শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

গুম-খুনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে শেখ হাসিনা নিজেই সংবিধান মানেন না -দুদু

গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দির মুক্তি ও ৭ নবেম্বরের তাৎপর্য শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ৭ নবেম্বর দ্বিতীয় দফা সংলাপের পর দেশ কীভাবে এগোবে, তা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্ধারণ করবে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, শেখ হাসিনা সারা দিন সংবিধানের কথা বলেন, কিন্তু সংবিধানে উল্লেখ করা বাকস্বাধীনতা কোথায়? তিনি বলেন, আপনি তো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবিদার। সংবিধানের কথা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যতবার বলেন, অন্য কেউ এতবার বলে না। সংবিধানে আমার বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সভা-সমাবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, আপনি তো সেটা মানেন না।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দী নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ৭ই নবেম্বরের তাৎপর্য শীর্ষক এই গোল টেবিল আলোচনার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এম গিয়াস উদ্দিন খোকনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়–ুয়া, হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা , মোঃ শফিকুল ইসলাম (ভিপি ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. মোঃ কামাল হোসেন, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মোঃ শাকিল বাহাদুর প্রমুখ।
দুদু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দিন সংবিধানের কথা বলেন, কিন্তু সংবিধানে উল্লেখ করা বাক স্বাধীনতা কোথায় ? প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, আপনি তো গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাবিদার। সংবিধানের কথা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যতবার বলেন, অন্য কেউ এতবার বলে না। সংবিধানে আমার বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, লেখার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে, সভা-সমাবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে, আপনি তো সেটা মানেন না। ডিজিটাল নিরাপত্তা নামের যে আইন করেছেন, তা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আপনি তা পাস করিয়েছেন। তাহলে সংবিধান এখন কোথায়?
তিনি বলেন, আপনাদের (আওয়ামী লীগ) ভূমিকার ওপরে নির্ভর করছে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকবে কি-না। আন্দোলন এখনও শুরু হয় নাই। ৭ নবেম্বরের আলোচনার পর দেশ কীভাবে চলবে, তা নির্ধারণ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আর পরশু দিনের পর গণতন্ত্রে কীভাবে ফিরবো, তা আমরা নির্ধারণ করবো।
কারাবন্দীদের মুক্তি দাবি করে দুদু বলেন, স্বাধীনতার ঘোষকের পরিবারকে আজ আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিশ্চিহ্ন করার মহাপরিকল্পনা চলছে। সারা দেশে নব্বই হাজারের বেশি যে মামলা হয়েছে, তার আসামী প্রায় ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ, যারা জেলে রয়েছে তাদের মুক্তি দিন।
আসামীর কাঠগড়ায় শেখ হাসিনাকে দাঁড় করানো হবে, এমন হুমকি দিয়ে দুদু বলেন, ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলমসহ পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক নেতাকর্মী গুম অথবা নিখোঁজ। এখন আপনি যদি মনে করেন আপনার শাসনকালের পরে আর কোনও শাসনকাল নাই, সেটা ভুল করবেন। শাসনকাল যখন পরিবর্তন হবে, তখন তো আমরা আমাদের নেতাকর্মী যারা গুম ও খুন হয়েছে, তাদের ফেরত চাইবো। ফেরত যদি না দিতে পারেন, আসামীর কাঠগড়ায় আপনাকে দাঁড়াতে হবে। সরকারকে উদ্দেশ করে দুদু বলেন, সামনে ৭ তারিখ সংলাপে বসবেন। একদিন আপনাদেরও আমাদের সাথে বসতে হতে পারে। একদিন আপনাদেরও দাবি করা লাগতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা পাঁচ বছর ধরে আলোচনার কথা বলেছি কিন্তু আপনারা সব সময় তা অস্বীকার করেছেন। কেনো করবেন না সেটিও বলেছেন। কিন্তু ১ নবেম্বর করবেন না, করবেন না, যাবো, যাবো না করে করেছেন। ছাড়বো না, ছাড়বো না, বলছেন কাকে ছাড়বেন না? খালেদা জিয়াকে! ছাড়তে আপনাকে হবেই। কিভাবে ছাড়াতে হয় তা আপনি ভালো করেই জানেন।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের ওপর হামলার বিষয়ে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গ্রেফতার করেছেন যেটি জামিনযোগ্য মামলা, সেটি জামিন তো দেন নাই বরং তাকে রংপুরে নিয়ে আপনার কর্মী বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছেন। তার (ব্যারিস্টার মইনুল) ওপর বন্দী অবস্থায় আক্রমণ করা হয়েছে। এগুলো ভালো দৃষ্টান্ত না। এগুলো গণতান্ত্রিক শাসনের সঙ্গে যায় না। এগুলো স্বৈরশাসকের কাজ। আপনি নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করে  স্বৈরশাসকের কাজ করবেন, দুটি একসঙ্গে যায় না।
 শেখ হাসিনার উদ্দেশে দুদু আরও বলেন, আপানার পিতা শেখ মজিবুর রহমান গণতন্ত্রে সপক্ষে লড়াই করার জন্য এক সময় জেলে ছিলেন। তিনি তো সারা জীবন জেলে থাকেননি। জেল থেকে বেরিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাকশাল গঠন করার কারণে নিন্দিত হয়েছেন। তাহলে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচনে পরাজিত না করে মিথ্যা মামলায় তাকে কেন জেলে রাখবেন। আপনি কি তাকে ভয় পান। ভয় পেতেই পারেন কারণ আপনার শাসনকালে যে অপকর্ম ঘটছে সেটা আপনিও জানেন দেশবাসীও জানে, বিশ্ববাসীও জানে। আড়াল করার কিছু নাই।
তিনি বলেন, কবিরা জানে পঞ্চাশ বছর পর কি ঘটবে, আপনি কালকের কথাই জানেন না। সকাল জানলেও রাতে কি ঘটবে জানেন না। তাই বেগম জিয়া বলেছিলেন আপনাদের মাপ করে দিলাম। আপনি আগামী সময় থাকবেন কিনা, জেলে থাকবেন কিনা, ভালো থাকবেন কিনা তা নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার উপর।
দুদু বলেন, স্বাধীনতা ঘোষকের পরিবার আজ আওয়ামী লীগ শাসনকালে নিশ্চিহ্ন করার মহা-পরিকল্পনা চলছে। তিনি বলেন, সারাদেশে ৯০ হাজারের অধিক মামলা হয়েছে যার আসামী প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ। এ সময় আটক নেতাদের মুক্তি দাবি করেন তিনি। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন এখনও শুরু হয় নাই। ৭ নবেম্বরের আলোচনার পর দেশ কীভাবে চলবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সেটা নির্ধারণ করবে। গণতন্ত্র কীভাবে ফিরবে তা নির্ধারণ করবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ