শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মানুষের সমাজে কেন এই ঘটনা?

জনপদে মানুষ বাস করে, আর জনপদের মানুষরাই গঠন করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রেও বাস করে মানুষই। মানুষ মানুষের বন্ধু হবে, সুখ-দুঃখের অংশীদার হবে, মানবিক আচরণ করবে -এটাইতো স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমান সভ্যতায় এই স্বাভাবিক আচরণ রাষ্ট্রসমূহে কতটা হচ্ছে? জাতির নামে, ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, রাজনীতির নামে একেক রাষ্ট্রে একেক ছলনায় দুর্বলদের জীবনযাপন অসম্ভব করে তুলেছে ক্ষমতাবানরা। তাই প্রশ্ন জাগে, এমন নিকৃষ্ট ও অমানবিক ব্যবস্থার জন্যই কি মানুষ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করেছে? বর্তমান বাস্তবতায় এসব ব্যবস্থা না থাকলে কি মানব সভ্যতা কিংবা মানব জাতির তেমন কোন ক্ষতি হবে? জানি, এমন প্রশ্নে সৃষ্টি হবে আরো বহু প্রশ্ন। কিন্তু প্রশ্নটি সৃষ্টি হওয়ার মতো বাস্তবতা কি নেই? আর অনাকাক্সিক্ষত সেই বাস্তবতা পরিশোধনে কিংবা দূরীকরণে সভ্যতার শাসকরা, রাষ্ট্র পরিচালকরা ন্যায়ের চেতনায় যৌক্তিক ভূমিকা পালন করছেন না কেন? শাসকদের হৃদয়টা কি পুরোপুরি কালো হয়ে গেছে?
বিভিন্ন রাষ্ট্রে শাসকদের, ক্ষমতাসীনদের মনোজগতের ভাবনা চেতনায় রূপ নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই চেতনা মানুষের জীবনযাপনকে প্রভাবিত করে। বর্তমান সময়ে অশুভ চেতনার দৌরাত্ম্যই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই আমাদের দৃষ্টির সীমানায় ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে। ২৭ অক্টোবর এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতের রাজধানী দিল্লীতে আসিম নামে ৮ বছরের এক মাদরাসা ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় যুবকরা। দক্ষিণ দিল্লীর মালভিয়া নগর এলাকার দারুল উলূম ফরিদিয়া মাদরাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মাদরাসার কয়েকজন শিশু-কিশোর মিলে মাঠে খেলা করছিল। তখন স্থানীয় কয়েকজন যুবক এসে তাদের ওপর হামলা করে। সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, হামলার শিকার ছাত্ররা মাদরাসার ভেতরে দৌড়ে চলে যায়। তবে ৮ বছরের আসিম হামলাকারীদের হাতে আটকা পড়ে যায়। ওদের নির্মম হামলায় শিশুটি নিহত হয়।
মাদাসার শিক্ষক আলী জোহর জানান, আসিম হিফজ বিভাগে পড়তো এবং সে খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। তাদের মাদরাসা ও মসজিদ মিলে যে জায়গাটি রয়েছে সেটি স্থানীয় কিছু লোক দখলের জন্য বহু দিন ধরে পাঁয়তারা করে আসছে। মাঝে মাঝে কিছু লোক মাদরাসা প্রাঙ্গণে এসে জুয়া খেলে। কখনো মদের বোতল ছুঁড়ে মারে। প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এমন চিত্রে উপলব্ধি করা যায় কারা কেন মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আর হামলা তো ক্ষমতাবানরাই চালায়। তাদের কারা কেন ইন্ধন দেয় তাও তেমন অস্পষ্ট কোন বিষয় নয়। তাই আবারও সেই প্রশ্নটি করতে হয়, এভাবে নিহত হওয়ার জন্যই কি মানুষ সমাজবদ্ধ হয়, রাষ্ট্র গঠন করে। উক্ত ঘটনায় দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তো প্রথাগতভাবে তার দায়িত্ব পালন করেছেন, কিন্তু অর্থ দিয়ে কি জীবনের ক্ষতিপূরণ করা যায়, অসভ্য ও অমানবিক চেতনার সংস্কার করা যায়? মানুষ তার এই দৈন্য ঘুচাবে কেমন করে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ