রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রংপুর সুরভী উদ্যানকে শিশু বান্ধব পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (রংপুর) থেকে : রংপুর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানকে শিশু বান্ধব পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহন করেছে রংপুরের জেলা প্রশাসন। এজন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। 
কর্মসূচির আওতায় ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য অত্যাধুনিক রাইড সংযুক্ত করে শিশু বিনোদনের জন্য মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলার  লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সুরভী উদ্যানকে নতুন করে সাজাতে ৬৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৪ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের বসতি রংপুর জেলায়। এখানকার মানুষের বিনোদনের জন্য সরকারী-বেসরকারীভাবে বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা, ভিন্ন জগৎ, চিকলি বিল, ঘাঘট সেনা বিনোদন পার্ক, আনন্দনগর হলেও সেখানে শিশুদের বিনোদনের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত রয়েছে। এসবের মধ্যে যেটুকু রয়েছে সেটিও আবার কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিকীকরণের দিকটি প্রাধান্য দিয়েছে। জেলার শিশুদের বিনোদনের জন্য দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সচেনতন মহলসহ শিশু সংগঠনগুলোর।
অবশেষে বর্তমান জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে শিশুদের জন্য রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানটি শিশু বিনোদনের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হচ্ছে । শুধু তাই নয় ওয়াকওয়ে তৈরি করে সবার জন্য পায়ে চলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এখানে। প্রায় ৫ একর জমির উপর ১৯৯০ সালে সুরভী উদ্যানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এ এস এম  মোবাইদুল ইসলাম। এরপর ১৯৯৮ সালে বৃক্ষ রোপণ এবং এর উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোয়াজ্জেম হোসেন। মূলত শিশুদের জন্য নগরীর মাঝখানে এ উদ্যানটি তৈরী করা হয়েছে। এর পর দীর্ঘ দিন অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা সুরভী উদ্যানটি গাছের ঝোপের আড়ালে উদ্যানের বিভিন্নস্থানে মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ এবং অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০১৪ সালে সুরভী উদ্যানকে শিশুবান্ধব করতে উদ্যোগ নেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক ফরিদ আহম্মদ। নতুন করে প্রধান ফটক নির্মাণ করান, এতে শিশুদের বিভিন্ন খেলার সামগ্রী সংযোজন করা হয়। পরবর্তিতে জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার সুরভী উদ্যানকে একটি অত্যাধুনিক ও দৃষ্টি নন্দন শিশু পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
সুরভী উদ্যানকে ঢেলে সাজাতে অভ্যন্তরীণ সড়ক, দৃষ্টিনন্দন বাঁশের ছাউনি তৈরী, জঙ্গল এবং পুকুর সংস্কার করে এর উপরে  ছোট সেতু নির্মাণ। পরবর্তিতে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান সুরভী উদ্যানের কাজ এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করলেও অর্থের অভাবে তা থমকে যায়। ইতোমধ্যে সাবেক জেলা প্রশাসক  ওয়াহিদুজ্জামান পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।
এরপর তিনি চলতি বছরে এর উন্নয়নে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সুরভী উদ্যানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক রংপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান সুরভী উদ্যান পরিদর্শন করে তা ঢেলে সাজাতে নবাগত জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবকে নির্দেশনা দিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ