক্তব্যের জবাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, আপনাদের (রাজনৈতিক দল) ওপরও তো জনগণের আস্থা নেই। সিইসির এই বক্তব্যের পর মান্না বলেন, ‘মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ।’ এরপর প্রতিনিধি দলের আগের সদস্য সুলতান মনসুর বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখা গেছে এক দলের নেতা আরেক জেলায় জেলে। এভাবে চলতে পারে না। তিনি ইসিকে সতর্ক করে বলেন, ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন আর করা যাবে না।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলে পরিস্থিতি ফের সংঘাতের দিকে যাবে। তিনি বলেন, চলমান রাজনীতির যে প্রতিযোগিতা, তার মধ্যে সংলাপ রেখে আলোচনা করাই শ্রেয়। সংলাপকে আলাদা করে মূল্যায়ন করলে রাজনীতির অন্য বিষয় চাপা পড়ে যায়। নির্বাচনে ক্ষমতাসীনরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হতে দেবে কি না- এটিই এখন রাজনীতির প্রধান ইস্যু। অন্যদিকে কোন রাজনৈতিক কৌশলে বিরোধীপক্ষকে আরও দুর্বল করা যায়, তা হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের কাছে আরেকটি ইস্যু। এ দুটি বিষয় একবারে পরিষ্কার এবং এ নিয়ে রাজনীতিতে ছায়া বক্সিং চলছে। তিনি বলেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ দেশের অধিকাংশ দল নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। বৈধতার সংকট নিয়ে ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে গত পাঁচ বছর অতিমাত্রায় দমন-পীড়ন করেছে সরকার। আমরা নিরাপদ সড়ক ও কোটাবিরোধী আন্দোলন থেকে দমন-পীড়নের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছি। এছাড়া দুঃশাসন আর দুর্নীতি সরকারের ভাবমূর্তি আরও সংকটে ফেলেছে। ১৫৪ জন সংসদ সদস্য গতবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করার যে কৌশল নিয়েছিল সরকার এবার তা সম্ভব হবে না বলে মনে করি। ফের ৫ জানুয়ারির কৌশল নিলে সংকট বাড়বে। তিনি বলেন, বিএনপি বা বিরোধীপক্ষও এক ধরনের টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বিএনপি যে দাবি তুলেছে, তার মধ্যে নির্বাচন বয়কট করবে, কি করবে না- সে বিষয়ও রয়েছে। যেমন- বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিটি ধোঁয়াশার মতো। তিনি জানান, সংলাপের চমক অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। কারণ ক্ষমতায় থাকতে সরকার মরিয়া। তবে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ২০১৪ সালের মতো করে আর নির্বাচন আয়োজন করতে পারছে না।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সংলাপ থেকে যা প্রত্যাশা করা হয়, তা আমরা পাবো বলে মনে করি না। পরস্পরবিরোধী আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক বা গায়েবি মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। এটি একটি মাত্র আলোচনা। আরও অনেক বিষয় আছে। সুতরাং রাজনীতির অন্য প্রবণতাগুলোর কারণে সংলাপ তুলনামূলক গুরুত্বহীন হয়ে গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ