সোমবার ০১ মার্চ ২০২১
Online Edition

আমগাছগুলোর কী দোষ?

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। বুদ্ধি, বিবেক, জ্ঞান দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহ। কিন্তু এ মানুষ যখন বিবেক হারিয়ে ফেলে, কোনও কারণে ঈর্ষান্বিত হয়, প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে পড়ে তখন আর শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা ধরে রাখতে পারে না। ইতর প্রাণির চেয়েও অধম হয়ে যায়। এমনই নিচতার পরিচয় দিয়েছেন উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জের একদল মানুষ। ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উপজেলার শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির কর্তৃপক্ষের ইজারা দেয়া জমিতে লাগানো ৭০০ আমগাছ কেটে ফেলবার অভিযোগে ৮ জনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করেছেন মন্দিরের পূজারি শ্রী কংসহস্ত দাস।
মন্দিরের পূজারি ও স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে ইত্তেফাকের পীরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের কানাড়ি গোসাইপাড়া গ্রামের জনৈক বলভদ্র রায় ২০০৪ সালে ৭৫০ একর জমি উল্লেখিত মন্দিরের নামে দান করেন। পরে আবার তিনি একই জমি তাঁর সন্তানদের নামেও লেখে দেন। ফলে মন্দির কমিটি ও বলভদ্রের ছেলে অসিতচন্দ্রের মধ্যে মামলা শুরু হয়। উল্লেখ্য, মামলাটি ঠাকুরগাঁও যুগ্ম জেলাজজ, অতিরিক্ত জেলাজজ এবং হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে গতবছর জুলাই মাসে মন্দির কর্তৃপক্ষ ৫ বিঘা জমি আসাদুল ইসলাম নামক এক ব্যক্তিকে ১৪ বছরের জন্য চুক্তিতে লিজ দেয়। আসাদুল ইসলাম ঐ জমিতে ৭০০ আমগাছ রোপণ করেন। গত ২৫ অক্টোবর রাতে মুখে কাপড়বাঁধা একদল লোক বাগানের সব আমগাছ কেটে ফেলে দেয়। এতে জমির লিজগ্রহীতা আসাদুলের ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মন্দিরের পূজারি শ্রী কংসহস্ত দাস বাদী হয়ে আমগাছ কাটবার জন্য দায়ী করে অসিতচন্দ্র রায়, উজ্জ্বলচন্দ্র রায়, বকুলচন্দ্র রায়, বিন্দুরাণী রায়, উজ্জ্বল হোসেন, মুহাম্মদ গেদা, ফরিদ ও তরিকুলের বিরুদ্ধে  মামলা করেন। তবে অসিতচন্দ্র জানান, জমি নিয়ে মন্দির কমিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন যাবৎ মামলা চলছে। এটা তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।
মন্দিরের এ বিশাল সম্পত্তির মালিকানা বা অন্যকিছু নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হতেই পারে। মামলা-মোকদ্দমা চলাও অস্বাভাবিক নয়। দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী এর বিচার-ফায়সালা হবে। কিন্তু ৭৫০ একর জমির মধ্যে মাত্র ৫ বিঘা জমি ন্যায্য দামে লিজ নেয়া লোকটি এবং তাঁর আমবাগানের নিরীহ গাছগুলোর অপরাধ কী তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমগাছ কেটে ফেলবার জন্য দায়ী যারাই হোক, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ