বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

ইভিএম বাতিলে রাজশাহী ইসি’কে বিএনপি’র স্মারকলিপি প্রদান

রাজশাহী : গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামকে স্মারকলিপি দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দ -সংগ্রাম

রাজশাহী অফিস : সংসদ নির্বাচনে ইভিএম বাতিলের দাবিতে রাজশাহী নির্বাচন কমিশনকে স্মারকলিপি দিয়েছে রাজশাহী মহানগর বিএনপি। গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলামের হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেন।
এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রত্যাখ্যানকৃত ইভিএম ব্যবহারের প্রতিবাদ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক গায়েবী মামলায় বিরোধী  দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ এবং বিগত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চরম বিতর্কিত ভূমিকা পালনকারী ভোট ডাকাতি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কারিগর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পূর্বে রাজশাহী থেকে প্রত্যাহারের দাবি করা হয়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র উপদেষ্টা, সাবেক মেয়র ও এমপি মিজানুর রহমান মিনু, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন প্রমুখ।
স্মারকিলিপিতে উলেখ করা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- দেশের সর্ববৃহৎ জনপ্রিয় এবং একাধিকবার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ রাজনৈতিক দল। আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবে রাজশাহী মহানগর বিএনপি সরকারি নিপীড়ন ও পুলিশী অপতৎপরতায় সকল প্রকার সাংগঠনিক রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার অধিকার থেকে বঞ্চিত। ইতিমধ্যে গত ২৭ অক্টোবর ২০১৮ তারিখ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজশাহীতে ইভিএম প্রদর্শনী আয়োজনে আমরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ হয়েছি। পূর্বে ব্যবহৃত বিশ্বের বহু উন্নত দেশে ইতিমধ্যে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেছে। গত ৩০ জুলাই রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে রাজশাহীর ভোলানাথ একাডেমি ভোট সেন্টারে ১১টি বুথেই ইভিএম মেশিনে ভোট দেওয়ার সময় ৩টা বুথের ইভিএম মেশিন বেলা ১২টার মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায় এবং পরে পুনরায় তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ইভিএম মেশিন বিদ্যুৎ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিদ্যুৎ না থাকলে প্রজেক্টর চালু থাকে না বিধায় রিডিংগুলি দেখতে না পাওয়ায় পোলিং এজেন্টদের জন্য দায়িত্ব পালন করা কষ্টসাধ্য। তারা উল্লেখ করেন, একজনের ভোট আরেকজন দিয়েছে, কোথাও ইভিএম বাদ দিয়ে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়েছিল। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ভোট কেন্দ্রে ভোটদানকালে ইভিএম মেশিন অকার্যকর হয়ে যায়, যা নির্বাচনের দিন আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তীতে আরেকদিন ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে হয়েছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইভিএম দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সন্ধ্যা ৬.০০ টার বেশী বেজে যায়। অর্থাৎ ইভিএম কর্তৃক ভোট গ্রহণে নির্বাচন কমিশন উল্লিখিত স্বচ্ছতায়, ত্রুটিমুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য ভোট গ্রহণ এবং ভোটগণনা দ্রুত সম্পন্ন করার ঘোষণা এসব কারণেই আস্থার সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ইভিএম ব্যবহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে। একইসাথে উল্লেখ্য যে, কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপি’র পক্ষ থেকে ইভিএম ব্যবহারে কি কি কারিগরি জটিলতা এবং ত্রুটি ভোট গ্রহণে অস্বচ্ছতা ও পক্ষপাতিত্ব সৃষ্টি করতে পারে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে। এত অনাস্থা এবং আপত্তি স্বত্ত্বেও ইভিএম কে এত গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশনের নানা, উদ্যোগ ও ইভিএম প্রদর্শনী মেলার আয়োজনে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একইসাথে গায়েবী মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামী থাকার সুযোগে যে কাউকে হয়রানি ও গ্রেফতার বাণিজ্য চালিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বাড়ীছাড়া ও এলাকাছাড়া করা হচ্ছে। নগরীর কোথাও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের একত্রিত হওয়া তো দূরের কথা তাদের স্বাভাবিক ব্যক্তিগত নাগরিক জীবন সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত। এমতাবস্থায় সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিবেশ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোদস্তর ব্যাহত হচ্ছে। এটি সরকারের বিরোধী দলকে সম্পূর্ণ কোনঠাসা বা লাপাত্তা করে একতরফা নির্বাচনের ষড়যন্ত্রকে বাস্তাবায়নের নীলনকশায় নির্বাচন কমিশন এর দূরুহ অবস্থা অবসানে অতি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, নিরপেক্ষ, অর্থবহ নির্বাচনের জনআকাঙ্খা বাস্তবায়ন সম্ভবপর হবে না।
এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিতর্কিত ইভিএম মেশিন ব্যবহার বন্ধ, অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, বিগত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট ডাকাতি, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং- এ সহায়তাকারী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিতর্কিত সদস্যদের অপসারণ, গণ গ্রেফতার ও ভীতি মুক্ত বাধাহীন পরিবেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের দাবীতে গতকাল শনিবার মহানগর বিএনপি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। মালোপাড়া বিএনপি কার্যালয়ে বেলা ১২টায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি মিজানুর রহামন মিনু। মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল হক মিলন ও তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, বর্তমান সংসদ বাতিল, সরকারের পদত্যাগ, সকল দলের অংশগ্রহণের আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন, ভোটের পূর্বে ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়ন, ইভিএম ব্যবস্থা থেকে সরে আসা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ- আমন্ত্রণ, সকল রাজবন্দীদের মুক্তি, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত তাদের প্রশাসনিক হয়রানি থেকে মুক্ত রাখা, নিরাপত্তা প্রদান, গ্রেফতার তল্লাশির নামে হয়রানি বন্ধ, নতুন ও পুরাতন সকল রাজনৈতিক মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা- সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে এবং সহনশীল শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবি করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ