রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিডিবিএলে ঋণ কেলেঙ্কারি অনুসন্ধানে ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডে (বিডিবিএল) অযোগ্য ব্যক্তি এবং ভুঁইফোড় কিছু প্রতিষ্ঠানকে জামানতবিহীন ও অস্তিত্বহীন জামানত রেখে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের মধ্যে ব্যাংকটির সাবেক এক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও দুই মহাব্যবস্থাপক (জিএম) রয়েছেন।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে,গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ  করেছেন সংস্থার সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, তাঁরা হলেন সাবেক ডিএমডি নাজমুল বারী, সাবেক দুই জিএম খলিলুর রহমান চৌধুরী, এ এস এম জিয়াউল হক, সাবেক পরামর্শক খন্দকার মাহমুদুল হাসান ও ডিজিএম মো. সোলায়মান আলী।
এর আগে ৭ অক্টোবর এই ৫ জনসহ ১০ জনকে তলব করে চিঠি দেয় দুদক। ওই চিঠির তথ্য অনুসারে ১৯ অক্টোবর আরও ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। তাঁরা হলেন দুই ডিএমডি দিলওয়ার হোসেন ভূঁইয়া ও দীনা আহসান, এজিএম সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম এবং দুই এসপিও এস এম সিরাজুল ইসলাম ও শ্যামল কুমার দাস।
দুদক সূত্র জানায়, দুর্নীতির এই অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক যাচাই–বাছাই শেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানের দায়িত্ব পেয়েই গুলশান আনোয়ার প্রধান বিডিবিএল এবং ঋণসংক্রান্ত যাবতীয় নথি সংগ্রহ করেন। অনুসন্ধানের দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি বিডিবিএলের সাবেক ও বর্তমান ১০ কর্মকর্তাকে তলব করেন।
এর আগে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র তলব করে পৃথক ৩টি চিঠি দেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের মূল কপি সংরক্ষণ করে সত্যায়িত ছায়ালিপি সরবরাহের জন্য ব্যাংকের বর্তমান এমডিকে অনুরোধ করা হয়।
তলব করা নথিপত্রের মধ্যে রয়েছে বিডিবিএলের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক এম এম ভেজিটেবলের হিসাব খোলার ফরম, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, সমঝোতাপত্র (এমও ইউ), গ্রাহকের ঋণের আবেদনপত্র, শাখার সুপারিশ, ক্রেডিট কমিটির অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের ৬৫ ও ৬৬তম সভায় উপস্থাপিত বোর্ড মেমো, বোর্ড রেজল্যুশনপত্র ও শাখায় প্রেরিত অনুমোদনপত্র।। ওই ঋণ ও এলটিআরের (লোন অ্যাগেইনস্ট ট্রাস্ট রিসিট) বিপরীতে শাখায় রাখা জামানত, ঋণের বিপরীতে জামানত হিসাবে ১২ কোটি টাকার এফডিআরসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র।
ওই গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি এবং উক্ত ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ওই গ্রাহকের ওপর একই ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপিও চাওয়া হয়।
দ্বিতীয় চিঠিতে বিডিবিএলের প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক ঢাকা ট্রেডিং হাউসের একই ধরনের নথি তলব করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা ট্রেডিং হাউসের সঙ্গে খাদ্য বিভাগের সম্পাদিত সমঝোতাপত্রের (স্থানীয় বাজার থেকে ১৫ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের) সত্যায়িত কপি, ওই গ্রাহকের ওপর নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানির ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অডিট প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি, ওই গ্রাহকের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি এবং ব্যাংকের নিজস্ব তদন্ত প্রতিবেদনের সত্যায়িত কপি চাওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রিন্সিপাল শাখার গ্রাহক টাটকা অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এবং এ এইচ জেড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের ঋণসংক্রান্ত যাবতীয় নথি তলব করা হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এসব নথি সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জালিয়াতি সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তার হাতে রয়েছে। সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জালিয়াতির বিস্তারিত তথ্য বের করে আনার আশা করছে দুদক। সূত্র জানায়, শিগগিরই অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রধান ব্যক্তি বিডিবিএলের সাবেক এমডি মো. জিল্লুর রহমানকে তলব করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ