রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

চট্টগ্রামে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাথে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন (বিউবো) এর মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল  রবিবার সকালে সিটি কর্পোরেশন কনফারেন্স হলে এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি পত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এর পক্ষে প্রকৌশলী মোঃ মাহবুবুর রহমান প্রধান প্রকৌশলী আইপিপি সেল স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দীর আহমেদ, সচিব মো.আবুল হোসেন,প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী (বিতরণ দক্ষিণাঞ্চল) প্রবীর কুমার সেন,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সামছুল আলম, প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও সহকারী প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে বিউবো। কর্পোরশন বিনামূল্যে তাদের জায়গা দিবে। তিনি বলেন আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল নগরবাসীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি উপহার দেওয়া। তাই আবর্জনার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিবেশ বান্ধব নগর গড়তে বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের এই উদ্যোগ। এটি স্থাপিত হলে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ঘাটতি দুর হবে। প্ল্যান্টের স্থান নির্ধারণ টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ আরো ২টি চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে প্রায় ৩ বছর সময় লাগতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিনামূল্যে জায়গা প্রদান করবে। প্রতিদিন আড়াই হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সংগ্রহ থেকে ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ প্ল্যান্টে বর্জ্য পৌঁছে দেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রতিষ্ঠানটি বিল্ড ওন এন্ড অপারেট (বিউও) এর প্রদ্ধতিতে স্পন্সর ঠিক করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি গড়ে উঠলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃংখলা আসবে এবং পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি পূরণ হবে নগরবাসীর বিদ্যুৎ চাহিদা। বন্দর নগরীতে জীবিকার সন্ধানে ক্রমবর্ধমান হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদিত হচ্ছে বর্জ্য। যা পরিবেশকে মারাত্মক হুমকীর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে বায়ু দূষণ, পানি দূষনের মতো সমস্যা সৃষ্টি করছে রোগ ব্যাধি। পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য সংগ্রহ করতে না পারা, সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং যুগোপযোগি ব্যবস্থা করতে না পারার কারণে গৃহস্থলী বর্জ্য দূষণ হয়ে পরিবেশের সমস্যা সৃষ্টি করছে। সুষ্ঠু পরিবেশ সম্মত নগর গড়ে তোলার পুর্বশর্ত হিসেবে বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামের মতো শহরগুলো বর্জ্যরে কারণে সৃষ্ট দূষণ সমস্যা আরো বেশী। এই দূষণ সমস্যা প্রতিরোধে ২০১৬ সনের আগে থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে বর্তমান সরকার। এই বছরই বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগ ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়াণগঞ্জ ও গাজীপুর শহরগুলোর মধ্যে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়। এরমধ্যে চট্টগ্রামে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে চলেছে।
উচ্ছেদ অভিযান: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌসএর  নেতৃত্বে গতকাল রবিবার, দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় মোবাইল কোর্ট/উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন কাজীর দেউরীস্থ আউটার স্টেডিয়ামে অবৈধভাবে ট্রাক পার্কিং  করে ভাসমান দোকানপাট বসিয়ে খেলা ধুলার পরিবেশ বিনস্ট করায় এবং আউটার ষ্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটপাতে  অবৈধভাবে দোকান পাট বসিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত অবৈধ ট্রাক পার্কিং অপসারন ও মাঠে স্তুপকৃত মালামাল এবং ভাসমান দোকানপাট উচ্ছেদ করে মাঠ ও ফুটপাত অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়। অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং সিএমপি পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ