শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : ঋণ জালিয়াতি ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু। সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গতকাল সোমবার বিকালে দুদক থেকে বেরিয়ে মিন্টু হাসিমুখে সাংবাদিকদের বলেন, দুদক তাকে যতবার ডাকবে ততবার তিনি যাবেন। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামছুল আলম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মিন্টু বলেন, “ওই অভিযোগের সাথে আমি অবশ্যই জড়িত না। এটা আমার জন্য নতুন কিছু না। দুদক আগেও তদন্ত করেছে, এখনও তদন্ত করছে, আমার পরিবারের সদস্যেদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে, তারাও এসেছে, আমরা আসতেই থাকব। কোনো অসুবিধা নেই।“যতবার ডাকা হবে ততবার আসব। আমি দুদকে আসতে কোনো সময় চাই নাই। কেন সময় চাইব। কী করছি যে আমাদের সময় চাইতে হবে?”
ব্যবসায়ী মিন্টুকে দুদকে তলব করে গত ৩১ অক্টোবর তার মাল্টিমোড গ্রুপের অ্যাংকর টাওয়ারের অফিসের ঠিকানায় নোটিস দেয় দুদক।
অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মিন্টু বলেন, “আমি নিজেই বিদেশ থেকে পাচার হয়ে বাংলাদেশে এসেছি। আমি এমন বাংলাদেশী যে ১২ বছর বিদেশে পড়াশোনা করে, চাকরি করে, ব্যবসা করে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে ফিরে এসেছি। আমার ছেলে, নাতি-নাতনী সব বাংলাদেশে, তাহলে কেন আমি বিদেশে অর্থ পাচার করব? এর কি কোনো যৌক্তিকতা আছে? কার জন্য আমি অর্থ পাচার করব? বিদেশে তো আমার কেউ নেই। আমার যা আছে সব বাংলাদেশ আছে।”
মিন্টুর বিরুদ্ধে ভুয়া অডিট রিপোর্ট তৈরি করে ঋণ নেওয়া, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সন্দেহজনক লেনদেন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে দুদকের হাতে।
মাল্টিমোডসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানির কর্তধার মিন্টু বলেন, “যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে, উনাদের কাছে অভিযোগ আসতেই পারে। যা সত্য, আমি সেই জবাবই দিয়েছি। “আমার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আছে, একটা হল ব্যাংক থেকে বেআইনিভাবে ঋণ নিয়েছি, সেটা তো বাংলাদেশ ব্যাংকে আছে, আমি নিয়েছি কি না? কোনো খেলাপি ঋণ আছে কি না, চাইলেই ব্যাংক থেকে বের করা যাবে।“উনারা (দুদক) বলতেছে, আমি সন্দেহজনক লেনদেন করেছি, সন্দেহজনক লেনদেন করে থাকলে এটার ব্যাংক স্টেটমেন্ট আছে। থাকলে তো ব্যাংক স্টেটমেন্টেই থাকবে। আমি তো আর নগদ লেনদেন করি না বা নগদ লেনদেনের ব্যবসা করি না।”
বিগত সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় অন্য অনেক রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর মতো মিন্টুও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
মিন্টু বলেন, “বাংলাদেশে এখন অনেক জিনিসেরই ভিত্তি থাকে না। তারপরও জিনিসের ভিত্তি হয়। কয়েকদিন আগে অনেক মামলা হয়েছে। পুলিশ মারার মামলা, বিস্ফোরক মামলা, কেউ কেউ গায়েবী মামলা বলে। বাংলাদেশে কোনটার ভিত্তি আছে আর কোনটার ভিত্তি নাই......এখন বাংলাদেশ সম্ভবনার একটি দেশ, সব সম্ভবের দেশে পরিণত হয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মিন্টু নব্বইয়ের দশকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়ে এখন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান।
এক প্রশ্নের জবাবে মিন্টু বলেন, “আমি রাজনীতিকে এখানে টানতে চাই না।” তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশে বহু জিনিস ওভারকাম করে এসেছি। আমি সরকারি দলে ছিলাম, বিরোধী দলে ছিলাম, এখন সরকার-বিরোধী কোনটাতে....কে কী বলে আমি তো জানি না। যেটা সত্য সেটাই প্রমাণিত হবে।”
কোনটা সত্য- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মিন্টু বলেন, “সত্যটা হল আমি হাসতেছি, দেখে আপনারা বুঝলেন না! আমি যে হাসি-খুশি আছি। তা তো আপনাদের বোঝা উচিৎ যে, আমি কোনো কিছুকে এখন কোনো কিছু মনে করি না।”
এর আগে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হলে সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক সামছুল আলম জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান।
প্রনব বলেন, ব্যবসায়ী মিন্টুকে দুদকে তলব করে গত ৩১ অক্টোবর তার মাল্টিমোড গ্রুপের অ্যাংকর টাওয়ারের অফিসের ঠিকানায় নোটিস দেয় দুদক। মিন্টুর বিরুদ্ধে ভুয়া অডিট রিপোর্ট তৈরি করে ঋণ নেওয়া, রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ, ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় সন্দেহজনক লেনদেন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে দুদকের হাতে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ