বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

সম্প্রচার আইনের খসড়া ২০১৮ অনুমোদন প্রসঙ্গে

প্রস্তাবিত আইনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপারে বিকৃত তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশের দায়ে ৩ বছরের কারাদ- ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয়দ-ের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া টকশোতে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রচার করলে একই সাজার কথা বলা হয়েছে। আইনের ২ এর ১ ধারায় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ভূখ-ের যেকোনও প্রান্ত থেকে প্রিন্ট-অনলাইন-ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া রেডিওসহ যেকোনও মাধ্যমের সম্প্রচারকে সংবাদ বলে গণ্য হবে।
প্রস্তাবিত আইনে কমিশন গঠন, কমিশনের কাজ ইত্যাদি ব্যাপারে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রচারের কারণে কারো কোনও ক্ষতি হলে এই কমিশনে নালিশ জানানো যাবে এবং কমিশন ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগের সুরাহা করবে।
ইতিপূর্বে সম্প্রচারের কারণে কারো কোনও ক্ষতি হলে প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করার বিধান ছিল। প্রেস কাউন্সিলে এ ধরনের অভিযোগ গত ৪০ বছরে ৪০টি জমা পড়েছে কিনা সন্দেহ। বরং এ ধরনের ঘটনায় কয়েক হাজার মামলা দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে হয়েছে। গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের (৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনে) মধ্যে বিতর্কিত নন এমন এক বা একাধিক প্রাক্তন বিচারপতির সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হলে এবং কমিশনে অভিযোগ দাখিল ও সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কোনও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আদালতে যেতে পারবেন না, এ ধরনের বাধ্য-বাধকতা থাকলে সকলের জন্য কল্যাণকর হবে।
খসড়া প্রস্তাবিত আইনটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপারে উল্লেখ করে বিষয়টিকে সংকীর্ণ করা হয়েছে। এর সাথে যে কোন ধর্মীয় অনুভূতি বা সম্প্রদায়ের ব্যাপারে উল্লেখ হলে আইনটির ব্যাপকতা বৃদ্ধি পাবে। তাছাড়া যেমন ‘সংবাদ’ শব্দের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তেমনি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ শীর্ষক বিষয়টিরও সংজ্ঞা নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। সাথে আমাদের মহান জাতীয় সংসদে সম্মানিত কোন সদস্য অসত্য, বিকৃত তথ্য ও বিভ্রান্তিমূলক কোন তথ্য বা বক্তব্য প্রদান করলে তাকেও আইনের আওতায় আনার বিধান রাখা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি বিবেচনায় আনলে সকলকে সহনশীল ও দায়িত্ববোধ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
-আবু এনাম, যাত্রাবাড়ী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ