বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ছড়া

নানা ও খোকার কান্ড

সায়ীদ আবুবকর

 

বললো নানা হেসে

খোকার কাছে এসে,

‘ও নানাভাই, দেখি তোমার দন্ত যাচ্ছে নড়ে,

কিছু যাচ্ছে পড়ে,Ñ

তাহলে কি আমার মতোই হয়ে যাচ্ছো বুড়ো

এই বয়েসে? এই সেরেছে! রুই-কাতলার মুড়ো

কিংবা খাসির হাড্ডি তুমি কেমনে তবে খাবে?

কোন্ মুখেই বা ঘাড় ফুলিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাবে?”

ছোট্ট খোকন “দুষ্টু!” বলে ধরে নানার দাঁড়ি,

“তোমার সাথে আর কথা নেই, আড়ি! আড়ি! আড়ি!”

 

নানী এসে গর্জে ওঠে, “এই যে বুড়ো সঙ,

জোয়ান সাজতে সকালবিকাল চুলে লাগাও রঙ;

একটুও তাও লজ্জা হয় নাÑ উল্টে এসে লাগো

আমার ছোট্ট ভাইয়ের পাছে! ভাগো বলছি, ভাগো!”

“ও বাবা গো মাগো” বলে নানা দিলো দৌড়।

ফোকলা দাঁতে হাসে খোকা, “চোর পালালো চোর!”

 

 

শরৎ এলে

চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

 

শরৎ এলে দোল খেয়ে যায়

সাদা কাশের বন,

তুলোর মতো মেঘগুলো সব

উদাস করে মন।

 

শরৎ এলে শিশির ভেজা

ঘাসের ডগাই হাসে,

মাঠে মাঠে পাগলা হাওয়ায়

সবুজ ফসল ভাসে।

 

শরৎ এলে শাপলা শালুক

নদীর জলে ফোটে,

দুষ্টু ছেলে সাঁতার কেটে

অমনি সেদিক ছোটে।

 

শরৎ এলে পাখির গানে

জুড়ায় সবার প্রাণ,

আকুল করে শিউলি টগর

জুঁই চামেলীর ঘ্রাণ।

 

শরৎ এলে জোনাক মেয়ে

ছড়ায় শুধু আলো

এই শরতে আনন্দ ঢেউ।

তাইতো লাগে ভালো।

 

 

জাতীয় কবি

কবির কাঞ্চন

 

গানের কবি সুরের রবি

জাতীয় কবি দুখু

‎কবির চোখে শ্যামল ছবি

এদেশের ‎সবটুকু।

 

বেঁচে থাকার সংগ্রামে যাঁর

কাটলো শৈশববেলা

কবিতা আর গল্প গানে

খেলেন বিজয়খেলা।

 

শাসক যখন শোষক হয়ে

প্রজার ক্ষতি করেন

মানবতার কবি তখন

প্রতিবাদে জড়েন।

 

অত্যাচারীর বিরুদ্ধে যার

কলম ছিল সরব

মনের ভাষা লিখে তিনি

হলেন বাংলার গরব।

 

শরতের হাওয়া

নুশরাত রুমু

 

সকাল বেলা শিউলি দেখে

প্রাণটা নেচে ওঠে

নীল আকাশে মেঘেরা সব

এদিক সেদিক ছোটে।

 

ঝলমলে রোদ দিনের শুরু

হঠাৎ নামে বৃষ্টি

লুকোচুরি সূর্য-মেঘের

রংধনু হয় সৃষ্টি।

 

কাশের বনে বেড়াই ঘুরে

প্রজাপতির সাথে

শরতের এই মিষ্টি হাওয়ায়

মন খুশিতে মাতে।

 

 

খুকির বই

জিল্লুর রহমান পাটোয়ারী

 

খুকির বইয়ে রঙ্গিন ছবি,

দেখতে ভীষণ ভালো 

পড়ছে খুকি মন ভরিয়ে,

ঘর করিয়ে আলো।

 

খুকির বইয়ে আছে অনেক,

নতুন নতুন ছড়া 

পড়তে খুকির ভালো লাগে,

সেগুলো মন কাড়া।

 

একদিন খুকি বড় হবে,

পড়বে অনেক বই 

ছোট্ট মনে খুকি হাসে

বই নিয়ে হৈচৈ।

 

খুকির মনে অনেক আশা,

চায় সে ভালোবাসা 

বাবা মায়ের ঘুচাবে দুখ,

এটাই খুকির আশা।

 

 

মোনাজাত

মোহাম্মদ আলীম-আল-রাজী

 

প্রভুর দরবারে

করি মোনাজাত,

ক্ষমা করো পাপ

তুলেছি দুই হাত।

 

দো-জাহান মালিক

তুমি আমার রব,

দিয়েছো রিযিক

তুমি আমার সব।

 

জীবন আর মৃত্যু

হাশরের দিনে,

রক্ষা নাহি পাব

তুমি যে বিনে!

 

দিয়েছো সম্মান

নিতে পার কেড়ে,

সব তোমার ইচ্ছে

যেন থাকি তরে।

 

 

কাশফুলের গন্ধ

আলাউদ্দিন হোসেন

 

শরৎ নেমেছে বিলের পাড়ে

পানকৌড়ির মেলা 

নদীর জলে ভেসে বেড়ায়

শুভ্র হাসির ভেলা।

 

শরৎ নামে স্বচ্ছ জলে

খলসে পুটির ঝাঁক

কাশফুলে ছেয়ে গেছে

সকল নদীর বাঁক।

 

শরৎ নামে বাংলাজুড়ে

ছড়িয়ে দিতে রুপ

কাশফুলের রুপের ছোয়ায়

মুগ্ধ হলাম খুব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ