শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

রাজধানীর বুকে এক খন্ড ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : তিন পার্বত্য জেলা আর ২৫ উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’ বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও ওই অঞ্চল সমতলের চেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ। আলাদা আলাদা জাতিগোষ্ঠী ও তাদের সংস্কৃতি,পাহাড়ী জনপদ,বন-বনানী মিলে সমতলকে কাছে টানার শক্তিতে ভরপুর বলেই দেশজোড়া তার পরিচিতি। দেশের বাইরেও এর নাম বিশেষভাবে ছড়িয়ে আছে। তাই পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সমতলের মানুষের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরির উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নামানুসারে নির্মিত ‘ শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ এর উদ্বোধন কাল শনিবার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওইদিন বিকেল ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রাজধানী ঢাকার ৩৩, বেইলি রোডে নির্মিত এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করবেন।

রাজধানীর বুকে এক খন্ড ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’

১৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য ঐতিহ্যমন্ডিত ‘ শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ নামের নির্মিত নান্দনিক ভবন দেখেই মনে হবে গোটা কমপ্লেক্সটি যেন রাজধানীর বুকে এক খন্ড ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম’। পাহাড়ী আদলে গড়ে তোলা ওই কমপ্লেক্সে একটি মাল্টিপারপাস হল, ডরমেটরি, প্রশাসনিক ভবন, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন রয়েছে। 

এছাড়া স্থাপনাটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি-নীতি, ভাষা, ধর্ম ও আচরণগত স্বতন্ত্রতা সম্পর্কে বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষকে পরিচিত করে তুলবে। কমপ্লেক্সটি পর্যটকদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক স্থাপনা হিসেবেও বিবেচিত হবে। প্রায় ৬ বিঘা (১ দশমিক ৯৪ একর) জমিতে গড়ে তোলা হয় এই কমপ্লেক্স।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সঙ্গে সমতলের মানুষের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, সহযোগিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এই কমপ্লেক্স-এমন আশা-প্রত্যাশা থেকেই এটি তৈরীর উদ্যেগ। সে লক্ষেই ‘ শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণের পর প্রকল্পটি সরকারের মধ্যমেয়াদী বাজেটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়্এরপর ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছিলো ২০১৬ সালের ৮ মে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন,পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতিনীতি, ভাষা, ধর্ম, আচরণগত পার্থক্য ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষকে অবহিত করা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগ স্থাপন করতেই গড়ে তোলা হয় এই কমপ্লেক্স ভবন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয়ের পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুন মাসে। ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পটির চড়ান্ত বাস্তবায়ন হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পর্যায়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যথাযথভাবে প্রতিফলনের লক্ষ্যে কমপ্লেক্স এর ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াটারস্কেপিংসহ নির্মাণাধীন ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, স্থাপত্য নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়। তাছাড়া, বাস্তবতার নিরীখে কয়েকটি নতুন অঙ্গ যেমন-লিফট, স্টিল স্ট্রাকচার, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট ও পার্কিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং বিল্ডিং অটোমেশন স্থাপন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মোট ১৯৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকল্পের ১ম সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপি’র ওপর পিইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পিইসি সভায় অন্যান্যের মধ্যে ‘প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাসহ কমপ্লেক্স এর সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সংশোধিত স্থাপত্য নকশা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গ্রহণপূর্বক ব্যয় প্রাক্কলন করতে হবে এবং অনুমোদিত সংশোধিত নকশা আরডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে’ মর্মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং কিছু শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রস্তাবিত ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের সুপারিশ করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে গত ১৯ জুন ২০১৮ ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাসহ কমপ্লেক্স এর সৌন্দর্যবর্ধন সংক্রান্ত সার্বিক ধারণাগত বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবিস্তারে উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর তাতে সম্মতি দেওয়ায় পিইসি সভার অন্যান্য সিদ্ধান্ত প্রতিফলন করে আরডিপিপি পুনর্গঠন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। পুনর্গঠিত আরডিপিপি’র মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৯৪.৪৩০২ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে জানুয়ারি,২০১৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত।

জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষযক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে ঢাকায় এ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। এই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলেই মনে হবে আপনি কোনও পাহাড়ি অঞ্চলে আছেন। প্রকল্পর কাজ সমাপ্ত হলে এটি হবে রাজধানী ঢাকায় এক খন্ড পাহাড় কিংবা এক খন্ড পার্বত্য চট্টগ্রাম।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ