বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শাসক দলকে সুবিধা দিতেই নির্বাচন কমিশন ইভিএম নিয়ে মাতামাতি শুরু করেছে

খুলনা অফিস : বহুল বিতর্কিত ও সারা বিশ্বে প্রত্যাখ্যাত ইভিএম মেশিন আগামী জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার না করার দাবি জানিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার পরিবর্তে শাসক দলকে সুবিধা দিতেই নির্বাচন কমিশন ইভিএম নিয়ে মাতামাতি শুরু করেছে। আগামী ২৭ অক্টোবর খুলনায় ইসি কর্তৃক ইভিএম মেলা আয়োজনকে দুরভিসন্ধিমূলক আখ্যায়িত করে তা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার মূল দাবি থেকে জনগনের দৃষ্টিকে সরিয়ে নেয়ার যে কোন চক্রান্ত জনগনকে সাথে নিয়ে মোকাবেলা করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।  নির্বাচনে বিতর্কিত ইভিএম মেশিন ব্যবহার বন্ধ, গায়েবী মামলা দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা, মামলা-গ্রেফতার ও তল্লাশি অভিযান চালিয়ে জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে হয়রানি ও অসম্মান করার প্রতিবাদে এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে স্মারকলিপি দেবে মহানগর বিএনপি। একই দাবিতে আগামীকাল শুক্রবার বেলা ১১ টায় দলীয় কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্স করবে দলটি। সেই সাথে খুব শিগগিরই বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে ইভিএম’র জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতির তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করে খুলনায় একটি সেমিনার করা হবে। মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি, উপদেষ্টা, যুগ্ম সম্পাদক ও সম্পাদকমন্ডলীর এক জরুরী সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।  গতকাল বুধবার দুপুর ১২ টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভা থেকে অবিলম্বে মিথ্যা বানোয়াট ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি জানানো হয়। সভা থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো পাতানো মামলায় ফরমায়েশি রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ করার চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সকল মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়।  সভা থেকে বিএনপির নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর থেকে জাতীয় নেতৃবৃন্দের সরকারের রোষানালে পতিত হওয়া এবং খোদ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মামলা দায়েরের উস্কানি দেয়ার পর ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা, ডা. জাফরউল্লাহর প্রতিষ্ঠানে তথাকথিত অভিযানের নামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা, শীর্ষ নেতাদের বাড়িঘরে তল্লাশি কিংবা ঘিরে অবরুদ্ধ করে রাখা, বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও অপমান করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।  সভা থেকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির পরিবর্তে শত শত গায়েবী মামলা দায়ের এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়িতে তল্লাশির মাধ্যমে আতংক সৃষ্টি করার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহার এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদেরকে নির্বাচনের কাজে কোন ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করার দাবি জানানো হয়।  সভা থেকে নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অনির্বাচিত আওয়ামী লীগ সরকার মিথ্যাচার ও প্রপাগান্ডা চালাবে বলে অভিযোগ করে যে কোন গুজব, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়।  সভায় উপস্থিত ছিলেন মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, শাহজালাল বাবলু, স ম আব্দুর রহমান, ফখরুল আলম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, মাহবুব কায়সার, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মেহেদী হাসান দীপু, মহিবুজ্জামান কচি, শাহিনুল ইসলাম পাখী, আজিজুল হাসান দুলু, সাদিকুর রহমান সবুজ, ইকবাল হোসেন খোকন, জালু মিয়া, এহতেশামুল হক শাওন, মাসুদ পারভেজ বাবু, কে এম হুমায়ুন কবির, একরামুল হক হেলঅল, হাসানুর রশিদ মিরাজ, শামসুজ্জামান চঞ্চল, মুজিবর রহমান ফয়েজ, রবিউল ইসলাম রবি, আশরাফ হোসেন, নাজিরউদ্দিন আহমেদ নান্নু, নিয়াজ আহমেদ তুুহিন, সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ