মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

খুলনা মাউশি কার্যালয় আবাসিক ব্যবহার করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

খুলনা অফিস : মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের কার্যালয় আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নিয়মিত বাড়ি ভাড়া ভাতা উত্তোলন করে ভাড়া হিসেবে দপ্তরের উপ-পরিচালক দেন ভাতার ৪০%। কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্ন ঘটায় ইতোমধ্যে আবাসিক বরাদ্দ বাতিলের আবেদন করা হয়েছে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর। কর্মকর্তারা বলেছেন, বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) খুলনা অঞ্চলের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় খুলনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় চত্বরের তিনতলা বিশিষ্ট একটি ভবনে। ভবনটিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন মাউশি খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ও উপ-পরিচালকসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ভবনটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি দপ্তরের পূর্ববর্তী উপ-পরিচালক ও পরিচালক পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা টি এম জাকির হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট লেখালেখি শুরু করেন। সে সময় লেখালেখির ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আবাসিক ব্যবহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তৎকালীন উপ-পরিচালক টিএম জাকির হোসেনকে বাড়িভাড়া ভাতার ৪০% ভাড়ায় দুই থেকে তিনটি কক্ষ বরাদ্দ দেন। সে সময় থেকেই শুরু হয় মাউশি কার্যালয়ের আবাসিক ব্যবহার। সে সময় উপ-পরিচালকের পাশাপাশি আবাসিক ব্যবহার করতেন প্রোগ্রামার ও নৈশ প্রহরী। সেভাবেই চলমান রয়েছে এই ব্যবহার কিন্তু আবাসিকে বেড়েছে কক্ষের সংখ্যা। 

এদিকে বর্তমানে কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় ৫টি কক্ষ ও দুইটি বাথরুম বিশিষ্ট বাসা ব্যবহার করছেন উপ-পরিচালক বলে জানা গেছে। বরাদ্দের তুলনায় কক্ষ বাড়লেও ভাড়া রয়েছে সেই ৪০%-ই। আর নৈশ প্রহরী মাহাবুবুর রহমান দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষে সপরিবারে বসবাস করছেন। আর নৈশ প্রহরী ভাতা তুললেও ভাড়া দেন কিনা তা তিনি জানেন না। এদিকে দপ্তরটিতে বর্তমানে একজন পরিচালক ও একজন উপ-পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। পর্যাপ্ত কক্ষের অভাবে ৪-৫ জন কর্মকর্তাকে একটি কক্ষ ব্যবহার করে কাজ পরিচালনা করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে দাপ্তরিক কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে বিঘœ ঘটছে। ইতোমধ্যে কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার লক্ষ্যে কার্যালয়ের আবাসিক বরাদ্দ বাতিলের জন্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে।

দপ্তরের নৈশ প্রহরী মাহাবুবুর রহমান বলেন, আপনি এ বিষয়ে আমার সাথে কথা বলছেন কেন? আমার স্যারদের সাথে কথা বলেন।

মাউশি খুলনা অঞ্চলের সাবেক উপ-পরিচালক ও বর্তমান সরকারি হাজী মুহাম্মদ মুহসিন কলেজের অধ্যক্ষ টি এম জাকির হোসেন বলেন, তার সময়ে টি এম জাকির হোসেন, উপ-পরিচালক নামে ওই ভবনে দুই-তিনটি কক্ষ বাড়ি ভাড়া ভাতার ৪০% ভাড়ায় মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দেয়। অনেক লেখালেখির পরে এই বরাদ্দ পাওয়া যায়। উপ-পরিচালক হিসেবে যিনি আসবেন তিনি থাকতে পারবেন কিনা তা তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

মাউশি খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক নিভা রাণী পাঠক বলেন, বরাদ্দের সকল কাগজপত্র রয়েছে। কোনো সমস্যা নেই। তিনি এখানে থাকতে চান না। এ কারণে দায়িত্ব পাওয়ার তিনমাস পরে এখানে বসবাস শুরু করেন। দুইদিন পরে যোগাযোগ করতে বললে তখন তিনি বিষয়টি নিয়ে পত্রিকার ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলতে চান। এর পর থেকে বারবার চেষ্টা করেও তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মাউশি খুলনা অঞ্চলের পরিচালক শেখ হারুনর রশীদ বলেন, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তাদের আবাসিক থাকা উচিত নয়। কক্ষ সঙ্কটের কারণে দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘœ ঘটে। এমনকি একটি কক্ষে ৪-৫ জন কর্মকর্তাকে কাজ করতে হয়।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর শামসুল হুদা বলেন, বরাদ্দের কারণে দাপ্তরিক কাজে কোনো ধরনের সমস্যা হলে এবং আবাসিক বাতিলের আবেদন থাকলে তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ