শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০
Online Edition

তালা কলারোয়ায় জামায়াতের প্রার্থী মজলুম জননেতা ইজ্জত উল্লাহর পক্ষে জনমত

জননেতা ইজ্জত উল্লাহ

আবু সাইদ বিশ্বাস (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরা-১ তালা কলারোয়া আসনে জামায়াতের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থন বাড়ছে। গত ১০ বছরে ক্ষমতাসীন আ’লীগ সরকারের সময়ে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছে দলটির নেতা কর্মীরা। দলটির উপজেলা পর্যায়ের আমীর থেকে শুরু করে কর্মী, সমর্থক পর্যন্ত দফায় দফায় কারাবরণ করতে হয়েছে। আটক করা হয়েছে মহিলা জামায়াতের শতাধিক কর্মীকে। হত্যা করা হয়েছে জামায়াতের কমপক্ষে ১০ জন নেতাকর্মীকে। হাত ও পায়ে গুলী করে পঙ্গুত্ব বরণ করে আছে পাঁচ জন নেতা। কারাবরণ করেছে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী। উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ওসমান গণিকে চরম নির্যাতন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩০ এর অধিক রাজনৈতিক গায়েবী মামলা দায়ের করা হয়েছে। বার বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শওকাত হোসেনকে অমানুষিক নির্যাতন করে দফায় দফায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এমন অবস্থায় উপজেলার বিভিন্ন ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন বেড়েছে। অন্যদিকে তালা উপজেলাতেও জামায়াতের নেতাকর্মীরা চরম নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় দলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। আসনটিতে ওয়ার্কাসপার্টির কেন্দ্রীয় নেতা এড.মোস্তফা লুৎফুল্লাহ সংসদ সদস্য থাকায় আ’লীগের মধ্যে ব্যাপক দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার প্রচার করতে গিয়ে দলটির একাধিক নেতারা অন্য নেতাদের নামে বিষোদগার করছে। আসনটির দু’টি উপজেলাতেও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরীক বিএনপির মধ্যে অর্šÍকোন্দল রয়েছে। সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন হত্যা মামলায় তৎকালীন বিএনপির জেলা সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বর্তমানে কারাগারে। এছাড়া জেলা বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানকে প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দলে হত্যা করায় দলটি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।  এতে জেলাতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। এছাড়া দলটির জেলা কমিঠি নিয়ে প্রকাশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে পদ বঞ্চিতরা।
এমতাবস্থায় জনগণের সমর্থন ও দলীয় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে জামায়াত ইসলামী। আসনটি থেকে আগামী নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয়  সাংগঠনিক সেক্রেটারী ও নির্বাচন পরিচালনা কমিঠির সদস্য সচিব মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ। দল মনোনয়ন দিলে তিনি আসনটি থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী।
মো: ইজ্জত উল্লাহ সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ২ নং জালালাবাদ ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামের ইউসুফ আলী সানার ছেলে। ৯ ভাই ৫ বোনের মধ্যে তিনি ২য়।
তিনি কলারোয়া বামনখালী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে ৫ম শ্রেণি, জি কে এম কে পাইলট হাইস্কুল হতে বিজ্ঞান বিভাগে এস এস সি , যশোর সরকারি এম এম কলেজ হতে এইচ এস সি, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে বি এসসি ও ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় হতে ফলিত গণিত বিভাগে এম এসসি পাশ করেন।
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত নেতারা জানান, তার অক্লান্ত চেষ্টা ও প্ররিশ্রমে জেলাতে একসাথে জামায়াতের ৪ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। 
দলটির নেতাকর্মীরা জানান, সাতক্ষীরায় ইসলামী আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় জনাব মো: ইজ্জত উল্লাহর অবদান অপ্রতুল। মরহুম কাজী শামসুর রহমানের দিক নির্দেশনায় মো: ইজ্জত উল্লাহ তার সাথীদের নিয়ে গোটা সাতক্ষীরায় ছুটে বেড়িয়েছেন। ১৯৮৫ সাল হতে ১৯৯০ সালের মে মাস পর্যন্ত ৫ বছর তিনি জেলা সেক্রেটারী এবং ১৯৯০ হতে ২০০২ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১২ বছর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই দীর্ঘ দায়িত্ব পালনকালে ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামী ৫ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৪ টি আসনে জয় লাভ করে এবং উপজেলা নির্বাচনে ৪ টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়ে সব কটিতে জয় লাভ করে। ২০০১ সালে পাঁচটির মধ্যে ৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে সবকটিতে বিজয়ী হয়। সাতক্ষীরার ইসলামী আন্দোলনের স্থপতি মরহুম কাজী শামসুর রহমান এম পি ইসলামী আন্দোলনের যে বীজ সাতক্ষীরায় বপন করে চারা উৎপাদন করেন। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে দলটির নেতা-কর্মীদের কাছে পরিচিত।
সূত্র জানায় ১৯৯১ সালের ১৬ মে পর্যন্ত তিনি সাতক্ষীরা জামায়াতের জেলা সেক্রেটারী ছিলেন। ১৯৯৬-২০০০ সাল পর্যন্ত আওয়ামী বিরোধী চার দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান নেতা হিসাবে সাতক্ষীরায় তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন।
২০০২ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সেই সাথে পর্যায়ক্রমে খুলনা, মোমেনশাহী বিভাগীয় অঞ্চলের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বরিশাল বিভাগীয় অঞ্চলের পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি এবং ২০১৭ সাল হতে তিনি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজ সেবায় তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। জনাব ইজ্জত উল্লাহ রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য। দারুল ইসলাম ট্রাস্ট-ঢাকার সেক্রেটারী হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাতক্ষীরা সিটি কলেজের মূল ভবনের তৃতীয় তলা এবং কম্পিউটার ল্যাব ও ল্যাবের জন্য ১০ টি কম্পিউটারের ব্যবস্থা করেন। বামনখালী বাজার মসজিদের বিল্ডিং, আগরদাড়ি মাদ্রাসার মসজিদ ও পাটকেলঘাটা আলিয়া মাদ্রাসা মসজিদ নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। জেলা আমীর থাকাকালীন সময়ে কলারোয়া সোনার বাংলা কলেজ, সোনাবাড়ীয়া দাখিল মাদ্রাসা, কলারোয়া প্রি-ক্যাডেট স্কুল, পাটকেলঘাটা খাতুনে জান্নাত মহিলা মাদ্রাসা, আল ফারুক একাডেমি স্কুল, আল ফারুক একাডেমি মসজিদ ও তালায় আল আমিন একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও কলারোয়া-তালা-পাটকেলঘাটা এবং সাতক্ষীরা জেলার বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদের বিল্ডিং ও অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। তিনি বিভিন্ন এলাকায় ওযুখানা ও বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপের ব্যবস্থা করেছেন। গরীব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পুর্নবাসনের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় তাদের মাঝে গরু-ছাগল, ভ্যান এবং সেলাই মেশিন বিতরণ করেছেন। বিভিন্ন সাহায্যসেবী সংস্থার মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে  তিনি ত্রাণ বিতরণসহ পূর্নবাসনের জন্য অস্থায়ী এবং স্থায়ী ঘর নির্মাণ ও কপোতাক্ষ নদের তীরে গৃহহারা বহু লোকের জন্য টিনশেডের ঘর তৈরী করে দিয়েছেন। সাতক্ষীরার মানুষ যখন আধুনিক চিকিৎসা সেবা হতে বঞ্চিত ছিলো, তখন তিনি সাতক্ষীরা  ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজো চিকিৎসা সেবায় সাতক্ষীরার মানুষের আস্থার প্রতীক। 
২০০০ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় মানুষের জন্য মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ সামগ্রী বিতরণ করেন। দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফরিদপুর জেলায় সাংগঠনিক সফরে থাকা অবস্থায় প্রথমবার গ্রেফতার হন। ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মগবাজার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় হতে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুনরায় গ্রেফতার হন।
২০১৭ সালে যশোর জেলায় সাংগঠনিক সফরে থাকা অবস্থায় ঝিকরগাছা হতে তিনি আবারো গ্রেফতার হন। এছাড়া ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে তার স্ত্রী ও ছেলে ঢাকা হতে গ্রেফতার হন। এমন মাজলুম নেতার প্রতি সাতক্ষীরাবাসির জনসমর্থন ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ