রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২
Online Edition

লিন্তার স্কুলে যাওয়া

মাযহারুল ইসলাম অনিক : ছোট্ট মেয়ে লিন্তা ভালোবাসে স্কুলে যেতে। স্কুলের সাথে তার খুব সখ্যতা। ঝড় বৃষ্টি যায় হোক লিন্তা কখনো কোন কারণে স্কুল বন্ধ করে না। আর এ সব কারনেই লিন্তা এ বছর একটি পুরস্কার ও পেয়েছে। অনেক দিন হয়তো তার মা বাবাও ঘুম থেকে উঠে কিন্তু লিন্তা নিজেই প্রস্তুত হয়ে যায় স্কুলে যাওয়ার জন্য। স্কুলে যাওয়াতেই যেন তার সব সুখ। সহপাঠিদের সাথে বসাতেই যেন তার মন ভরে যায় । সাথে সাথে প্রতিদিনের পড়াগুলো বোঝা এবং করে দেওয়াতেও জুড়ি নেই তার। কিন্তু আজ আকাশেই মন একটু বেশিই খারাপ, সেই সকাল থেকে নেমেছে প্রবল বর্ষা। কোন কাজই সঠিক ভাবে করা যাচ্ছে না। জলাবদ্ধতার মতো থমকে গেছে সব কিছু। কিন্তু তাতেও থমকে নেই লিন্তার স্কুলে যাওয়া । সে ঠিকই গত বছরে মামার দেওয়া রেইনকোট জড়িয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে স্কুলে যাওয়ার জন্য। এমন সময় ছুটে এলো তার বাবা আর বিনয়ের সাথে বলতে লাগলো "লিন্তা মামনি আজ আর স্কুলে যাওয়ার দরকার নাই, বাইরে প্রবল বর্ষা, কাক পক্ষিও দেখা যাচ্ছে না, এসব খুলে ফেলো"। এ কথা শোনার সাথে সাথেই খারাপ হয়ে গেলো লিন্তার মন। ভাবতে লাগছে সে আজ স্কুলে না গিয়ে কিভাবে কাটাবে  সারাদিন? আগামিকালের পড়াগুলো কিভাবে করবে সংগ্রহ? বা  তৈরিকৃত পড়াগুলো কিভাবে দেখাবে শিক্ষকদের?এ সব ভাবতে ভাবতে লিন্তা হঠাৎ বলে উঠলো, না বাবা আমি স্কুলে যাবো, স্কুলে যেতে আমার খুব ভালো লাগে। স্কুলের প্রতিটা সময় আমাকে খুব আনন্দ দেয়। আর বাবা তুমি কি জানো না শিক্ষা জাতির মেরুদ-? যে যত শিক্ষা গ্রহণ করবে সে তত এগিয়ে যাবে। তাই আমিও তো এগিয়ে যেতে চাই বহু দূর। লিন্তার এমন শিক্ষণীয় কথা শুনে বাবা তকে আর আটকে রাখতে পারে না। সে ছুটে গেলো স্কুলে, আবারো মেতে উঠলো পড়াশোনায়।  

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ