বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Online Edition

এ দিনটির অপেক্ষাতেই ছিলাম

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরে দল পেলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০১৩ সালে বিপিএলে ফিক্সিং করে নিষিদ্ধ হন মোহাম্মদ আশরাফুল। ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে চলতি বছরের আগস্টে পুরোপুরি মুক্তি পেয়েছেন তিনি। এবারের আসরে অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে দলে ভিড়িয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। ১৮ লাখ টাকায় তাকে দলে নিয়েছে দলটি। এবারের ড্রাফটে আশরাফুল ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন। দুপুর ১২টায় ড্রাফট শুরু হয়। এরপর সপ্তম কলে চিটাগং ভাইকিংস তাকে কিনে নেয়। যদিও আরো এক বছর আগেই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেয়েছিলেন আশরাফুল। তবে আন্তর্জাতিক এবং ফ্রাঞ্জাইজি ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ খেলছেন আশরাফুল। এরই প্রতিদান পেলেন বিপিএলে। এর সঙ্গে জাতীয় দলে ফেরার সব দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেল তার সামনে। বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগে ২০১৩ সালের জুন মাস থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হন আশরাফুল। তাকে তিন বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞাসহ মোট ৮ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আপিলের পর সেই শাস্তি কমে হয় ২ বছরের স্থগিতসহ ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা। তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালের আগস্টে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন আশরাফুল। তবে স্থগিত নিষেধাজ্ঞার সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি। সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে গত ১৩ আগস্ট মুক্তি পান। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর বিসিবির হাইপারফরম্যান্স দলের হয়ে খেলেছেন আশরাফুল। বর্তমানে খেলছেন ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগে। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক না হলেও বিপিএলে তার ওপর আস্থা রাখল চিটাগং। এর আগে বিপিএলে ২৪ ইনিংসে ৬১৬ রান করেছেন আশরাফুল। সর্বোচ্চ রান ১০৩। ১টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি রয়েছে ২টি হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস। ফলে ৫ বছর ধরে যে খবরটার অপেক্ষা করছিলেন, অবশেষে গতকাল সেটা পেয়ে গেলেন তিনি। এ নিয়ে আশরাফুল  জানান, ‘এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। খুব খুশি আমি।’ সিলেটের সঙ্গেই নাকি কথা হচ্ছিল আশরাফুলের। তবে ড্রাফট যেহেতু একটা ভাগ্যের বিষয়। লটারিতে যার নাম আগে আসে, যে কল করার সুযোগ আগে পায়, তারাই খেলোয়াড় পছন্দমতো বাছাই করার সুযোগ পায়। সে কারণে আশরাফুলকে কিনে নিয়েছে চট্টগ্রাম। আশরাফুল বলেন, ‘আমি অপেক্ষায় ছিলাম কখন খবর আসে, আমাকে কোন দল নেয়। যেহেতু প্লেয়ার্স ড্রাফটে ইচ্ছে করলেই কাউকে নেয়া যায় না, লটারিতে কার সিরিয়াল বা কার কল করার সুযোগ আগে আসে তার ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। তারপরও সিলেটের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তারা আমার ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছিল; কিন্তু  শেষ পর্যন্ত আমাকে নিয়েছে চট্টগ্রাম।’ বিপিএলে ডাক পেয়ে আশরাফুল খুব খুশি। আবার তিনি তারকাসমৃদ্ধ কোনো দলেও খেলতে চাননি। আশরাফুল বলেন, ‘আমি খুব খুশি একটা বিশেষ কারণে। আমি ইচ্ছে করেই এমন দলে খেলতে চেয়েছি, যে দলে বিদেশী ও স্থানীয় তারকা তুলনামূলক কম। রংপুর, ঢাকা, কুমিল্লা ও খুলনার চেয়ে চট্টগ্রামে নামি তারকার সংখ্যা কম। কাজেই আমার বিশ্বাস, আমি  খেলার সুযোগ পাবো এবং নিজেকে মেলে ধরার জায়গাও বেশি থাকবে।’ চিটাগং দল নিয়ে আশরাফুল বলেন, ‘ওখানে মুশফিক আছে। সে খুব আন্তরিক। এর বাইরে নান্নু ভাই আছেন। তিনি প্রধান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর। তিনি আমার সাবেক কোচও। এ ছাড়া নোবেল ভাই আছেন। তিনি খুব প্রাণখোলা মানুষ এবং আমার অনেক দিনের চেনা।’ নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে তো ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক খেলেছেন আশরাফুল। বিপিএলটা বাকি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। কারণ, দুবার প্রিমিয়ার লিগ খেলা হয়েছে এবং এনসিএল-বিসিএলও খেলছি। বাকি ছিল বিপিএল। বিপিএলটা এমন এক প্ল্যাটফর্ম, যেটা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের একটা সাড়া জাগোনো আসর। বিশ্বের অনেক দেশে এ খেলা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, আমি মনে করি, বিপিএল হচ্ছে এমন এক ফ্ল্যাটফর্ম- যেটা একজন ক্রিকেটারকে দেশ এবং দেশের বাইরে খুব তাড়াতাড়ি পরিচিতি এনে দেয়। এখানে ভালো খেলতে পারলে একটা অন্যরকম সাড়া পড়ে চারদিকে। তাই আমি সব সময় মুখিয়ে ছিলাম বিপিএল খেলতে। আমার সামর্থ্যরে সবটুকু উজাড় করে চেষ্টা করবো সবটুকু মেলে ধরতে এবং আবার সবার চোখে পড়তে। আমি প্রিমিয়ার লিগে ভালো খেলেছি এবার বিপিএলে ২০ ওভারের ম্যাচেও আশা করি ইনশাআল্লাহ ভালো খেলতে পারবো।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ