বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দৌলতপুরে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ॥ অস্ত্র গুলী ও মাদক উদ্ধার 

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ২ জন মাদক ব্যবসায়ী পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলী ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে পুলিশ। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাঁধের বাজার এলাকার মুসলিমনগর মাঠে এবং সদর উপজেলার কবুরহাটে পৃথক দু’টি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ জন নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি এরা মাদক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধের’ এ ঘটনা ঘটে। 

দৌলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ দারা খান জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার বাঁধের বাজার এলাকার মুসলিমনগর মাঠে দু’দল মাদক ব্যবসায়ী’র মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধের'’ খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য গুলী ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলী চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসাপতালে নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম মদন (৪৫)। সে প্রাগপুর ইউনিয়নের সীমান্ত সংলগ্ন জামালপুর গ্রামের রিফাজ উদ্দিনে ছেলে এবং সে দৌলতপুরের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দেড় ডজনেরও বেশী মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল ৩ রাউন্ড গুলী, ৯শ পিস ইয়াবা ও ৩০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ৩ সদস্য আহত হয়েছেন। 

অপরদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির উদ্দিন জানান, একইদিন দিবাগত রাত ২টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কবুরহাটের মাদরাসাপাড়া জিকে ক্যানেলের পাশে দুইদল মাদক ব্যবসায়ী গোলাগুলী করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলী চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলী চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাসী করে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ৩ রাউন্ড গুলী ও ৮শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই মোস্তাফিজসহ ৪ পুলিশ আহত হয়েছেন। পরে গতকাল বুধবার সকালে পরিবারের লোকজন হাসপাতালে গিয়ে শনাক্ত করেন নিহত মাদক ব্যবসায়ীর নাম আজম (২৫)। সে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শকুনতলা গ্রামের রফিকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহতদের লাশ মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

এদিকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত আজমের ছোট ভাই সবুজ স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন, মদন ও আজম মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে একই মোটরসাইকেল যোগে কেডিআই বিশ্ববাঁধ এলাকায় মাদক কেনা বেচার টাকা নিয়ে ফেরার পথে সেখান থেকে দৌলতপুর থানা পুলিশ তাদের তাদের আটক করে। পরে রাতে তাদের পৃথক স্থানে গুলী করে হত্যা করে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে চালায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ