মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেশকে মিডিয়ামুক্ত  করার ভয়ংকর চক্রান্ত 

# ১৭ অক্টোবর সাংবাদিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ 

স্টাফ রিপোর্টার: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে এবং রাস্তায় ক্যামেরা রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে সাংবাদিকরা। এ সময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর কালো আইন কার্যকর করেছে। এ আইন কার্যকর করে দেশের সকল মানুষকে নিরাপত্তাহীন করে দেয়া হয়েছে। এ আইনের মাধ্যমে মানুষের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দেশকে মিডিয়ামুক্ত করার ভয়ংকর চক্রান্ত করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণবিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে'র সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, সহ-সভাপতি মোদাব্বের হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক অর্থ সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল প্রমূখ। এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।      

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে সাংবাদিকরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে এবং রাস্তায় ক্যামেরা রেখে প্রতিবাদ জানায়। এ সময় প্রতিবাদী সাংবাদিকরা কালো আইন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লেখাসম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। এতে লেখা হয় ‘উই ওয়ান্ট প্রেস ফ্রিডম’, ‘উই ওয়ান্ট টু রাইট’, ’ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করুন’, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সাংবাদিক সমাজ মানে না’, ‘সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের কালো আইন বাতিল কর’, ‘ডাউন উইথ দ্য ড্রাকোনিয়ান (অতিশয় কঠোর ও নির্মম আইন) ডিজিটাল সিকিউরিটি এ্যাক্ট’ ইত্যাদি বিভিন্ন ধরণের স্লোগান।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কিত আইন। এ আইন কার্যকর করে সরকার সাংবাদিকসহ দেশের ষোল কোটি মানুষকে নিরাপত্তাহীন করে দেয়া হয়েছে। এই কলঙ্কিত আইন সাংবাদিক সমাজ মানে না। কেননা এ আইনের কারণে কেউ স্বাধীনভাবে লিখতে ও বলতে পারবে না। স্বাধীন দেশে এমন আইন বাস্তবায়ন হতে পারে না। এ আইন দেশের সংবিধান বিরোধী। এ আইন মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, বাক-স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পরিপন্থী। এ আইন বাতিলের দাবিতে আমরা রাজপথে আছি এবং থাকবো। যতদিন এ আইন বাতিল না হবে ততদিন আন্দোলন চলবে।

তিনি বলেন, কিছুদিন পরে জাতীয় নির্বাচন, এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার এই ডিজিটাল আইন কার্যকর করেছে। যাতে নির্বাচনে সরকারের দুর্নীতি, ভোট চুরি, আগের দিন সিল মারা কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করতে না পারে তার জন্য এই আইন করা হয়েছে। এ আইন ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের ষোল কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করবে। তিনি এই আইন বাতিলের দাবিতে জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।

শওকত মাহমুদ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দেশকে মিডিয়ামুক্ত করার ভয়ংকর চক্রান্ত করা হয়েছে। সরকার বলছেন এই আইন শুধু অনুসন্ধানমূলক নিউজ এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে কিন্তু আসলে এই আইন করা হয়েছে জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার জন্য। আর সব ধরনের নিউজের ক্ষেত্রে যাতে কেউ এই সরকারের কুকর্মের কথা প্রকাশ করতে না পারে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এ আইন করা হয়েছে যাতে সরকারের কুকর্ম প্রকাশ করতে না পারে। অতি সহজে যাতে সরকার ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো ঘৃণিত আইন পৃথিবীর কোথাও আছে কিনা- আমার জানা নেই। এ আইনে কেউ স্বাধীনভাবে লিখতে পারবে না। কারো কাছে ই-মেইল আসলে বা কেউ পাঠালে সেটা যদি সরকারের বিরুদ্ধে যায় তাহলে তাকে সাজা পেতে হবে। রিপোর্টার হিসেবে স্বাধীনভাবে লিখতে পারবে না। এ আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিরোধী মতের মিডিয়াগুলোকে অপসারন করা হবে। এমন কালো আইন সাংবাদিক সমাজ মানবে না। এসময় তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দেলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া অফিসে ঢোকা যাবে না। তাদের লিস্টেড সাংবাদিক ছাড়া কেউ ঢুকতে পারবে না। এতে করে কোনো নিউজ সাংবাদিকরা করতে পারবে না। ফলে মালিকরা বলবে আমাদের আর সাংবাদিকদের দরকার নেই। ফটো সাংবাদিকরা অনুমতি ছাড়া কোনো সরকারি স্থাপনার ছবি তুলতে পারবে না। পত্রিকায় পিআইডির ছবি ছাপানো ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না। সকল পর্যায়ের সাংবাদিকদের রুটি রুজির জন্য বাঁধা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। কোনোভাবেই সাংবাদিক সমাজ এ আইন মেনে নিতে পারে না।   

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এই আইন দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম আইন। মানব শাসিত সমাজে এ আইন কল্পনাও করা যায় না। এ ড্রাকুনিয়াল খ্যাত আইন স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং বাক স্বাধীনতার জন্য একটি বড় হুমকি। সাংবাদিকদের ভাগ্য এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করবে। পুলিশের দ্বারা আইনটি অপব্যবহারের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। তাই ফ্যাসিবাদি সরকারের এ কালো আইন দেশের মানুষ মানতে বাধ্য নয়। 

শহিদুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কালো আইন কার্যকর করা হয়েছে। অবিলম্বে এ আইন বাতিলের আহ্বান জানাচ্ছি। তা নাহলে এর পরিণতি ভালো হবে না। এ আইন বাতিলের দাবিতে আমরা রাজপথে আছি এবং থাকবো।  

এম এ আজিজ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এ ভূখ-ের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আইন। এ আইন বলবৎ থাকলে  কেউ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে না। সমাজের কোনো অন্যায় কেউ জানতে পারবে না। গণতন্ত্র থাকবে না। বাক-স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্যই সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর করেছে। এত নিকৃষ্ট আইন বিশ্বের আর কোথাও নেই। সাংবাদিক সমাজ ঘৃণা ভরে এ কালো আইন প্রত্যাখ্যান করছে। এই কালো আইন, আইনের শাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটাবে। অবিলম্বে এ আইন বাতিল করতে হবে।  

কর্মসূচিঃ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ১৭ অক্টোবর (বুধবার) বেলা ১১ টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী। সমাবেশে তিনি সকল সাংবাদিকদের উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ