শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনাঞ্চলের বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর বাজারগুলো ডিমওয়ালা ইলিশে সয়লাব। প্রজনন মওসুম শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরও নগরীর বাজারগুলোতে মিলছে ডিমওয়ালা ইলিশ। শুধু পদ্মা নয় খুলনার নদীতেও ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। গতকাল সোমবার দিনভর ফরিদপুর চরভদ্রাশন উপজেলার জেলেরা পদ্মা নদীতে অন্তত ৭শ’ মণ ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের বরাত দিয়ে জানান উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা।

প্রজনন মওসুমের দীর্ঘ ২২ দিন ইলিশ শিকার বন্ধ রাখার পর গত ২৯ অক্টোবর থেকে পদ্মা নদীতে দিনরাত ইলিশ ধরার ধুমধাম মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে উপজেলার ৭২০টি জেলে পরিবার। মৎস্যজীবীরা আটককৃত ইলিশগুলো প্রতিদিন স্থানীয় হাট বাজারসহ পাঠাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। আর এসব বিক্রির জন্য আনা ইলিশের পেটভর্তি রয়েছে ডিম।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর চরভদ্রাশন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মালিক তানভির হোসেন জানান, গত ৩ বছর ধরে ইলিশের প্রজনন মওসুম হিসেবে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, ২২ দিন পরে আর ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়া যাবে না। এই সময়সীমার আগে এবং পরেও ডিমওয়ালা ইলিশ পাওয়া যায়। এটিই বাস্তবতা। প্রজনন মওসুমের সময়সীমা জাতীয় মৎস্য অধিদপ্তর নির্ধারণ করে থাকেন।

দিঘলিয়া উপজেলার চন্দ্রমহল এলাকার জেলে প্রশান্ত দাস জানান, রূপসা, আঠারোবাকি এবং ভৈরবেও ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে। আজ আমাদের নৌকায় ৯টি ইলিশ ধরা পড়েছে। যার প্রত্যেকটির পেটে ডিম ছিল।

নগরীর নতুন বাজার ওয়াপদা এলাকার জেলে মো. সুমন হাওলাদার জানান, সব নদীতে এবং বঙ্গোপসাগরেও জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। তার প্রায় সব ইলিশের পেটেই ডিম রয়েছে।

নগরীর টুটপাড়া এলাকার মো. ইমরান হোসেন জানান, ডিমছাড়া ইলিশ খুব কম মিলছে বাজারে। প্রায় সব মাছেই ডিম রয়েছে। গতকাল আমি ৬শ’ গ্রাম ওজনের তিনটি ইলিশ কিনেছি। যার প্রতিটিতে ডিম রয়েছে।

কেসিসি সান্ধ্য বাজার মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোজাফ্ফর হোসেন আশেক জানান, বাজারে আগত ইলিশের অধিকাংশই ডিমওয়ালা ইলিশ।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু ছাইদ জানান, তিন বছর আগে ইলিশের প্রজনন মওসুম ধরা হতো মাত্র ১৫ দিন। এখন সেটি বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়েছে। তবে সরকার অনেক গবেষণা করে এই ২২ দিন ধার্য করেছে। খুলনার অনেক নদীতেও ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে।

খুলনা বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক এইচএম বদরুজ্জামান জানান, সরকারিভাবে ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ এই সময়ের মধ্যে থাকে পূর্ণিমার গোন। তবে সরকারিভাবে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে। এ সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সেইসব গবেষণার ফলাফল উপযুক্ত বলে তিনি মনে করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ