বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লৌহজংয়ে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে উধাও দুই প্রতারক

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা : ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পরে ভাংতি নেওয়ার কথা বলে কৌশলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে দুই প্রতারক। এ ঘটনা ঘটেছে লৌহজং উপজেলার সোনালী ব্যাংক হলদিয়া বাজার শাখায়।
গত রোবাবর দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে ব্যাংকের গ্রাহক হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলিয়া গ্রামের রওশনারা বেগম তার একাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা তোলে। এ সময় ব্যাংকে থাকা দু’জন যুবক রওশনারা বেগমের কাছে এসে টাকা ভাঙানোর কথা বলে। ‘আপনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকার নোটগুলা আমাদের দিলে খুবি উপকৃত হতাম। আমাদের কাছে ১০০ টাকার নোট’। তাদের আকুতি মিনুতি শোনে মহিলাটি তার হাতে থাকা ৫০ হাজার টাকার বান্ডিলটি তুলে দেন তাদের হাতে। এবং এ সময় দুই প্রতারক তাদের হাতে থাকা ১০০ টাকার ৮০টি নোট মহিলাটির হাতে দিয়ে গুনে নিতে বলে।
মহিলাটির টাকা গুণার ফাঁকে সেখান থেকে প্রতারণা করে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ওই দুই প্রতারক।
রওশনারা বেগম বলেন, আমাকে শেষ করে দিয়েছে। আমি ভালোর জন্য টাকা ভাংতি দিতে চাইলাম আর আমাকে খুন করে দিয়ে গেলো। আমি এখন কি করবো। উপকার করাটাই বুঝি আমার কাল ছিলো। আমি তো গরীব মানুষ। কেন আমার সাথে এমন হলো? অনেক কষ্টের টাকা ছিলো আমার। তিলে তিলে জমানো টাকা- এমন করে প্রতারক নিয়ে যাবে তা ভাবতেও পারিনি , বলে ব্যাংকের ভিতরেই চিৎকার করে কান্না করছিলো রওশনারা।
উপজেলার সিংগেরহাটি গ্রামের ব্যাংকের আরেক গ্রাহক জিয়াসমিন বেগম জানান, কিছুক্ষণ আগে আমার কাছে দুজন লোক এসে বলেছে টাকা ভাঙ্গানোর কথা কিন্তু আমি দেইনি। তাদের বর্ণনা জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, দেখতে তো ভদ্র লোকের মত দেখা যায়। একজনের মুখ ভর্তি দাড়ি গায়ের রং ফর্সা, আরেক জন লম্বা, মোটা দেখতে।
 সোনালী ব্যাংক হলদিয় শাখার ম্যানেজার হারুর অর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার কাছে কিছু লোক অভিযোগ দিয়ে গেছে। আমাদের ব্যাংকে যদি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকতো তাহলে প্রতারকদের সনাক্ত করা সহজ হতো।
আমরা হেট অফিসের অনেকবার আবেদন করেছি। এখন যদি তারা সিসিটিভি ক্যামেরা না দেন তাহলে আমরা কি করতে পারি।
 লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লিয়াকত আলী শেখ জানান, আমরা এমন কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অব্যশই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ