শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

লাখো মানুষের ভালোবাসায় চির নিন্দ্রায় শায়িত হলেন তরিকুল ইসলাম

গতকাল সোমবার নয়া পল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার ও যশোর অফিস : লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসার ফুল ও অশ্রুতে সিক্ত হয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, আপামর গণমানুষের নেতা তরিকুল ইসলাম। গতকাল সোমবার বাদ আছর যশোর ঈদগাহ ময়দানে চতুর্থ জানাযা শেষে কারবালা কবরস্থানে পিতা-মাতার কবরের পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। ঈদগাহ ময়দানের এই নামাজে জানাযায় যশোরের ইতিহাসের সর্বাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। ইতিহাসে এতবড় জনসভাও কোনো দিন হয়নি। ঈদগাহ মাঠ পেড়িয়ে পার্শ্ববর্তী দুই কোর্ট মাঠ, টাউনহল ময়দান, পোস্ট অফিস, কালেক্টরেট স্কুল মোড়, বার লাইব্রেরী মোড় থেকে সার্কিট হাউজ, জিলা স্কুল পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়। যতদূর পর্যন্ত মাইকের আওয়াজ পৌছেছে ততদূর পর্যন্ত মানুষ দাঁড়িয়ে জানাযা নামাজ আদায় করেছেন। এর আগে ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত নামাজে জানাযায়ও নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
উল্লেখ্য, রোববার বিকেলে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরিকুল ইসলামের মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণ¯্রাহী রেখে গেছেন। তরিকুল ইসলাম যশোর সদর থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে আসার আগে তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। যশোর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যানও ছিলেন তরিকুল ইসলাম।
জানাযার আগে তরিকুল ইসলামের কফিন বিএনপির দলীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। এরপর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস-চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। জানাযা নামাজের আগে মরহুমের পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে শান্তুনু ইসলাম সুমিত, ছোট ছেলে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সুমিত বলেন, আমার বাবা মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। কাজ করতে গিয়ে যদি কোনো ভুল বা কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকেন, আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আপনাদের কাছে আমি হাতজোড় করে বাবার জন্য ক্ষমা চাইছি। আমার বাবার কাছে কারও কোনো পাওনা থাকলে, জানালে আমরা শোধ করে দেব। আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।’ এ সময় তিনি আগামী বুধবার বাদ আসর যশোরের নিজ বাসভবনে দোয়া মাহফিলে সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান।
ছোট ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমার বাবা আপনাদের সমর্থনে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। চারবার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে আপনাদের কল্যাণে কাজ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করেছেন আমৃত্যু। আমিও যেন বাবার মতো আপনাদের পাশে থাকতে পারি, সে দোয়া করবেন।’ তিনি বলেন, ‘বাবা যদি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের কারণে কারও কোনো কষ্ট দিয়ে থাকেন, তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। আমার বাবা কখনো মানুষে মানুষে বিভেদ করেননি। সর্বস্তরের মানুষ বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন, সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকারের উপস্থিতিতে জানাযা হয়েছে। সেখানে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান অনিন্দ্য। তিনি আরও বলেন, আমার বাবা যখন অসুস্থ ছিলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সবাই আমার বাবার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন।
জানাযা নামাযের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, তরিকুল ইসলাম আমৃত্যু এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকায় উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। তিনি যশোর উন্নয়নের কারিগর। দলের নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
জানাযা শেষে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং যশোর জেলার বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তরিকুল ইসলামের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
জানাযায় লাখো মানুষ :  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের তৃতীয় ও শেষ নামাযে জানাযা হয়েছে। সোমবার বাদ আসর যশোর ঈদগা মাঠে এই জানাযা হয়। জানাযা নামাযে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রেণি-পেশার লাখো মানুষ অংশ নেন।
ঢাকা থেকে বিকেল ৩টার দিকে যশোর শহরের ঘোপের নিজ বাড়িতে নেয়া হয় তরিকুল ইসলামের মরদেহ। সেখান থেকে শহরের লালদিঘী পাড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেয়া হয়। এখানে তাকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর তরিকুল ইসলামের মরদেহ নেয়া হয় যশোর ঈদগাহ মাঠে। সেখানে লাখো জনতা তাদের প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় সবার চোখে-মুখে ছিল বিষাদের ছায়া। তৃতীয় জানাযা শেষে শহরের কারবালা কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে বর্ষীয়ান রাজনীতিক তরিকুল ইসলামকে দাফন করা হবে। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবন ও নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে তরিকুল ইসলামের দু’দফা জানাযা হয়েছে।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাবেরুল হক সাবু জানান, বৃহত্তর খুলনা বিভাগে বিএনপির অভিভাবক ছিলেন তরিকুল ইসলাম। তার মুত্যুতে জেলা বিএনপি তিন দিনের শোক পালন করছে। সোমবার সবাই কালো ব্যাচ ধারণ করেছে। আগামী দু’দিন দোয়া মাহফিল ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। হেলিকপ্টারে করে মরহুমের কফিন দুপুর সোয়া ২টায় যশোর বিমান বন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে বিশাল মটর শোভাযাত্রাসহ মরহুমের মরদেহবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি যশোর শহরের ঘোপ নোয়াপাড়া রোডের বাসভবনে পৌঁছে বেলা ২টা ৪০মিনিটে। সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মরহুম তরিকুলের কফিন ¯্রহন করেন বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড.আব্দুল মঈন খান ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এসময় যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবিরুল হক সাবু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং দল মত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে  সর্বস্তরের জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
পরে তা লাশবাহী কফিনটি নেয়া হয় যশোর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে। সেখানে কিছু সময় রাখার পর তাকে নেয়া হয় যশোর ঈদগাহ মাঠে। আসরের নামাজ শেষে বিকাল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় মরহুমের ৪র্থ দফা জানাযা।
জানাযার আগে বিএনপি চেয়ারপার্সনের পক্ষে মরহুমের কফিনে দলীয় পতাকা দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের প্রতি দলের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানান দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড.আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। এ সময় মরহুমের বড় ছেলে শান্তনু ইসলাম সুমিত, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, বিএনপি চেয়াপার্সনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, জেলা বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবিরুল হক সাবু প্রমুখ। এ ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য, আওয়ামীলীগ, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতার জানাযায় শরীক হন। তিন লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতে যশোর ঈদগাহ মাঠের এই জানাযায় ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আমান উল্লাহ কাসেমী।
জানাযা শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
ঢাকায় জানাযায় মানুষের ঢল: গতকাল শেষবারের ন্যায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিএনপি। সকাল ১০টায় নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার কফিনটি আনার পর দলীয় পতাকা দিয়ে আচছাদিত করে দেয়া হয়। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপি ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কফিনে পুস্পমাল্য অর্পন করেন। কিছুক্ষন নিরবে দাঁড়িয়ে তার ম্মৃতির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মহানগর বিএনপি, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, ড্যাব, এ্যাব, মৎস্যজীবী দল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়াত নেতার কফিনে পুস্পমাল্য অর্পন করা হয়।
এর আগে কার্যালয়ের সামনের সড়কে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ছাড়াও জানাযায় বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আমিনুল হক, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, জয়নাল আবেদীন, এজেএম জাহিদ হোসেন, আমানউল্লাহ আমান, ভিপি জয়নাল আবেদীন, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, আসাদুজ্জামান রিপন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সানাউল্লাহ  মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার,  মীর সরফত আলী সপু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুল ইসলাম আলিমসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের জনগন এই জানাযায় অংশ নেন।
২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভুইয়া, জামায়াত নেতা আমিনুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা আবদুস সালাম, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, জোট নেতা এম এ রকীব, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, আহসান হাবিব লিংকন, শামীম সাঈদী প্রমুখ জানাযায় অংশ নেন।  জানাযা শুরুর আগমুহুর্তে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ আকস্মিকভাবে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে দ্রুত তাকে কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মরহুম নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে দেশের এই সংকটমুহুর্তে তার চলে যাওয়াকে দল ও দেশের জন্য অপুরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম সারাটা জীবন রাজনীতি করেছেন দেশের জন্য, জনগনের জন্য, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার এই চলে যাওয়া দেশের জন্য এক অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। মরহুম এই নেতার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন বিএনপি মহাসচিব। তরিকুল ইসলামের মৃত্যুতে দলীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
নয়া পল্টনের জানাযা শেষে বেলা সোয়া ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি দলের প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, আওয়ামী লীগের সাংসদ শামসুল হক টুকু, কাজী নাভিল আহমেদ, বিএনপির নজরুল ইসলাম খান, এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, হাফিজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল মান্নান, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন আলম, এনামুল হক চৌধুরী, শাহজাদা মিয়া, ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিরাজউদ্দিন আহমেদ,মজিবুর রহমান সারোয়ার, নিজামউদ্দিন, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, আলমগীর কবির, নুর মোহাম্মদ খান, আক্তারুজ্জামান, জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, এলডিপির অলি আহমেদ, রেদোয়ান আহমেদ, আবদুল করিম আব্বাসী, আবদুল গনি, শাহাদাত হোসেন সেলিমসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।
পরে সংসদের পক্ষে সংসদের প্রধান হুইপ আসম ফিরোজ, বিরোধী দলের পক্ষে জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম  এবং বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে নজরুল ইসলাম খান, এলডিপির পক্ষে অলি আহমেদ মরহুমের কফিনে পুস্পমাল্য অর্পন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ