শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

শান্ত-মিজানুরের সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর দাপট

স্পোর্টস রিপোর্টার : ঘরোয়া ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেই চলছেন রাজশাহীর ডানহাতি ওপেনার মিজানুর রহমান। ডিপিএল, এনসিএল বা বিসিএল-সবখানেই ছোটাচ্ছেন রানের ফোয়ারা। সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন চলতি এনসিএলেও। চলতি জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে খুলনার বিপক্ষে খেলেছিলেন ১১৫ রানের ইনিংস। যার ফলে তার ব্যাটিং  দেখতে পরের রাউন্ডে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। প্রধান নির্বাচককে হতাশ করেননি ২৭ বছর বয়সী মিজান। প্রথম রাউন্ডে করা ১১৫ রানের ইনিংসকে পার করে খেলেছেন  দেড়শ রানের ইনিংস। সম্ভাবনা ছিলো ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার। তবে রংপুর বিভাগের পেস বোলিং অলরাউন্ডার আরিফুল হকের  বোলিংয়ে উইকেটের পেছেন লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৬৫ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন মিজান। উদ্বোধনী জুটিতে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে গড়েছেন ৩১১ রানের জুটি। অবশ্য নাজমুল হোসেন শান্তও গতকাল দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন। মিজানের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ১১তম এবং নাজমুল শান্তর ৬ষ্ঠ  সেঞ্চুরি এটি। জাতীয় ক্রিকেট লিগে এই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তু ও মিজানুর রহমানের সেঞ্চুরিতে রংপুরের বিপক্ষে রানের পাহাড় গড়েছে রাজশাহী। জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রথম স্তরের দ্বিতীয় রাউন্ডের অন্য ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে খুলনা লড়াই করছে মোহাম্মদ মিঠুনের পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংসে। আর বৃষ্টিতে ভেসে গেল চট্টগ্রাম-সিলেট ম্যাচের দ্বিতীয় দিন। 

শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে রংপুরকে ১৫১ রানে গুটিয়ে দিয়ে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৯৯ রানে দিন শেষ করেছিল রাজশাহী। স্বাগতিকরা আরও প্রায় দুই সেশন উইকেট হারায়নি। মিজানুর ও শান্তর তিনশ ছাড়ানো জুটিতে ২ উইকেটে ৪১৯ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে রাজশাহী। ৮ উইকেট হাতে রেখে ২৬৮ রানের লিড তাদের। শান্ত ৩৭ ও মিজানুর ৫৯ রানে অপরাজিত থেকে গতকাল ক্রিজে নামে। ১০৮ বল খেলে ফিফটিতে  পৌঁছান শান্ত। আর মিজানুর ১১৯ বলে ১৪টি চারে করেন সেঞ্চুরি। লাঞ্চের পর শান্তও সেঞ্চুরির দেখা পান, ১৯৯ বলে ১৩টি চারে। দুই ওপেনার ক্রিজে ছিলেন অদম্য। যাতে দেড়শ রানের কোটাও পার করেন তারা। কিন্তু হয়নি ডাবল সেঞ্চুরি। মিজানুরকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান আরিফুল হক। ২১৬ বলে ২২ চারে ১৬৫ রান করেন রাজশাহী ওপেনার। ৩১১ রানের এ জুটি ভাঙার মধ্য দিয়ে শেষ হয় দ্বিতীয় সেশন। ২৭০ বলে ১৫০ রান করা শান্ত আউট হন শেষ  সেশনের মাঝামাঝি সময়ে। তাকে ১৭৩ রানে বদলি ফিল্ডার সন্দীপ সাহার ক্যাচ বানান মাহমুদুল হাসান। তার ২৩ চারের ইনিংস ছিল ৩১৩ বলের। জুনায়েদ সিদ্দিকীর সঙ্গে ৫৩ রানের জুটি গড়েন শান্ত। জুনায়েদ ও ফরহাদ হোসেনের ৫৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে চারশ  পেরিয়ে গেছে রাজশাহী। ৩৯ রানে জুনায়েদ, আর ২৬ রানে  খেলছেন ফরহাদ।

খুলনা-বরিশাল: দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে শেষ দুটি উইকেট হারিয়ে আর মাত্র ৩৩ রান যোগ করে বরিশাল। প্রথম ইনিংসে তারা অলআউট হয় ২৯৯ রানে। জবাবে ৬ উইকেটে ১৯৯ রানে গতকাল খেলা শেষ করেছে খুলনা। দিনের ষষ্ঠ বলেই মনির হোসেন আউট হলে কামরুল ইসলাম রাব্বিকে নিয়ে ৩১ রানের শেষ জুটি গড়েন নুরুজ্জামান। ৪৮ রানে খেলতে নেমে তিনি আউট হন ৭৪ রানে। খুলনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি ৩টি করে উইকেট নেন আব্দুর রাজ্জাক ও আল আমিন হোসেন। জবাবে রাব্বি ও সোহাগ গাজীর বোলিংয়ে মাত্র ৮৮ রানে ৫ উইকেট হারায় খুলনা। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মিঠুনের ১০৬ রানের জুটিতে এই বিপদ কাটিয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। মিঠুন ৭২ রানে সাজঘরে ফিরলেও জিয়াউর হাফসেঞ্চুরির  দোরগোড়ায়। ৪৬ রানে অপরাজিত তিনি। অপর প্রান্তে ৯ বল  খেলেও রানের খাতা খোলেননি আফিফ হোসেন। রাব্বি ও সোহাগ দুটি করে উইকেট নেন বরিশালের হয়ে।

চট্টগ্রাম-সিলেট ম্যাচ বৃষ্টির কবলে: এদিকে বৃষ্টিতে ভেসে গেল চট্টগ্রাম-সিলেট ম্যাচের দ্বিতীয় দিন।  চলতি জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ডে ঢাকা বিভাগের কাছে বেশ বড় ব্যবধানেই হেরে যায় চট্টগ্রাম বিভাগ। দ্বিতীয় স্তর থেকে প্রথম স্তরে উন্নীত হতে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে জয় ব্যতীত কিছু ভাবার উপায় ছিলো না তাদের। সে লক্ষ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডে ঘরের মাঠে সিলেট বিভাগকে আতিথ্য দিয়েছে চট্টগ্রাম। তবে তাদের জয়ের পথে বড় বাঁধা হয়ে যেতে পারে বৃষ্টি। অন্তত এমনটাই বলছে চট্টগ্রামের আবহাওয়া। যে কারণে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন পুরোটাই ভেস্তে গেছে বৃষ্টির কবলে। ফলে ম্যাচে অবস্থা রয়েছে যেমনটা তেমনই। প্রথম দিনে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান করেছিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনে একটি বলও মাঠে না গড়ানোয়, স্কোর রয়ে গেছে এটিই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ