শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ফেরাউন নয় জয়নব আল গাজালীর দেশ মিসর

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : ২০০৫ সালে লিখেছিলাম ‘শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ নারী জয়নব আল গাজালী আমাদের প্রেরণার উৎস।’ লেখাটি সাপ্তাহিক সোনার বাংলায় ছাপা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর আবার সে মহিয়সী নারী সম্পর্কে লিখতে ইচ্ছে হলো। আগের লেখাটির সময় ঈমানের বলে বলিয়ান এ নারী ছিলেন জীবিত আর এখন তিনি জান্নাতের ফুল বাগিচায় বিচরণকারী এক নারী নেত্রী। এতো কনফিডেন্স নিয়ে জান্নাতবাসিনী বলছি কেন? মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কালামে পাকে বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের তোমরা মৃত বলো না। বরং তারা জীবিত, তোমরা তা বুঝতে পারছনা।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আরো বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো, হয় তোমরা শহীদ হবে না হয় গাজী হবে’। আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এ নারী নেত্রী যুদ্ধের ময়দানে শাহাদাত বরণ করেননি ঠিক, তবে গাজী হয়েছেন এবং শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেছেন। দীর্ঘদিন পরে আবার এ নারী সম্পর্কে লিখতে ইচ্ছে হলো এ জন্য যে, ২৭ এপ্রিল ২০১৮ গাজীপুর মহানগরী জামায়াতের সম্মানিত আমীর প্রখ্যাত আলেম, গবেষক ও চিন্তাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা এসএম সানাহ উল্লাহ’সহ ৪৫ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার হন। আমিও সে বহরের একজন দুর্বল কর্মী ছিলাম। জীবনে জেলহাজত তো দূরের কথা, কোনো মামলার আসামী, বিবাদী তো নয়ই, কোনো মামলার সাক্ষীও হতে হয়নি। হঠাৎ ডিবি অফিস থানা গারদ কোর্ট গারদ ও রিমান্ডের সাথে পরিচিত হয়ে যখন কাশিমপুর জেলের সেলে বসবাস শুরু করি তখন বার বার মনে পড়েছে, এ সাহসী নেত্রী জয়নব আল গাজালীর কথা। যখনই কোনো কষ্টের মধ্যে পড়তাম অর্থাৎ পানি, প্রচ- গরম বা খাদ্যের কোনো কষ্ট তখনই মনে পড়ে যেত এ মহান নেত্রীর কথা। তিনি যে কষ্ট করেছেন, তার বর্ণনা শুনলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে যাবে। মানুষ কিভাবে মানুষকে এতো কষ্ট দিতে পারে? তা আবার কেবলই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে, একমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। জয়নব আল গাজালী তার নিজের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে যে জেল কাহিনী লিখেছেন সে বইটির নাম ‘কারাগারে রাত দিন।’ সেখানে মর্মস্পর্শী বর্ণনার কিঞ্চিত তুলে ধরলাম।’ ‘আমাকে মিসরের মহিলা বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়ার প্রস্তাব করলে আমি মুখের ওপর বলে দেই, জালিম শাসকের মন্ত্রী হওয়ার চেয়ে জেলের নির্যাতন সহ্য করাই আমার নিকট অনেক ভালো। তখন আমাকে পা উপরে দিয়ে মাথা নিচে দিয়ে পেটানোর প্রস্তুতি নিলো। তখন আমি কেবল পর্দার কথা চিন্তা করে তাদের নিকট একটি ফুলপ্যান্ট চাই। অন্যদিন সারারাত আমাকে কতগুলো কুকুরের সাথে থাকতে দেয়া হয়। কুকুরগুলো সারারাত আমাকে কামড়িয়েছে। আমি যতটা না ব্যথায় কাতর ছিলাম, তার চেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম সকালে মানুষের সামনে আমার পর্দার খেলাপ হবে, কারণ কুকুরগুলো আমার কাপড় ছিঁড়ে তছনছ করে ফেলেছে। সকালে কুকুরের রুম থেকে আমাকে বাইরে আনার পর সবাই তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল। তারা দেখছে আমার কাপড় ছেঁড়াতো নেই-ই, বরং আমার শরীরে কুকুরের কামড়ের কোন চিহ্ন নেই; অথচ কুকুরগুলো আমাকে কামড়িয়েছে। এতসব কঠিন যন্ত্রণা সবই ভুলে গিয়েছি, কারণ একদিন রাতে স্বপ্নে দেখি পাহাড়ের উপরে কয়েকজন লোক নিয়ে জনাব হাসান তুরাবী কথা বলছেন। এরই মধ্যে আল্লাহর নবী (সা.) হেঁটে এসে বলছেন, ‘তুরাবী, জয়নব আল গাজালীকে আমার সালাম পৌঁছে দিও।’ আমি এ স্বপ্ন দেখার পর জালিমের সকল নির্যাতনকে তুচ্ছ মনে করলাম, স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাকে সালাম দিয়েছেন। আমি আর কি চাই। এমন একটি ঘটনা রয়েছে ফিরাউনের স্ত্রী আছিয়ার জীবনেও। আছিয়াকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ‘এত নির্যাতন সহ্য করেন কিভাবে?’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘যখনই আমি নির্যাতনে বেহুশ হয়ে যাই, তখনই আল্লাহ্্ আমার চোখের সামনে জান্নাত তুলে ধরেন, তখন আমি সব ব্যথা ভুলে যাই। নির্যাতনের কথা আর মনে থাকে না।’ জয়নব আল গাজালীর একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছিল ইনকিলাব পত্রিকায়। সেখানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ‘এত নির্যাতন সহ্য করলেন কিভাবে।’ তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘সবই সম্ভব, চাই কেবল দৃঢ় প্রত্যয়ের ঈমান।’ মিসরের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা ছিনতাই করে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ড. মুরসিকে কারাগারে বন্দী করে হাজার হাজার নেতাকর্মীর ফাঁসি কার্যকর করছে। যে মুরসি এ জয়নব আল গাজালীদের আন্দোলনের ফসল। গত কদিন আগে এক বন্ধু বলেছিলেন, ‘মিসরের নির্বাচিত সরকারের হাত থেকে ক্ষমতা নিয়ে নিলো এর কিছু হলো না।’ আমি তাকে বলেছিলাম, জাতি সাপকে যদি কেউ দৌড়ানি দিয়ে গর্তে ঢুকিয়ে দেয়, এরপর আর কেউ নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে না। কখন যে সাপে ছোবল মারে। অতএব মিসরের নব্য ফেরাউনরা যতই মনে করুক, তারা ক্ষমতা হস্তগত করেছে। এটা সাময়িক বিষয় মাত্র। শাসক গোষ্ঠীর যখন পায়ের তলায় মাটি থাকে না তখন তারা ম্যাকিয়াভেলীর সূত্র প্রয়োগ করে। ম্যাকিয়াভেলীর মতে, শাসক হবে ‘সিংহের মত হিংস্র আর শিয়ালের মত চালাক।’ যেটা বর্তমানে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেও দেখা যাচ্ছে। ওইসব শাসক গোষ্ঠীর যে গর্জন আছে, বর্ষণ নেই তা তারা ভালো করেই জানে। এটা এখন সাধারণ জনগণও বুঝে ফেলেছে, তাই ওসব শাসক গোষ্ঠী বড়ই বেকায়দায় রয়েছে। তারা কেমন সাহসী তা একটা উদাহরণ দিলেই বুঝা যাবে। পৃথিবীতে এমন এক প্রকার সাপের সন্ধান পাওয়া গেছে, যে সাপ কোন মানুষ দেখলেই দূর থেকে বিষ নিক্ষেপ করে। এর কারণ হলো, এ সাপ এতটাই ভীতু যে, তারা নিজে বাঁচার জন্য অন্যকে মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ করে। এটা অন্যকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে নয় বরং নিজে বাঁচার জন্য। মিসরের নব্য ফেরাউন জামাল নাসেরের একটি ঘটনা তুলে ধরছি। মিসরের ইখওয়ানুল মুসলেমীনের শীর্ষ নেতা সাইয়্যেদ কুতুব (রা.) কে মামলায় জড়ানোর জন্য যে ছোটলোকের মত নাটক করে তাহলো, ‘জামাল নাসের একটি জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন, এমন সময় একজন পুলিশ তার দিকে গুলি ছুঁড়ে। গুলি তার গায়ে তো লাগেইনি বরং কাছেও যায়নি। সাথে সাথে তাকে (পুলিশকে) সবাই ধরে ফেলে। সে সময় জামাল নাসের বলে উঠল ‘দেখো তার পকেটে ইখওয়ানের কোন কাগজপত্র পাওয়া যায় কিনা? সবাই পকেট চেক করে চিৎকার দিয়ে বলে উঠলো, হ্যাঁ স্যার তার পকেটে ইখওয়ানের সদস্য হওয়ার ফরম পাওয়া গেছে।’ শিকার আর যায় কোথায়? বলা হলো ইখওয়ানের লোকেরা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে। আর এ মামলায় হুকুমের আসামী হলেন সাইয়্যেদ কুতুব (র.) এবং সে মামলায়ই তার ফাঁসি হয়। আমাদের দেশ বাংলাদেশের বর্তমান সরকার নাকি একটি টিম পাঠিয়েছিল মিসরে। তারা কিভাবে ইসলামপন্থীদের সাইজ করে ক্ষমতায় টিকে আছে সেটা দেখার জন্য। ওই টিম যে রিপোর্ট দিয়েছে তার অন্যতম হলো ইখওয়ানের সরকার টিকতে পারেনি। কারণ দেশের রাজধানী তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আর বর্তমান হাইজ্যাকার সরকার রাজধানীকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরকে কিভাবে আজগুবি মামলায় জড়ানো যায় সে অভিজ্ঞতাও নিয়ে আসা হয়েছে। সে শিক্ষা কাজে লাগানো হয়েছে শতভাগ। আমাদের বর্তমান সরকার রাজধানী এমনভাবে কব্জায় রেখেছে যে, সারাদেশ অচল হয়ে গেলেও জনগণ মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছে, দেশ খুব সুন্দরভাবে চলছে। অন্যদিকে দেশের ভিন্নমতের রাজনীতিবিদদের আজগুবি মামলায় জড়িয়ে বিচার করা। দেশের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নাকি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন। এসব বানোয়াট মামলার জন্য বৃদ্ধ বয়সে কারাভোগ করছেন বিশ্বনন্দিত এ আলেম। এ মামলায় গ্রেফতার করে পরে মীমাংসিত ইস্যু যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছে বিশ্ব রাজনীতিবিদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। সে জন্য আমরা যেমন বলতে পারি না নিজামী সাঈদী বাংলার জমিন থেকে হারিয়ে গেছে বরং বড় আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলতে পারি, এদেশের মাটি আর মানুষের সাথে মিশে আছে নিজামী সাঈদী। একইভাবে বলতে হয়, ফেরাউন নয়, জয়নব আল গাজালীর দেশ মিসর। আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত ঈমানের বলে বলিয়ান নারী জয়নব আল গাজালী বলেন, ‘আমার ইজ্জত নষ্ট করার জন্য সুদর্শন এক যুবক সেনা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে ছেলেটি যখন আমার রুমে প্রবেশ করলো তখন আমার মহান রবের নিকট প্রার্থনা করলাম হে আমার রব তুমি আমাকে আরো যত ইচ্ছে কষ্ট দিয়ে পরীক্ষা করো তাতে আমার কোন আপত্তি নেই কেবল আমার সম্ভ্রম হানি করো না, আমার সম্ভ্রম রক্ষা করো। এক পর্যায় দেখা গেলো ছেলেটি আমার কাছাকাছি আসছে। যখন আমার কাছে চলে এসেছে তখন ভাবলাম আমার মনে হয় আর রক্ষা হলো না, কারণ ছেলেটি তার দায়িত্ব পালন না করলে তাকে কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হতে হবে। কিন্তু মহান আল্লাহ তার এ বান্দিকে রক্ষা করেছেন। ছেলেটি আমার কাছে এসে বললো “খালাম্মা আমি জানি আপনার সাথে খারাপ আচরণ না করলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে তুবও আমি আপনার সাথে খারাপ আচরণ করবো না।” আমি বললাম “বাপ তুই আমার বাপ।” এভাবে মহান আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন।” মহান রাব্বুল আ’লামীন যথার্থই বলেছেন “আল্লাহ যাকে সম্মান দান করে পৃথিবীর কেউ তাকে অসম্মান করতে পারে না। আর আল্লাহ কাউকে লাঞ্ছিত করলে পৃথিবী কেউ তাকে রক্ষা করতে পারে না।” বর্তমান দুনিয়ার কিছু কিছু শাসক নিজেকে সর্বময় ক্ষমতাশালী মনে করে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরও ক্ষমতা হস্তান্তর করে না।
ইরানের বিপ্লবী নেতা ইমাম খোমেনী নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন কিন্তু রেজাশাহ পাহলবী তাকে ক্ষমতা দেননি। তখন তিনি দেশ ছেড়ে ফ্রান্সে চলে যান এবং বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার ঘোষণা দেন। কিছুদিন পর সাংবাদিকগণ তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, “আপনার বিপ্লবের খবর কি? তিনি উত্তরে বলেছিলেন, “আমার বিপ্লবীরা মায়ের বুকের দুধ খায়।” এর ২৫ বছর পর ইরানের বিপ্লব সফল হয়। দূরদর্শী নেতা বুঝতে পেরেছিলেন একটি বিপ্লবী গ্রুপ তৈরি না করে এসব লোক দিয়ে বিপ্লব হবে না। মিশরের শাহেরা মনে করছেন নির্বাচিত একটি সরকারকে উৎখাত করে আজীবন ক্ষমতায় থাকবে। না সম্ভব নয়। পৃথিবীতে কোন জালেম স্থায়ীভাবে টিকে থাকতে পারে না। আলজেরিয়ায় নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে যারা ক্ষমতা দখল করেছে তারাও কি স্থায়ীভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকবে? তাও সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ তায়ালার বিচার এমন হওয়ার নয়। সংগত কারণেই বলতে হয় নবী মুসা (আ.) কে নির্যাতন করে ক্ষমতার বাহাদুরী করেছিলো যে ফেরাউন তাকে চরম অপমান করে নীল নদের মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছেন যে আল্লাহ। যে আল্লাহ নবী মুসা (আ.) কে করেছেন দুনিয়াব্যাপি সম্মানিত সে আল্লাহ বর্তমান ফেরাউনদের চরম শিক্ষা দিয়ে জয়নব আল গাজালীর অনুসারীদের ক্ষমতা দিবেন এবং দুনিয়ার মানুষের নিকট মহা সম্মানে ভুষিত করবেন তাতেও সন্দেহ নেই। জয়নব আল গাজারী কেবল একজন ব্যক্তি নন তিনি বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের এক সাহসী নেত্রী, যার পদাংক অনুসরণ করে আজ বিশ্বের দেশে দেশে নারী মুক্তি আন্দোলন বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ অভিশাপের জীবন পরিহার করে চিৎকার করে বলছে নারীদের সম্মান রক্ষার একমাত্র প্লাটফরম ইসলাম। তাই নারী আন্দোলনকে ভয় পেয়ে বাংলার শাসক গোষ্ঠী খাওয়া দাওয়া আর ঘুম থেকে বিরত থাকছে। পর্দানশীল নারী সমাজকে আজ বিনা কারণে ছলছুতোয় গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার কুঠরীতে বন্দী করে স্বামী সন্তান থেকে দূরে রাখছে আর এরি মধ্যে দিয়ে সরকার ইসলামী আন্দোলকে থামিয়ে দিতে চায় অথচ এ আন্দোলন আরো প্রবল গতিতে এগিয়ে চলেছে। জয়নব আল গাজালীর অসংখ্য উত্তরসুরী তৈরি হয়েছে বলেই বরেণ্য বুদ্ধিজীবি আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় শুনার পর তার স্ত্রী ভি চিহ্ন দেখিয়ে মহিয়সী নারীর মতো বলেছিলেন আমরাই বিজয়ী। আর বিশ্ব নন্দিত অর্থনীতিবীদ মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় শুনার পর স্ত্রী খোন্দকার আয়শা খাতুন বলেছিলেন, “সফল মীর কাসেম আলী যিনি সারা জীবন শহীদ হওয়ার আকাক্সক্ষা করেছেন। এসব নারীদের ঈমানের বলিষ্ঠতা দেখে কেবল জয়নব আল গাজালীর উত্তরসুরীই মনে হয় না ওই মহিলা সাহাবীর কথা মনে পড়ে যায়, ওহুদ যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর আহত হওয়ার খবর শুনে যিনি দৌড়ে যান রাসূল (সা.) কে দেখতে পথিমধ্যে একজন জিজ্ঞেস করলো দৌড়াচ্ছেন কেন ওই বীর নারী বললেন আল্লাহর রাসূল (সা.) কেমন আছেন তা দেখতে। পুরুষ লোকটি বললেন তোমার স্বামী ও ছেলে শহীদ হয়েছে। আল্লাহর প্রিয় বান্দি বললেন স্বামী কিংবা ছেলের শহীদ হওয়ার কথা জানতে চাইনি আল্লাহর রাসূল (সা.) কেমন আছে তা বলো। ওই নারী আল্লাহর রাসূলের কাছে গিয়ে শান্তভাবে বসলেন এবং বললেন “হে আল্লাহর রাসূল (সা.) স্বামী শহীদ হয়েছে ছেলে শহীদ হয়েছে সব ব্যথা ভুলে গিয়েছি আপনি সুস্থ আছেন তা দেখে।” অতএব কি মিশর কি বাংলাদেশ আজ হাজারো নারী তৈরি হয়েছে স্বামী সন্তানের চেয়ে আল্লাহ তার রাসূল ও ইসলামী আন্দোলকে ভালোবেসে। এ কারণেই আজ বাংলাদেশে শত শত নারী ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করার দরুণ জেলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হয় ইরানী বিপ্লবের পূর্বে হাজার হাজার নারী যখন রাস্তায় মিছিল করছিলো সে সময় আল্লাহর দুশমন রেজা শাহ পাহলবীর আজ্ঞাবহ সৈনিকেরা নারীদের মিছিলে গুলী চালায় নারীরা সে গুলীকে বরণ করে ফুল ছিটিয়ে দিয়ে। বেশ কিছু নারী শহীদ হয়ে যাওয়ার পর বিবেকবান সেনাবাহিনী গুলী করা বন্ধ করে দেয়, তারা সরকারকে বলে দেয় এসব নিরীহ জনগণের উপর আমরা গুলী চালাতে পারবো না। তখনই রেজাশাহের পতন হয় এবং ইরানে বিপ্লব সফর হয়। বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শাসনে কেবল সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর করে জনগণের উপর নির্যাতন চালায়। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। এ অবস্থা চিরদিন থাকবে না। একটি প্রবন্ধে পড়েছিলাম “কুইনাইনে জ্বর সারাবে কুইনাইন সারাবে কে।” আমরা তাই জানতে চাই সেনাবাহিনীর উপর নির্ভর করে যে শাসক গোষ্ঠী ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায় এ সেনাবাহিনীর বিবেক যখন নাড়া দিবে তখন সে এ ঘৃণ্য শাসকগোষ্ঠীর দিকেই বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিবে তখন তাদের রক্ষা করবে কে? অতএব বাতাস সব সময় এক দিকেই প্রবাহিত হয় না। হাওয়া যেমন পরিবর্তন হয় তেমনি শাসকগোষ্ঠীও চিরদিন স্থায়ী হয় না। শাসক গোষ্ঠীর পরিবর্তন হয়ে এক সময়ের শাসক যেমন অন্য সময় আসামীর কাঠগড়ায় তেমনি এক সময়ের চক্রান্তকারী জামাল নাসের এবং বর্তমানে তার উত্তরসুরীরা এক সময় ক্ষমতা হারাবেন এবং আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াবে আর শহীদ হাসান আল বান্না, সাইয়েদ কুতুব আবদুল কাদের আওদাহ (রা.) দের হাতে গড়া নারী নেত্রী জয়নব আল গাজালীর অবর্ণনীয় কষ্টের ফলে মিশরে অবশ্যই ফেরাউনদের অনুসারীদের পতন হয়ে জয়নব আল গাজালীর অনুসারীদের হাতে ক্ষমতা আসবে তখনই বলা হবে ফেরাউনের নয় জয়নব আল গাজালীর দেশ মিশর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ