শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

ফটিকছড়িতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছেন কৃষক

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) : ফটিকছড়িতে চলিত মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছেন কৃষক। ভাল ফলন হওয়ায় এমনটি আশা বুক বাঁধছেন তারা। উপজেলায় চাষের মাঠ জুড়ে আমনের হলুদ-সবুজের সমাহার। বেশির ভাগ জায়গাতে আমনের শীষ এসে গেছে,কিছু কিছু স্থানে আমন ধান পাকতেও শুরু করেছে।  ফলে সেসব এলাকাতে আগামী ২০-২৫ দিনের মধ্যে কৃষকরা আমন ধান ঘরে তুলতে পারবেন। তবে যারা একটু দেরিতে ধান লাগিয়েছেন তাদের কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। চাষীরা জমিতে বেশি ফলনের আশায় শেষ প্রস্তুতি সেরে নিতে দেখা গেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলিত বছর ফটিকছড়ি উপজেলায় আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমি। অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৯শ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্জিত হয়েছে সাড়ে ৩শ হেক্টর জমি। গত বছর (২০১৭) তে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১ হাজার ৪৯৫ হেক্টর জমি। সে বছর অর্জিত হয়েছিল ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে ৫৫ হেক্টর জমি। ২০১৭'তে চালের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৪৯২ মেট্রিক টন। অর্জিত হয়েছিল ৬২ হাজার ৫৯৩ মেট্রিক টন চাল। লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ৩ হাজার ১০১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন বেশি হয়েছিল। চলতি (২০১৮)’তে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৯ হাজার ৬শ মেট্রিক টন চাল। চলিত বছর হেক্টর প্রতি ফলন লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ক্ষেত্রে ২.৭৮ মেট্রিক টন (চাল), স্থানীয় জাতের ক্ষেত্রে ১.৫০ মেট্রিক টন (চাল)। চলতি বছর চাষকৃত ধানের মধ্যে রয়েছে- বিআর ১০, বিআর ১১, বিআর ২২, বিআর ২৫, ব্রি ধান ৩০, ব্রি ধান ৩১, ব্রি ধান ৩২, ব্রি ধান ৩৯, ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, ব্রি ধান ৪৯ (সর্বোচ্চ আবাদ), ব্রি ধান ৫১, ব্রি ধান ৫২, ব্রি ধান ৭১, ব্রি ধান ৬২ (জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাত), পাজাম, ¯বর্ণা, অন্যান্য (দিনাজপুরী, বেন¤Ÿার), চাক্কল, গিউস, বিন্নী, কালিজিরা ও বালাম ইত্যাদি। এ বছর আবহাওয়া ভালো, কৃষি বিভাগের সার্বিক নজরদারি, পরামর্শের কারণে রোগ ও পোকা- মাকড়ের আক্রমণ এখনো পর্যন্ত কম বলে জানা গেছে। ফলে আমনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফটিকছড়ির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফটিকছড়িতে আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে।
নাজিরহাট পৌরসভার পূর্বফরহাদাবাদ গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ হারুন জানিয়েছেন- আমনের ফলন অনেক ভাল হয়েছে। কাঞ্চননগরের এখলাস উদ্দিন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, সময়মত কীটনাশক ব্যবহার ও রোগ বালাই দমন করতে পেরেছি বলে আমার ফলন অনেক ভাল হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি আমন উৎপাদনে অনেক ভাল হবে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ধান ঘরে তুলত পারব। উপজেলা কৃষি অফিসার লিটন কুমার দেবনাথ জানান, এ বছর বিভিন্ন প্রকল্প হতে ৭০ জন কৃষককে উপজেলা কৃষি অফিস সহতে বিনামূল্যে সার ও উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছে।
আবহাওয়া কৃষকের অনুকূলে ছিল এবং কৃষি বিভাগের সার্বিক নজরদারি ও পরামর্শের কারণে রোগ ও পোকা- মাকড়ের আক্রমণ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত কম। এ রকম আবহাওয়া বিরাজ করলে এ বছর আমনের ফলন ভাল হবে এবং কৃষকগণ লাভবান হবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ