বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

২৮ অক্টোবরের শোককে শক্তিতে পরিণত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে -মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া

গতকাল রোববার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবুজবাগ থানা, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বর্বরোচিত ঘটনার শহীদদের স্মরণে কুরআনখানি ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেছেন, ২৮শে অক্টোবরে আওয়ামী পৈশাচিকতা ও নারকীয় হত্যাকান্ড জাতির সকল অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ঢাকার রাজপথে সাপের মত মানুষ পিটিয়ে হত্যা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি ছিল দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে সাংবিধানিক ও আইনের শাসনের পরিবর্তে দেশকে ফ্যাসীবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যই লগি-বৈঠা দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে নারকীয় তান্ডব চালায়। বিশ্ব ইতিহাসের নির্মম, নিষ্ঠুর ও  পৈশাচিক ঘটনার দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় পার হলেও এখনো অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ক্ষমতার দাপটে সরকার মামলা প্রত্যাহার করে খুনিদের পুরস্কৃত করেছে। যা সংবিধান, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পরিপন্থি। মানবিক মূল্যবোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য ঘাতকদের বিচারের কোন বিকল্প নেই। তিনি ২৮ অক্টোবরের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন, আহত-পগুত্ববরণকারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং শহীদদের মাগফিরাত কামনায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
গতকাল রোববার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সবুজবাগ দক্ষিণ থানার উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সবুজবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আবু মাহির সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামছুর রহমান, কামাল হোসেন,শহীদ মাসুমের গর্বিত পিতা মাহতাব উদ্দিন, শহীদ শিপনের গর্বিত পিতা তাজুল ইসলাম, সবুজবাগ দক্ষিণ থানার সেক্রেটারি রাশেদুল হাসান রানা প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় আমরা দু:খে ভারাক্রান্ত ঠিকই কিন্তু হতাশ নই। রক্তাক্ত ২৮ আমাদের ভীত করে না বরং প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নিতে শপথবদ্ধ করে। চিহ্নিত খুনিদের রক্ষা করতে সরকার ক্ষমতার দাপটে মামলা প্রত্যাহার করেছে। কিন্তু এ সকল অপকৌশলে নিরপরাধ সন্তান হারানো মায়েদের বুকফাটা আর্তনাদ ব্যর্থ হবে না, রক্তের দাগ মুছে যাবে না। সময়ের পরিবর্তনে খুনি ও নিদের্শদাতাদের অবশ্যই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। প্রতিটি খুন, গুম ও অবিচারের হিসাব আদায় করা হবে। বাংলার জমিনে কুরআনের আলোকে সমাজ বিনির্মাণ করে শহীদদের প্রতিফোটা রক্তের বদলা চূড়ান্তভাবে নেয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরোও বলেন, শাসক দলের হাতে এখন জনগণের জানমাল, দেশ ও গণতন্ত্র কোনটাই নিরাপদ নয়। সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে রীতিমত প্রহসনে পরিণত করেছে। তারা বিরোধী দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্যই সারাদেশে হাজার হাজার গায়েবী মামলা দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে ময়দান ছাড়া করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মূলত সরকারের অপরাজনীতির কারণেই দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কিন্তু জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন স্বৈরাচারি ও ফ্যাসীবাদী শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর কারো হবেও না। তাই ২৮ অক্টোবরের হত্যাকান্ডে শুধু শোকাহত হলেই চলবে না বরং শোককে শক্তিকে পরিণত করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
এছাড়াও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের বিভিন্ন থানার উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
খিলগাঁও পশ্চিম থানা: খিলগাঁও পশ্চিম থানার উদ্যোগে স্থানীয় মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর এস এম জুয়েলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাইদ, আরোও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আলী ভুট্টো, জামায়াত নেতা সরওয়ার আলম।
শ্যামপুর থানা: শ্যামপুর থানার উদ্যোগে স্থানীয় মিলনায়তনে সকাল ৯টা ৩০মি এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা সেক্রেটারি মোঃ জসিম উদ্দীনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য আব্দুস সবুর ফকির বলেন, ২৮ অক্টোবরের নির্মম ও পৈশাচিক হত্যাকান্ড বিশ্বের সকল নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়েছে। তিনি টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে ২৮ অক্টোবরের খুনীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় আওয়ামী লীগকে একদিন ইতিহাসের আস্তকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। অনুষ্ঠানে আরোও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য ইমরুল কায়েছ, শাহীন আহমদ খান প্রমুখ।
মতিঝিল থানা: মতিঝিল থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও মতিঝিল থানা আমীর কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে ও থানা সেক্রেটারী মুতাসিম বিল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য ও ওয়ার্ড সভাপতিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে থানা আমীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া পরিচালনা করেন।
খিলগাঁও পূর্ব থানা: খিলগাঁও পূর্ব থানার উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল স্থানীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর আব্দুর রহমান সাজুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য শামছুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য সালেহ আহমদ। আরোও উপস্থিত ছিলেন থানা সেক্রেটারি আশরাফুল আলম ইমন, জামায়াত নেতা শেখ মোহাম্মদ, এডভোকেট বাবুল হোসেন, এম আর জামান, এম কে আলম মজুমদার, এম এইচ উদ্দিন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
কদমতলী থানা পূর্ব: কদমতলী থানা পূর্বের উদ্যোগে স্থানীয় একটি হলরুমে পল্টন ট্রাজেডি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য ও কদমতলী পূর্ব থানার আমীর মাওলানা আমিরুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি আতিকুর রহমান ও থানা অর্থ সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন থানার শুরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য ও ওয়ার্ড দায়িত্বশীলবৃন্দ।
হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা: হাজারীবাগ দক্ষিণ থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মজলিশে শুরা সদস্য ও হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমীর আবু জারিফ। আরও উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য এ, এইচ মৃধা, এ,এইচ, খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।
যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানা: যাত্রাবাড়ী পশ্চিম থানার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। থানা আমীর আবু এনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যাত্রাবাড়ী জোন টিম সদস্য আবু ফতেহ। থানা সেক্রেটারি মাওলানা সাদক বিল্লাহর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন থানা শুরা সদস্য সিদ্দিকুর রহমান। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ কায়েমের মাধ্যমে শহীদদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য ব্যাপক গণসংযোগ ও দাওয়াতের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার আহবান জানান। দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা এবং শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহর নিকট দোয়া করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ