শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

তাড়াশে পাঁচ মাস ভূমি কর্মকর্তা নেই এলাকাবাসী সেবা থেকে বঞ্চিত

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিসে ৫ মাস নেই সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অ্যাসিল্যান্ড হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মকর্তা না থাকায় উপজেলার ৮ ইউনিয়নের ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা জনসাধারণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এদিকে নিজ পদ ছাড়াও নব-গঠিত তাড়াশ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদসহ ৩ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফেরদৌস ইসলামকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাবিব জিতু গত ১৭ মে বদলি জনিত কারণে ঢাকা যাওয়ার পর এ পদে নতুন কেউ এখনো যোগদান করেননি। ফলে ওই পদে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফেরদৌস ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।  তিনি নব-গঠিত তাড়াশ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করছেন।
গুরুত্বপূর্ণ তিন পদে এক ব্যাক্তির দায়িত্ব পালনে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
সরে জমিনে দেখা যায়, মূল দায়িত্বের সাথে অতিরিক্ত আরো দুইটি গুরুত্বপুর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পালনের কারণে ভূমি সেবায় স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ইউএনও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ভূমি অফিসে সময় দিতে নাপারায় বেশির ভাগ ফাইল পড়ে থাকে। ফলে ভূমি সেবা প্রার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোহিত গ্রামের সিদ্দিক হোসেন ও লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন খন্দকার জানান, তাদের মিস কেসের শুনানি না করে শুধু পরবর্তীতে শুনানির তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তাড়াশ সদরের নজরুল ইসলাম ও আব্দুল আজিজ জানান, জমি রেজিস্ট্রির জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা নামজারি করতে পারছেন না।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, অ্যাসিল্যান্ড না থাকায় উপজেলা ভূমি অফিসের নাম জারি, মিস কেস ওভিপি নবায়নসহ বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত কাজের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেশি সময় না দেওয়ায় বেশির ভাগ কেস নিস্পত্তি হয় না। তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিসের নামজারি সহকারী মো. আব্দুস সালাম বলেন, স্যার উপজেলার বিভিন্ন মিটিংসহ অন্যান্য কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি নিজেই কাগজপত্রাদি যাচাই করছেন এবং আগের মতো শুনানি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস,এম ফেরদৌস ইসলাম নিজেও ব্যস্ততার কারণে ভূমি অফিসের গুরত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ছাড়া এবং কেস নিস্পত্তি করতে পারছেন না বলে স্বীকার করছেন। তবে অ্যাসিল্যান্ড পদে কবে নতুন কর্মকর্তা পদায়ন হবে তা জানাতে পারেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ