শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

ইরানের ওপর ‘কঠিনতম’ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের

৫ নবেম্বর, রয়টার্স : ছয় জাতি ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর আরোপিত যে সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সবগুলোই আবার পুনর্বহাল করেছে মার্কিন প্রশাসন।

গত সোমবার হতে কার্যকর হতে যাওয়া এসব নিষেধাজ্ঞা যে কোনো সময়ের চেয়ে ‘সবচেয়ে কঠোর’ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর প্রতিবাদে ইরানিরা মার্কিন ও ইসরাইলি পতাকায় আগুন দেয়।

এসব নিষেধাজ্ঞায় ইরান ও দেশটির সঙ্গে বাণিজ্যরত দেশগুলোকে লক্ষ্যস্থল করা হয়েছে। এতে ইরানের তেল রপ্তানি, শিপিং ও ব্যাংক ব্যবস্থাসহ অর্থনীতির সবগুলো প্রধান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।

এদিকে রোববার হাজার হাজার ইরানি বিভিন্ন শহরে মার্কিনবিরোধী সমাবেশ করেছে। সমাবেশে তারা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ বলে শ্লোগান দিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তুলে ধরতে গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার বিমান মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক প্রচারণা সমাবেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তার প্রশাসনের নেওয়া কৌশলের কারণে ইরান ইতোমধ্যেই চাপে পড়ে গেছে।

 “ইরানের নিষেধাজ্ঞাগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। আমাদের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলোর মধ্যে এগুলোই সবচেয়ে শক্তিশালী। ইরানের কী হয় তা আমরা দেখতে পাব, তবে তারা খুব ভাল কিছু করছে না এটি আমি বলতে পারি,” বলেছেন তিনি।

ইরানের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষের লাগাম টেনে ধরার জন্য ২০১৫ সালে করা এক চুক্তি থেকে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিয়েছেন ট্রাম্প। এরপর দেশটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল করছে ওয়াশিংটন।

ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা তেহরানের ‘ক্ষতিকর’ তৎপরতাগুলো বন্ধ করতে চায়; এসবের মধ্যে সাইবার হামলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ও মিলিশিয়াদের সমর্থন দেওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় আছে বলে জানিয়েছে।

গতকাল রোববার ফক্স নিউজকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, “ইরানি জনগণকে আমরা সমর্থন করছি এটি নিশ্চিত করতে যতেœর সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের ক্ষতিকর আচরণের পরিবর্তন নিশ্চিত করতেই আমাদের তৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে।”

“এটাই লক্ষ্য, এটাই উদ্দেশ্য। প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এটিই আমরা অর্জন করব,” বলেছেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ