শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা পুনর্বহাল দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন, উম্যান উইথ ডিজএবিলিটি ডেভেলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সমুন্নত করা ও তাঁদের সামগ্রিক জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাওয়া সংগঠনগুলোর উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে গতকাল রোববার ১১ টায় সরকারের ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন এর আয়োজন করে।
সাংবাদিক সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন উম্যান উইথ ডিজএবিলিটি ডেভেলাপমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নযরানা ইয়াসমিন হিরা, সমন্বয়কারী, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সভাপতিত্ব ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এমডি জাহাঙ্গীর আলম, থিমেটিক এক্সপার্ট, সিডিডি।
সাংবাদিক সম্মেলনে তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ৫৫ শতাংশ কোটা সংস্কার করে যৌক্তিক হারে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ৪ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে সকল প্রকার কোটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা বাতিল করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হতে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু, ঢালাওভাবে পুরো কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে গিয়ে সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ এর  নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কোটা ও বয়স শিথিলের বিষয়টি বিবেচনায় রাখেননি। এমনকি, এই সংক্রান্ত কোন দিকনির্দেশনাও জারিকৃত পরিপত্রে নেই। এমনতাবস্থায়, বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষ দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সমান অংশীদার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং সরকারি চাকরি প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য বাড়বে।
 জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১২ জানুয়ারী, ২০১২ সালে প্রজ্ঞাপন নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.০৭.০৫৭.১১-১৫ বিডি শাখা ১ হতে প্রকাশিত বিসিএস ক্যাডার সার্ভিস এবং অন্যান্য ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে শর্তসাপেক্ষে শূন্য কোটায় ১% কোটা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির চাকরিতে ১০ % এতিম ও প্রতিবন্ধী কোটা চালু আছে। তা স্বত্ত্বেও প্রতিবন্ধী মানুষেরা চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বহুমুখী বৈষম্যের শিকার হয়। ৩২ তম বিসিএস সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় বৈষম্যের শিকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, আইন সালিস কেন্দ্র সহ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মরত সংগঠন সমুহের সহযোগিতায় আদলতে রীট দায়ের করে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ সনদ ২০০৬, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ ও এর বিধি ২০১৫ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা ২০৩০কে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি বিশেষ করে নিয়োগের ক্ষেত্রে বৈষম্য কমানোর জন্য সাংবাদিক সম্মেলনে উদাত্য আহ্বান জানান। প্রতিবন্ধী মানুষেরা কাজের অধিকার নিয়ে যথোপযুক্ত ও সম্মানজনক কর্মে নিয়োজিত থেকে দেশ জাতির সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার মাধ্যমে সোনার বাংলাদেশ গড়ার সমান অংশীদার হিসেবে থাকতে চাই।
 সেজন্য সংগঠন সমূহের পক্ষ হতে প্রতিবন্ধী মানুষের পক্ষে নি¤œলিখিত দাবিসমূহ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর দাবিসমূহ: ১. ১ম ও ২য় শ্রেণীর চাকুরিতে ৫% কোটা শর্তহীন ভাবে সংরক্ষন করা। ৫% কোটাকে প্রতিবন্ধিতার ধরণ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া। ২. ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কোটার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫% কোটা সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণ করা। ৩.সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সমূহে ৫% কোটা সংরক্ষণ করা। ৪. নিয়োগের প্রক্রিয়ায় কোটা পূরণে নারী ও পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা। ৫. প্রতিবন্ধী নারী সহ সকল ধরণের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ