মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয় থেকে জেলা আমীর-সেক্রেটারিসহ ৮ জনকে আটক ॥ জেল হাজতে প্রেরণ

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা: চুয়াডাঙ্গা পুলিশ নাশকতার কথিত পরিকল্পনার অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, জেলা সেক্রেটারি ও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট রুহুল আমিনসহ ৮ জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জস্থ জেলা জামায়াত কার্যালয় থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় কার্যালয়ে ব্যবহৃত ১টি ল্যাটপ, ৪টি মোটর সাইকেল, ডিস্ক ও বইপত্র জব্দ করে।

আটককৃত অন্যান্যরা হলেন- জেলা জামায়াতের আইন বিষয়ক স¤পাদক ও জেলা বারের নির্বাহী সদস্য এডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, জেলা শুরা সদস্য কাওয়েম উদ্দীন হিরক, শরীফ হাসান, জব্বার উর রহমান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাহফুজ রহমান ও অর্থ বিষয়ক স¤পাদক হুমায়ন কবির। 

রাতে এক প্রেস বিফ্রিং এ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডের উদ্দ্যেশে বুধবার রাতে চুয়াডাঙ্গা শহরের কেদারগঞ্জ এলাকার একটি বাড়িতে ২০/২৫ জন গোপন বৈঠক করছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ রাত ৮টার দিকে ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশি অভিযান টের পেয়ে বেশ কয়েকজন পালিয়ে গেলেও আটক করা হয় চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল হক মালিক, সেক্রেটারি এডভোকেট রুহুল আমিনসহ ৯ জনকে। পরে বাড়িটির বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ ৫টি ককটেল, টি ল্যাপটপ, ১৩টি মোবাইল ফোন, ৪টি মোটর সাইকেল ও বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই উদ্ধার করে। 

তবে জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট রুহুল আমিনের সাথে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ শেষে নেতৃবৃন্দ কার্যালয়ে আসলে জেলা জামায়াত কার্যালয় ঘেরাও করে বিপুল সংখ্যক পুলিশ।  এ সময় তারা নেতৃবৃন্দ্বকে আটক করা ছাড়াও কার্যালয়ের ব্যবহৃত মালামাল আটক করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি তদন্ত আব্দুল খালেক দৈনিক সংগ্রামকে জানান, জামায়াত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও বিষ্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার মামলা নং-২৩, তাং ১০-১০-১৮ইং। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে নেতৃবৃন্দ্বকে পুলিশ আদালতে সোপর্দ করলে বিজ্ঞ আদালত তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এদিকে বিভিন্ন দলের সাথে জামায়াতের মতাদর্শগত মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও চুয়াডাঙ্গার রাজনীতিতে সকলদলের নিকট পরিছন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল হক মালিক ও জেলা সেক্রেটারি এডভোকেট রুহুল আমিনের অন্যরকম গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সেখানে তারাসহ ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে গ্রেফতার এড়াতে রাতেই নিরাপদ স্থানে সরে পড়ে। 

উল্লেখ্য, গত মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলার ৩ থানাতে নাশকতার অভিযোগে ১৩টি মামলায় ১০৫ জন জামায়াত নেতাকর্মীকে নামীয় আসামী এবং কয়েকশত অজ্ঞাত আসামী করে নতুন মামলা দায়ের হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ