শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

নির্বাচনের আগে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প 

কামাল উদ্দিন সুমন : সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে তবুও একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব বেশীর ভাগ প্রকল্প¦ই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন। শেষ সময়ে এসে হঠাৎ এমন প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন  তুলেছে সাধারণ মানুষ।  কেউ বলছে, শেষ সময়ের লুটপাট। আবার কেউ বলছে, মাত্র দেড় মাসের মধ্যে গ্রাম অঞ্চলে উন্নয়ের বন্যা বইয়ে দেয়ার পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার প্রলোভন। উন্নয়নের নামে মানুষ যাতে আবারো আওয়ামলীগের প্রলোভনে পড়ে এমন চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং দেশের সেবা করার প্রয়োজনে নির্বাচনের এ সময়ে যদি প্রতিদিন প্রকল্প অনুমোদন দিতে হয়, তবে সেটিই করা হবে। নির্বাচনের সময় বেসরকারি খাত বিনিয়োগে পিছিয়ে থাকে। সেটি পূরণ করতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা আশা করছি, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ২০ থেকে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত হবে। প্রবৃদ্ধির এ ধারা বজায় রাখতে অবশ্যই সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন যেন সরকারি বিনিয়োগের অভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেটি দেখা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পল¬ী অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭ হাজার ৭২৮ কোটি টাকার প্রকল্প নিয়েছে সরকার। নির্বাচনের আগে নেয়া এসব উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে রাস্তা, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ-রক্ষণাবেক্ষণ, ঘাট নির্মাণ, গ্রামীণ হাটবাজার উন্নয়ন ও প্রকৌশল সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প পাস হয়েছে। আর কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। পাস হওয়া প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট (আরসিআইপি) প্রকল্পে ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন (কুমিল¬া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর জেলা) প্রকল্পে  ৭৬৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা, বরিশাল বিভাগ পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২০ কোটি টাকা। এছাড়া বৃহত্তর ময়মনসিংহ পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৯০ কোটি টাকা। 

মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রকল্প এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা সড়ক নেটওয়ার্কের সুফল নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক উন্নত হবে। পণ্য বাজারজাত সহজতর ও পরিবহন ব্যয় হ্রাস পাবে। সামগ্রিকভাবে প্রকল্প এলাকার জনগণের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে এবং দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল বলেন, গ্রামের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। প্রতিটি গ্রাম হবে একটি শহর। আমাদের স্বপ্নের ঠিকানা। শহর ও গ্রামের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রাখতে চাই না। এজন্য সারা দেশের গ্রামের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় সমগ্র দেশের উপজেলা সড়ক, ইউনিয়ন সড়ক, গ্রাম সড়ক উন্নয়ন এবং এসব সড়কে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়ে থাকে। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে এসব গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্রমাগত ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া ক্রমাগত যানবাহনের আধিক্য ও ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অবকাঠামোগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য প্রতি বছর পর্যাপ্ত বরাদ্দ প্রদান সম্ভব হয় না। ফলে প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচি কিংবা প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহীত সড়ক অবকাঠামোর স্থায়িত্ব কমে যায়। এ প্রেক্ষিত বিবেচনায় সমগ্র দেশের সুষম সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি ও সড়কের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গ্রামীণ অবকাঠামোগুলোর যথাযথ টেকসই রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ও জলবায়ুসহিষ্ণু ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ জরুরি বলে মতামত দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদকালে খুলনা বিভাগের চারটি জেলার ২১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের প্রধান কার্যাবলি হলো হাট-বাজার উন্নয়ন ৩২টি, উপজেলা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ ৩০৪ মিটার, ইউনিয়ন সড়কে ব্রিজ নির্মাণ ১৯২ মিটার, গ্রাম সড়কে ব্রিজ নির্মাণ ৮৫০ মিটার, বিভিন্ন সড়কে বক্স কালভার্ট নির্মাণ ১৫০ মিটার। এছাড়া উপজেলা সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন ৪০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন ২৪৫ কিলোমিটার, গ্রাম সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন ৫০৭ কিলোমিটার, এইচবিবি দ্বারা গ্রাম সড়ক উন্নয়ন ৬৫ কিলোমিটার, আরসিসি দ্বারা উপজেলা সড়ক উন্নয়ন ১০ কিলোমিটার, রি-সিল/এভার-লে তৈরি ১৫০ কিমি, রক্ষাপদ কাজ ৬০ হাজার মিটার।

অন্যদিকে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদকালে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার ২৫টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে উপজেলা সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন ৯৫ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন ১২২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার, গ্রাম সড়ক বিসি দ্বারা উন্নয়ন ৫৫০ কিলোমিটার, এইচবিবি দ্বারা সড়ক উন্নয়ন ২১৬ দশমিক ৫২ কিলোমিটার, গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ২২৮ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। এছাড়া উপজেলা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ ২১৭ মিটার, ইউনিয়ন সড়কে ব্রিজ নির্মাণ ১৩৩ দশমিক ৫০ মিটার, গ্রাম সড়কে ব্রিজ নির্মাণ ৯৭৮ মিটার, ইউনিয়ন সড়কে কালভার্ট নির্মাণ ৫৬ মিটার, গ্রাম সড়কে কালভার্ট নির্মাণ ৩২২ দশমিক ৫০ মিটার, ল্যান্ডিং ঘাট/ঘাটলা নির্মাণ ৬২টি, গ্রোথ সেন্টার বা গ্রামীণ হাট-বাজার উন্নয়ন ৪১টি।

রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্পটি জুলাই ২০১৮ থেকে জুন ২০২৩ পর্যন্ত মেয়াদকালে দেশের পাঁচটি বিভাগের ৩৪টি জেলার ১৮০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে। উপকূলীয় ১৩টি জেলার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ সড়কগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলজিইডির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমকে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে এটি বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা সড়ক উন্নয়ন ২ হাজার ২১০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন ৪৯৫ কিলোমিটার, প্রকৌশল সরঞ্জাম সংগ্রহ ৩১৫টি।

পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (কুমিল¬া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর) (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটি জুলাই ২০১৪ থেকে জুন ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে। এ তিন জেলার ৩৪টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা সড়ক উন্নয়ন (বিসি) ৫০ দশমিক ৯৬২ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন (বিসি) ১৬৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার, গ্রাম সড়ক উন্নয়ন (বিসি) ৬২১ দশমিক ২৩ কিলোমিটার, উপজেলা সড়কে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ৪১১ দশমিক ১৪ মিটার, ইউনিয়ন সড়কে ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ৩৬৯ দশমিক ২২ মিটার, গ্রাম সড়কে ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ ১২৯৩ দশমিক ১২ মিটার, রক্ষাপ্রদ কাজ ১৯ হাজার ৬৩২ কিলোমিটার, সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট মেরামত এবং পুনর্বাসন ৪১৩ দশমিক ৯৩ মিটার, হাট ও বাজার উন্নয়ন ২০টি।

চলতি অর্থবছরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ষষ্ঠ সভা হয় গত মাসের ১১ তারিখ। আর গতকাল হলো ১১তম সভা। মধ্যবর্তী ৬ সভায় ১০৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। নির্বাচনের আগে নেয়া এসব প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৫৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এখনো ৩৫টির বেশিপ্রকল্প আছে অনুমোদনের অপেক্ষায়।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গতকাল মোট ২১টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৯ হাজার ৭৭৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অনুমোদিত ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ৩৫টি ড্রেজার ও সহায়ক জলযানসহ আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ৪৮৯ কোটি টাকা; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনসহ নর্দমা ও ফুটপাত উন্নয়নে ৭৭৪ কোটি ৬৬ লাখ ও বরিশাল শহরের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজিত নগর উন্নয়ন প্রোগ্রামে ১৩০ কোটি টাকা। এছাড়া ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ’ প্রকল্পে ৩ হাজার ৮৮৫ কোটি ৭২ লাখ, রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পে ৩২১ কোটি ২২ লাখ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৬৯০ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন পেয়েছে।

এর আগে অর্থবছরের দশম একনেক সভায় ১৪ হাজার ২০০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন পায়। এর মধ্যে রয়েছে ৯৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকায় যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ৯৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকায় খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার পল¬ী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং ১৭২ কোটি টাকায় পরিবেশবান্ধব কৌশলের মাধ্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্প। এছাড়া রংপুর জেলার মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও রংপুর সদরের যমুনেশ্বরী, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর তীর সংরক্ষণ ও নদী পুনঃখনন প্রকল্প অনুমোদন পায়।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে একনেকের নবম সভায় অনুমোদন পায় ২০ প্রকল্প। যেগুলোর মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৩২ হাজার ৫২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি ৪২ লাখ টাকার রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রকল্প (আরসিআইপি), ২৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স (এলইডি অংশ) প্রকল্প, ৩৯৮ কোটি ৯১ লাখ টাকায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী উপজেলা এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং শিলক খালসহ অন্যান্য খালের উভয় তীর রক্ষা প্রকল্প, ১৬৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকায় রংপুরের গঙ্গাচড়া ও সদর উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্প ও ৩০৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকার কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে সেনা উপস্থাপনার ভূমি সমতল উঁচুকরণ, ওয়েভ প্রটেকশন ও তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্প।

এর আগে একনেকের অষ্টম সভায় ১৫ প্রকল্পে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন হয়। এর মধ্যে রয়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই ও পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধারে ৪ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা; টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পে ১ হাজার ৫০২ কোটি ৭২ লাখ ও রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (আরওএসসি) দ্বিতীয় পর্যায় (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পে ১ হাজার ৯৯০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এছাড়া সৌরশক্তি ব্যবহারে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়নে ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, ভোলা সদরের রাজাপুর ও পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন রক্ষার্থে তীর সংরক্ষণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৪৩ কোটি ৯০ লাখ এবং চট্টগ্রামে হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ১৫৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় অনুমোদন হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ