শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মন্ত্রীর এপিএসের নির্দেশে মামলা নেয়নি ডুমুরিয়া থানা পুলিশ!

খুলনা অফিস : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর এপিএসের নির্দেশে, ছাত্রলীগ নেতা ও দুই বৃদ্ধকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় মামলা নেয়নি ডুমুরিয়া থানা পুলিশ। দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় আতঙ্কে রয়েছেন আহতের পরিবারের সদস্যরা। এর আগে, শনিবার বিকেলে উপজেলার বামুন্দিয়া গ্রামে জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ৬৫ বছরের দুই বৃদ্ধসহ ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ’র এপিএস সমীর দে গোরা ডুমুরিয়া থানার ওসিকে ফোন করে মামলা নিতে নিষেধ করেন। এ ঘটনার পর থানা পুলিশও দুর্বৃত্তদের পক্ষ নিয়েছে। বর্তমানে আতঙ্কে রয়েছেন ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর এপিএস সমীর দে গোরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আফসার আলী শেখের (৬৫) সাথে প্রতিবেশী জলিল শেখ ও এমদাদুল শেখের জমি জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ চলছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও জলিল শেখ ও এমদাদুল শেখ তা মানেননি। সর্বশেষ উভয়পক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে গত শনিবার দুপুরে পুনরায় জমি মাপার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিকেলে জমি পরিমাপ শুরু হয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত জলিল শেখ ও এমদাদুল শেখের বিপক্ষে যাওয়ায় তারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মো. আফসার আলী শেখকে মারপিট শুরু করে প্রতিপক্ষরা। তাকে বাঁচাতে গেলে আফসার শেখের নাতি ও ছাত্রলীগ নেতা এস এম মাজেদুল ইসলাম ও ইন্তাজ শেখকেও বেধড়ক মারপিট করে। বৃদ্ধ আফসার আলী ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান এবং ইন্তাজ শেখের হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও গুরুতর আহত হয় মাজেদুল। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সন্ধ্যায় আফসার শেখের বড় ছেলে এস এম আনিসুজ্জামান অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি হাবিল হোসেন মামলা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। 

মামলা না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে ডুমুরিয়া থানার ওসি হাবিল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরাও অবগত রয়েছি। বিরোধ মেটাতে একাধিকবার বসাবসি হলেও কোন সমাধান হয়নি। শনিবারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের এপিএস সমীর দে গোরা আমাকে ফোন করে মামলা নিতে নিষেধ করেন। যে কারণে মামলা নেয়া হয়নি।’

এ ব্যাপারে মন্ত্রীর এপিএস সমীর দে গোরা বলেন, ওসিকে বলেছি দুইপক্ষকেই ডেকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, মামলা নিতে নিষেধ করার মতো দুঃসাহস সে পেল কোথা থেকে? আমি ওসি ও ইউএনওকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ