বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের গাইনীর ওটির যন্ত্রপাতি নষ্টের পথে

খুলনা অফিস : জনবল সঙ্কটের অজুহাতে দীর্ঘ ৫ বছরের অধিক সময়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে গাইনী বিভাগের নিজস্ব অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ব্যবহার করা বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সব আধুনিক যন্ত্রপাতি বছরকে বছর ব্যবহৃত না হওয়ায় তা অকার্যকর হওয়ারও সম্ভবনা রয়েছে। ওই বিভাগে রাতে গাইনী রোগী আসলে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে রেফার্ড করা হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে প্রসূতি মায়েদের।

গাইনী ওয়ার্ড সূত্র মতে, ২০০৯ সালে গাইনীর জন্য নিজস্ব অপারেশন থিয়েটার চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়। আনা হয় প্রয়োজনীয় সব আধুনিক যন্ত্রপাতিও। অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র, ওটি বাতিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসিয়ে অপারেশন থিয়েটার ব্যবহারের উপযোগী করা হয়। ওই বছর থেকে শুরু করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ওটি চলে। এরপর থেকে আর গাইনী ওটি ওখানে হয় না।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেই ইমারজেন্সি কোনো গাইনী রোগী ওই হাসপাতালে আসলে তাকে সাথে সাথে খুমেক হাসপাতালে রেফার্ড করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেক সময় প্রসূতি মায়েরা খুমেক হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে পথেই ডেলিভারি হওয়ারও জনশ্রুতি রয়েছে। দিনের বেলায় জেনারেল হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের অপারেশন করা হয় জেনারেল ওটিতে। রাতের বেলায় ওটি নেই বললেই চলে।

গাইনী ওয়ার্ডের সূত্র মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দিনের বেলায় জেনারেল ওটিতে গাইনী রোগীদের সিজার করা হয় ২২০টি। সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার এই ওটিগুলো করা হয়। রাতের বেলায় ওটি নেই বললেই চলে। এছাড়া ওই সময়ের মধ্যে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা ২৮৮টি।

এ ব্যাপারে গাইনী ওটির ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স ফিরোজা খানম বলেন, দীর্ঘ আড়াই বছর ওই ওটির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ পর্যন্ত ওই ওটিতে গাইনী রোগীদের সিজার করা হয়নি। প্রতি সপ্তাহ দুইদিন জেনারেল ওটিতে গাইনী রোগীদের ওটি হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের ডাক্তার ম্যাডাম ওটি চালুর বিষয়ে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, রাতের বেলায় ওটি এ পর্যন্ত কয়টা হয়েছে তা আমার মনে নেই। এ বিষয়ে জেনারেল ওটি ইনচার্জ ভালো বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে হাসপাতালের গাইনী কনসালটেন্ট ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, গাইনী ওয়ার্ডের নিজস্ব ওটি চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যে সিভিল সার্জনের সাথে কথা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ