বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার কয়েকটি স্কুলের সম্পত্তি দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান

খুলনা অফিস : খুলনার কয়েকটি স্কুলের সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও একাধিক স্কুলের জায়গায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের থানা শিক্ষা কর্মকর্তাগণ বিষয়টি জেনেও নিশ্চুপ। অথচ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গায় অন্য স্থাপনা তৈরির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরীর অন্ততঃ ৫টি স্কুলের নিজস্ব জায়গায় দোকান ঘর ও গ্যারেজ তৈরি করে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। এরমধ্যে কোন কোন স্কুলের জায়গা পুরোপুরিই বেদখল হয়ে গেছে। অথচ এসব বিষয়ে নজর নেই শিক্ষা বিভাগের। ১৯৮৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা পরিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী-সরকারের বিনা অনুমতিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাবতীয় সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশ,ব্যবহার ও নির্মান কাজের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা ফৌজদারী আইন অনুসারে দ-নীয় অপরাধ।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সূত্রটি জানিয়েছে, নগরীর কয়লাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রোড সংলগ্ন জায়গায় ৭টি দোকান ঘর তৈরি করে ভাড়া দেয়া হয়েছে। প্রতিমাসে এখান থেকে ভাড়া উঠিয়ে নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের জায়গায় দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে অর্থ আদায়ের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফিরোজা আকতারী। তিনি বলেন, ‘আমি মাস খানেক হলো এই স্কুলে যোগদান করেছি। এখনও সব কিছু আমি বুঝ নিতে পারিনি’।
এদিকে নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গাতেও দোকান ঘর তৈরি করে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। নগরীর তালতলা উদয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় সম্প্রতি গ্যারেজ তৈরি করে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠে নতুন করে এ গ্যারেজ তৈরির বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। অন্যদিকে গ্যারেজের পাশে আগে থেকেই একটি দোকান ঘর নির্মান করে ভাড়া দেয়া হয়।
অন্যদিকে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র ৩১ নং ওয়ার্ডের জিন্নাহ্পাড়াস্থ শিশু মেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এ স্কুলের জায়গা দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন একেএম মোদাচ্ছের হোসেন নামক এক ব্যক্তি। স্কুলটি খুলনার সদর থানাধীন লবণচরা মৌজার ৫ নং সিটের হাল আরএস ২৩৪৬ দাগে অবস্থিত। অবৈধ দখলে রাখা জায়গা উদ্ধারের বিষয়ে স্কুলটির সাবেক সভাপতি রতন মাহমুদ স্থানীয় এমপিসহ শিক্ষা বিভাগে আবেদনও করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে দৌলতপুর থানাধীন সত্য নারায়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরো জায়গাই দখল করে নিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। মেসার্স মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ওই স্কুলের জায়গায় সেঁটে মালিকানা দাবি করছেন মেসার্স মাহবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। হাল জরিপের আর এস ম্যাপ অনুযায়ী নগরীর মহেশ্বরপাশা মৌজার ৩৩ নং সীটের ১৫৮৭ নং দাগে বিদ্যালয়টি অবস্থিত।
তবে, এসব দোকানঘর নির্মাণের বিষয়ে থানা শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলের জায়গায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করার বিষয়ে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। সেটি আমরা বাতিল করে দিয়েছি। এর বাইরে অন্য কোন স্কুলে এমনভাবে ঘর ভাড়া দেয়া হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব’।
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন, ‘স্কুলের জায়গায় দোকান ঘর ভাড়া দেয়া হচ্ছে এমন খবর পেয়েছি। খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ