শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

খুলনায় রোপা আমন চাষে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

খুলনা : হেমন্তে চারিদিকে সবুজের সমারোহ। ধান ক্ষেতে মনে হচ্ছে সবুজের মেলা বসেছে। যা চলতি মওসুমে আমনের বাম্পার ফলনেরই ইঙ্গিত করছে। ছবিটি রূপসা উপজেলার জাবুসা বিল থেকে তোলা

খুলনা অফিস : খুলনায় চলতি মওসুমে রোপা আমন চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমনের কাঙ্খিত ফলন পাবেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা। এমনই মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা। আর এ বছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় চাষও বেশি হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, চলতি মওসুমে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯০ হাজার ১৯২ হেক্টর। তবে অর্জিত হয়েছে ৯২ হাজার ৪২৫ হেক্টর। এর মধ্যে রূপসা উপজেলায় ৩ হাজার ২৮০ হেক্টরের বিপরীতে ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর, তেরখাদায় ৫২০ হেক্টরের বিপরীতে ৫৫০ হেক্টর, বটিয়াঘাটায় ১ হাজার ৬৪৮ হেক্টরের বিপরীতে ১ হাজার ৭৪০ হেক্টর, দিঘলিয়ায় ১ হাজার ৭৭০ হেক্টরে বিপরীতে ১ হাজার ৭৭০ হেক্টর, কয়রায় ১৫ হাজার ৫২৫ হেক্টরের বিপরীতে ১৫ হাজার ৭৭০ হেক্টর, পাইকগাছায় ১৭ হাজার ২০ হেক্টরের বিপরীতে ১৭ হাজার ১০০ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ১৫ হাজার ৯১২ হেক্টরের বিপরীতে ১৫ হাজার ৭০০ হেক্টর, দাকোপে ১৮ হাজার ৪০০ হেক্টরের বিপরীতে ১৮ হাজার ৯০০ হেক্টর, ফুলতলায় ১ হাজার ১৫ হেক্টরের বিপরীতে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর, খুলনা মেট্রোর দৌলতপুরে ৭০ হেক্টরের বিপরীতে ৭৫ হেক্টর ও লবণচরায় ২০০ হেক্টরের বিপরীতে ২০০ হেক্টর অর্জিত হয়েছে। গেল বছর ৯৩ হাজার ৬৬২ হেক্টরের বিপরীতে অর্জিত হয়েছিল ৯১ হাজার ৪২৫ হেক্টর। 

রূপসার চর রূপসা এলাকার বাসিন্দা কৃষক আরমান শেখ বলেন, তিনি এ বছর সাড়ে ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমনের আবাদ করতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৬ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ধান গাছে থোড় আসা অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় খবুই উপকার হয়েছে। যদি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে এ বছর বাগমারা-জাবুসা বিলে আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি। একই ভাবে বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. ওমর আলী শেখ বলেন, কয়েক দিন আগে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমনের ফলন ভালো আশা করা যাচ্ছে। বাগমারা-জাবুসা বিলে খোরশেদ আলম, নিয়াম শেখ, দিদারুল আলম, জেসমিন বেগম, মিন্টু গাজীসহ আরও অনেক চাষি রোপা আমন চাষ করেছেন। 

দিঘলিয়া উপজেলার দিঘলিয়া গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মো. জাহিদ মোড়ল বলেন, কিছু কিছু জমিতে রোপা আমনের ফলন ভালো হয়েছে। তার মতে এ বছর সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় এ উপজেলায় আমনের আবাদ তেমন ভালো হয়নি। তবে যারা সেচ পদ্ধতিতে আমন আবাদ করেছে তাদের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় ৪ বছর ধরে এ উপজেলার কৃষকরা সরকারিভাবে সার-বীজ পায় না। প্রায় দুই বছর আগে আমন মওসুমে তিন-চার জন কৃষক শুধুমাত্র বীজ পেয়েছে।  বটিয়াঘাটা উপজেলার সুরখালি গ্রামের বাসিন্দা কৃষক মাসুদ কাজী বলেন, কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় ধানের ফলন খুব ভালো আশা করা যাচ্ছে। একই ভাবে কল্যাণশ্রী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক নাসির সরদার বলেন, এ বছর আমন চাষে বাম্পার ফলন হতে পারে। একইভাবে বারাকপুর গ্রামের আ. মান্নান শেখ বলেন, গক বছরের চেয়ে এ বছর আমনের ফলন ভালো আশা করা যাচ্ছে। বুজবুনিয়া গ্রামের চাষি রফিক শেখ একই মন্তব্য করেছেন। তেরখাদা উপজেলা কৃষি অফিসার কাজী শাহানেওয়াজ বলেন, এবছর রোপা আমন মওসুমে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। সেহেতু রোপা আমনের ফলন তেমন ভালো হয়নি। তবে যারা সেচ ব্যবহার করেছে তাদের ফলন হয়েছে মোটামুটি।  কয়রা উপজেলা কৃষি অফিসার মিজান মাহমুদ বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবছর রোপা আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হওয়ার কারণে ধান গাছের উপকার হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের মধ্যে যথাসময়ে সার ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক তদরকির কারণে ফসল আরও ভালো হওয়ারে আশা করছি।  বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, থোড়মুখে বৃষ্টি হওয়ার কারণে এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  নগরীর দৌলতপুর থানার কৃষি অফিসার হোসনা ইয়াসমিন বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম। তবে কিছুদিন আগে বৃষ্টি হওয়ায় আমনের সুফল বয়ে আনবে বলে ধারণা করেছেন তিনি।  নগরীর লবণচরা থানা কৃষি অফিসার জেসমিন ফেরসৌস বলেন, সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমনের খুবই উপকার হয়েছে। তিনি বলেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলন হবে। 

ফুলতলা উপজেলা কৃষি অফিসার রিনা খাতুন বলেন, ইতোমধ্যে রোপা আমন কর্তন (কাটা) শুরু হয়েছে। তবে এ বছর পানি সমস্যার কারণে ফলন মোটামুটি হয়েছে। তবে যথাসময়ে বৃষ্টি হলে ফলন আরও ভালো হতো। 

কৃষি অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল লতিফ বলেন, চলতি মওসুমের শুরুতে রোপা আমন আবাদে পানি সমস্যা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি থোড় অবস্থায় বৃষ্টি হওয়ায় আমনের উপকার হয়েছে। আর এ কারণে আমনের বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যারা উঁচু জমিতে সেচ ব্যবস্থা করেছেন সেখানেও ভালো ফলন আশা করা যাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ