বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২০
Online Edition

মাতাব্বরদের শালিস বাণিজ্যের শিকার প্রতিবন্ধী রোকসানা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বাড়িয়াছনি এলাকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবতী রোকসানা(২৪) স্থানীয় বখাটেদের হাতে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষিতা হয়ে একাধিকবার একই এলাকার মাতাব্বরদের শালিস বাণিজ্যের শিকার হয়েছেন।
শুধু তাই নয়, দরিদ্র হওয়ায় থানায় মামলা করতে না পেরে বারবার বখাটেদের খপ্পরে হয়রানীর শিকার হয়ে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ওই প্রতিবন্ধী।
 শ্লীলতাহানির শিকার রোকসানার ভাই  দুলাল মিয়া জানান, তারা ২ বোন ২ ভাইয়ের মধ্যে ছোট বোন রোকসানা (২৪) জন্মগতভাবে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি। অভাবের সংসারে ছোট ভাই বাবুল হোসেন রাজমিস্ত্রি ও তিনি শিক্ষকতা করে সংসার চালায়। তাই বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এছাড়াও তাদের পিতা মারা যাওয়ায় তাদের বৃদ্ধ মায়ের সাথেই বাড়িতে থাকেন রোকসানা। ছোটদের ন্যায় প্রতিদিন মাটি, ঘাস পাতা নিয়ে খেলা করে অবুঝ রোকসানা।  গত ২১ অক্টোবর বাড়ি ফাঁকা পেয়ে নিজবাড়ির গোসলখানায় রোকসানা গোসল করতে গেলে প্রতিবেশি আক্কেল আলীর বখাটে ছেলে ২ সন্তানের জনক সাজিদ(২৬) তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় রোকসানার চিৎকার করলে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে বখাটে সাজিদ পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে অভিযোগ তদন্তে দারোগা সোহরাব ঘটনাস্থলে গেলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। বরং স্থানীয় মাতাব্বর মসজিদ কমিটির সভাপতি ছোলমান , ইয়াদ আলীর ছেলে জুয়ারী মানিক ,তার সহযোগী গোলাপ হোসেন, সাইদুল, মারফত ও লিপি, খালেদাসহ একটি চক্র “২০ বছরেও বিচার পাবি না;  বলে  থানা থেকে ভয় দেখিয়ে এলাকায় মীমাংসার কথা বলে  ফেরৎ নিয়ে আসে। পরের দিন ২২ অক্টোবর রাতে ওই মাতাব্বরদের আয়োজনে শালিস বসে। কিন্তু ওই শালিসে তারা ৫০ হাজার জরিমানা করে। তা থেকে রোকসানাকে ৩০ হাজার টাকা রোকসানাকে দিবে বলে রায় দেয়। এ বিচার না মানায় একইদিন  রাতে থানায় রোকসানার ভাইদের নামে উল্টো অভিযোগ দায়ের করে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান,  রোকসানা বারবার স্থানীয় বখাটেদের লালসার শিকার হয়। এতে যে কোন সময় মেয়েটি ধর্ষিতা হতে পারে। হতে পারে অনাকাঙ্খিত গর্ভবতী।  এমনই এক ঘটনায় বিগত ৪ বছর পূর্বে একই এলাকার হামিদ মিয়ার বখাটে ছেলে মাসুদ মিয়া তাকে  ধর্ষণ করে। এটা জানাজানি হলে ওই গ্রাম্য মাতাব্বররা ওই সময় ১ লাখ টাকা রায় করে রোকসানার পরিবারকে ৬০হাজার টাকা দেয়। এভাবে বেশ কয়েকবার অবুঝ রোকসানা স্থানীয় বখাটেদের যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। বারবার শালিসানরা কমিশন নিয়েছে।
সূত্র জানায়, রোকসানার পরিবার গরীব থাকায় স্থানীয় মাতাব্বরদের শালিস বাণিজ্যের শিকার হয়। তাছাড়া জুয়ার বোর্ড পরিচালক মানিকের গ্রাম্য শালিসের রায় না মানলে ও নিজেই আসামী পক্ষের হয়ে মামলা করিয়ে হয়রানী করে থাকে।    তাই আইনের বিচার পেলে প্রতিবন্ধী মেয়েটি নিরাপত্তা পেত।
গ্রাম্য মাতাব্বর (জুয়ারী) মানিক আলী বলেন, আইনের বিচার ২০ বছরেও শেষ হয় না। তাই স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে দেই। চা পানির খরচ রাখা দোষের কিছু নয়।
 এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ