শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রনিলকেই প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতি দিলেন শ্রীলংকান স্পিকার

শ্রীলঙ্কার বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ

২৮ অক্টোবর, এনডিটিভি / আল জাজিরা : শ্রীলংকার জাতীয় সংসদের স্পিকার বলেছেন, মাহিন্দা রাজাপাকসে নন, রনিল বিক্রমসিংহেই তার দেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। সংসদ বাতিল করলে রাজনৈতিক সংকট আরও তীব্র হবে মন্তব্য করে প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনাকেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সিরিসেনাকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে স্পিকার কারু জয়সুরিয়া বলেন, ‘আপনার উচিত গণতান্ত্রিক এবং যুক্তিসংগত আচরণ করা।’

এর আগে নিজেকে বৈধ প্রধানমন্ত্রী দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় টেম্পল ট্রিজ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহে। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহকে বরখাস্ত করে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসেকে নিয়োগ দেন প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপল সিরিসেনা। বিরোধীরা প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছে। এ নিয়ে সাংবিধানিক সংকটে পড়েছে ভারত মহাসাগরীয় দেশটি।

গত কয়েক মাস ধরে শ্রীলংকার বর্তমান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রনিল বিক্রমসিংহের সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিলো না। তাদের দুইজনের দ্বন্দ্বে রাজনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়। এর জেরে বর্তমান জোট সরকার থেকে সমর্থন তুলে নেয় প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ফ্রিডম অ্যালায়েন্স। এরপরই প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহকে বহিষ্কার করেন প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা।

২০১৫ সালের নির্বাচনে রাজাপাকসেকে পরাজিত করেছিলেন সিরিসেনা। পরাজিতরা একে ‘ভারত সমর্থিত অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যায়িত করেন।

বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রীকে বাসভবন ছাড়ার নির্দেশ

শ্রীলঙ্কার বরখাস্তকৃত প্রধানমন্ত্রী রানিল উইক্রেমিসংহকে গতকাল রবিবারের মধ্যে সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। তাকে বরখাস্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সাংবিধানিক সংকটের মধ্যেই এই নির্দেশ দেওয়া হলো। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এখবর জানিয়েছে।

 প্রেসিডেন্ট মৈত্রিপালা সিরিসেনা রানিলকে বরখাস্ত ও ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্থগিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাসভবন ছেড়ে দেওয়ার এই নির্দেশ আসলো। রানিলের মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই ঘটনাটিকে অগণতান্ত্রিক ক্যু বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সংসদ সদস্য উইমাল উইয়িরাওয়ানসা শনিবার সাংবাদিকদের জানান, সম্মানজনকভাবে বাসভবন ছাড়তে রবিবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময় পাবেন। তিনি বলেন, ‘যখন বিরোধী ছিলাম তখন আমরা অনেক বড় স্টেডিয়াম পূর্ণ করেছি। ভেবে দেখুন ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কী করতে পারি আমরা।’ এর মধ্য দিয়ে তিনি ইঙ্গিত দিলেন যদি বাসভবন না ছাড়া হয় এই সময়সীমার মধ্যে তাহলে বিক্ষোভকারীরা ভবনটিতে জড়ো হবে।

শুক্রবার সিরিসেনা ক্ষমতাসীন জোট থেকে ইউনাইটেড পিপল’স ফ্রিডম অ্যালায়েন্সকে সরিয়ে নিলে এই সংকটের সূচনা হয়। ক্ষমতাসীন জোটের নেতৃত্বে ছিলেন রানিলা। ওই দিনই সিরিসেনা চার বারের প্রধানমন্ত্রী রানিলাকে বরখাস্ত করেন এবং সাবেক প্রেমিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসাকে দায়িত্ব দেন। দেশটির দক্ষিণাঞ্চল সফরে থাকা রানিলা খবর পেয়েই কলম্বো ছুটে আসেন। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পার্লামেন্টের স্পিকারকে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পার্লামেন্টে আমার সংখ্যা গরিষ্ঠতা রয়েছে। একমাত্র পার্লামেন্টেই প্রমাণিত হয় কার সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ২২৫ টি আসনের মধ্যে রানিলার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) রয়েছে ১০৬টি আসন এবং সিরিসেনার জোটের রয়েছে ৯৫টি আসন।

ইউএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ২০১৫ সালের সংবিধানের সংশোধনী অনুসারে প্রধানমন্ত্রীকে বরখাস্তের কোন ক্ষমতা নেই প্রেসিডেন্টের। প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোট প্রয়োজন। সিরিসেনার জোট এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ