বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

কিউমার্ট এমএলএম  কোম্পানি কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীতে এবার ইটিউব গ্লোবাল ডট নামে এক এমএলএম  কোম্পানি প্রায় হাজার হাজার গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রাহকরা আদালতে মামলাও করেছেন  কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে। তবে নাম সর্বস্ব এ  কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা প্রায় ২০ কোটি টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহক ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে খুলনায় কার্যক্রম শুরু করে ইটিউব গ্লোবাল ডট নামে একটি এমএলএম  কোম্পানি। এ প্রতিষ্ঠানের নামে কোন লাইসেন্স না থাকলেও লাইসেন্স নেয়া হয় কিউমার্ট নামে এক প্রতিষ্ঠানের। যার মূল মালিক সাতক্ষীরা জেলার ওবায়দুল্লাহ শাহিন। ইটিউব গ্লোবাল ডট  কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুর রহমান খুলনায় ব্যবসা শুরু করেন। খুলনায় মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে নগরীর লবণচরা থানার রফিকুল ইসলাম সুজন নামে এক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেন। নগরীর শিববাড়ি মোড়ের ইশরাক প্লাজায় একটি অফিসও নেন। সেখানে গ্রাহকদের নিয়ে মগজ ধোলাইয়ের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ১২শ’ টাকা দিয়ে ওয়েব সাইটে আইডি খুলে দেন। বেশী আয়ের জন্য উক্ত ব্যবসাকে ‘ই-কমার্স’ ব্যবসা উল্লেখ করে বিনিয়োগ করার জন্য গ্রাহকদের উৎসাহিত করেন। এখানে বিনিয়োগ করা হলে ৬ মাসে দ্বিগুণ অর্থ আয়ের সুযোগ রয়েছে বলে নানা প্রলোভন দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে গ্রাহকরা লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন। এভাবে গত ১০ মাসে খুলনা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আদায় করে নেয় এ চক্রটি। এরপর  কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রহমান গ্রাহকদের অর্থ দিতে গড়িমসি শুরু করেন। গ্রাহকরা এক পর্যায়ে অস্থির হয়ে আব্দুর রহমানকে চেপে ধরলে তিনি উক্ত অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অফিসে এসে হট্টগোল শুরু করেন। পরবর্তিতে মার্কেটিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুজন বাদি হয়ে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত ‘ঙ’ অঞ্চলে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। ওই মামলায় আব্দুর রহমান গত ২৩ তারিখ জামিন নিতে গেলে আদালত তাকে জেল হ্জাতে প্রেরণ করেন।

 কোম্পানির নামে প্রতারণার বিষয়ে ভূক্তভোগী গ্রাহক আকিদ, জাবেদ, জ্যোতি আব্দুল লতিফ, সুরাইয়া জাহান সুমি বলেন, ‘রহমান এবং ওবায়দুল্লাহ আগে ডেসটিনি করতেন। সেখান থেকে তারা নতুন নামে আরেকটি  কোম্পানি শুরু করে। আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে এসব টাকা নিয়েছে আব্দুর রহমান। সকলেই বুঝে না বুঝে এসব টাকা দিয়েছে। যখন বুঝতে পেরেছি এটা ভুয়া তখন আর কিছুই করার ছিল না। অবশেষে আদালতে মামলা করেছি’। এদিকে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই এমন সব এমএলএম  কোম্পানির নামে ব্যবসা শুরু করলেও কারও কোন মাথাব্যথা নেই।

এ ব্যাপারে ডিরেক্ট সেলিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যুগ্ম আহবায়ক মো. আজাদুল হক আজাদ বলেন, ‘যারা এ ধরনের প্রতারণা করছে আমরা স্ব-উদ্যোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিউমার্ট নামের এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার পর সংগঠনের উদ্যোগেই মামলা করানো হয়েছে। গ্রাহকদের টাকা ফিরিয়ে দিতেও সহযোগিতা করছি।’

এমএলএম নীতিমালার ১৫নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে-‘ এমএলএম পরিচালনায় পিরামিড সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা না করার বিধান থাকলেও সেভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করছে কিছু প্রতারক চক্র। সাধারণ মানুষও তাদের পাতা ফাঁদে পা দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ