বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমি ইজারা নিয়ে পৌরসভা ও প্রশাসনের দ্বন্দ্ব

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনটি বাজারের সরকারি সম্পত্তি লিজ দেয়া নিয়ে পৌরসভা ও প্রশাসনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। পৌর এলাকার আনন্দ বাজার, গোকর্ণঘাট বাজার ও বর্ডার বাজারের খাস ভূমি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ব্যক্তিখাতে লীজ প্রদান করেছেন বলে পৌরসভার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে পৌরসভার মাহবুবুল হুদা সম্মেলন কক্ষে পৌর মেয়র নায়ার কবির এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জনস্বার্থে অবিলম্বে ব্যক্তিমালিককে দেয়া এসব লীজ স্থগিত করে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌর মেয়র নায়ার কবির বলেন, ‘পৌর এলাকার দেড়শ বছরের পুরোনো আনন্দ বাজার, গোকর্ণঘাট বাজার ও মধ্যপাড়া বর্ডার বাজারটি ২০০৯ সালের গেজেট ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ি বছরের পর বছর ধরে পৌরসভা ইজারা দিচ্ছে। তবে সম্প্রতি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) সরকারি গেজেট ও নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করে পৌর কর্তৃপক্ষকে পাশ কাটিয়ে ওইসব বাজারের বিভিন্ন অংশ ব্যক্তির কাছে ইজারা প্রদান করেছেন। এতে পৌরসভার ইজারা প্রদান প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ব্যবসায় ধস নামার পাশাপাশি ক্রেতাদেরকেও ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার উপস্থিত থেকে ওই ইজারা বাতিলের দাবি জানান। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহি বাজারের কোটি কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস ভূমি তথা “তহ বাজার” ব্যক্তিখাতে লীজ দেওয়ার বিষয়ে পৌরসভা জড়িত নয় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীও অবগত নন।’
এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ সোহেল রানা বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের মতামত নিয়ে কাগজপত্র তৈরী করে ইউএনও’র কাছে পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে আমি ইজারা দেয়ার কেউ না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আইন অনুসারে জেলা প্রশাসক বাজারের ওইসব সরকারি সম্পত্তির মালিক। নিয়ম অনুসারেই সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি লিজ দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,‘ এসিল্যান্ডের অফিস থেকে আমার কাছে লীজের কাগজপত্র আসার পর আমি কাগজপত্র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। লীজ দেওয়ার কোন এখতিয়ার আমার নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ  কেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন তা আমি বুঝতে পারছি না।’
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান গতকাল রবিবার বিকেলে বলেন, ‘ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুসারে ওইসব বাজার লিজ দেয়া হয়েছে। তারপরও যদি কোনো বিষয় থাকে তাহলে পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা যেতে পারে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ