শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে ফিলিস্তিন

স্পোর্টস রিপোর্টার : বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক ফুটবলের উঠতে পারলোনা স্বাগতিক বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ফিলিস্তিনের কাছে হেরে যাওয়ায় স্বপ্ন ভঙ্গ হলো এ দেশের ফুটবলপ্রেমীদের। আগামীকাল শুক্রবার ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফাইনালে তাজিকিস্তানের মুখোমুখি হবে ফিলিস্তিন। এর আগে মঙ্গলবার প্রথম সেমিফাইনালে ফিলিপাইনকে হারায় তাজিকিস্তান। গতকাল বুধবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ফিলিস্তিন। ফলে কক্সবাজারের বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের স্তব্দ করে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা ফিলিস্তিনের সঙ্গে সমান লড়াই করেও গোল করতে না পারার ব্যর্থতায় ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৯৩ ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিন। র‌্যাংকিংয়ের সেই পার্থক্যের ছিটেফোঁটও ছিল না মাঠে। বল দখলের লড়াই ছিল প্রায় সমানে সমান- ফিলিস্তিন ৫১ ও বাংলাদেশ ৪৯। পুরো ম্যাচেই তীব্র লড়াই করেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি জীবন-সুফিলরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট দশেক আগে বিপলুর পরিবর্তে কোচ মাঠে নামান কক্সবাজারের ছেলে তৌহিদুল আলম সবুজকে। দুই স্ট্রাইকার ব্যবহার করেও গোল বের করতে পারেনি বাংলাদেশ।

প্রথমার্ধে ফিলিস্তিন ১-০ গোলে এগিয়েছিল। আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে খেলা শুরু হলেও আট মিনিটেই বালাহ’র গোলে এগিয়ে যায় ফিলিস্তিন। ডান দিক দিয়ে ঢুকে বাতাত গোলমুখে যে ক্রস নেন তাতে অনেকটা অরক্ষিত জায়গায় দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ বালাহ ঠা-া মাথায় হেডে দ্বিতীয় পোস্ট দিয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে ১-০। বাংলাদেশ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ঠিমমতো পাহারায় রাখতে পারেননি বালাহকে। দুই মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো ফিলিস্তিনের। সৌভাগ্য বাংলাদেশের, জরিল্লার ক্রসে দীর্ঘদেহী আলবাদারির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিলিস্তিন দুই সুযোগের প্রথমটি কাজে লাগিয়ে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ তার চেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েও কাজের কাজটি করতে পারেনি। গোলটা করবেন কে? বাংলাদেশের ফুটবলের এ প্রশ্নটা আবারো বড় হয়ে দেখা দিলো বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে। সমতায় আসার মতো প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ৪৫ মিনিটে বাম দিক থেকে ওয়ালির ক্রস গোলমুখে পড়লে লাফিয়ে বল-মাথায় সংযোগ ঘটাতে পারেননি জীবন। পরের মিনিটে ম্যাচের সহজ সুযোগ পান সেই জীবন। এবার ডান দিকে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে একা পেয়ে কোনাকুনি শট নিলে তা কাঁপায় সাইডনেট।

বাংলাদেশের আক্রমণগুলোর বেশিরভাগ ভেস্তে গেলো জীবনের ব্যর্থতায়। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে বিশ্বনাথের ক্রসে ভালো সুযোগ আসলে ঠিকমতো হেড নিতে পারেননি তিনি। দুই মিনিট পরই দ্বিতীয় গোল পেতে যাচ্ছিল ফিলিস্তিন। এ যাত্রা দলকে বাঁচিয়েছেন ডিফেন্ডার তপু বর্মন। খালেদ সালেম ছোট বক্সে ঢুকলে দুর্দান্তভাবে বল ক্লিয়ার করেন তপু। শেষ দিকে একের পর এক আক্রমণ করেও গোল আদায় করতে পারেনি। তবে অলআউট খেলতে গিয়ে ইনজুরি সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। তাতেই বেজে উঠে বাংলাদেশের বিদায় ঘণ্টা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ