শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

এশিয়া কাপে খেলতে সাকিবকে জোর করা হয়নি --------------পাপন

স্পোর্টস রিপোর্টার : এশিয়া কাপে খেলার জন্য সাকিবকে কোনো প্রকার জোর করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গতকাল সকালে নিজ বাসভবনে তিনি একথা বলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ করে দেশে ফিরে আঙ্গুলের অস্ত্রোপচারের কথা জানিয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি চেয়েছিলেন অস্ত্রোপচার এশিয়া কাপের পর হোক। পরে অবশ্য সিদ্ধান্তের ভার সাকিবের ওপরই ছেড়ে দেন। শেষ পর্যন্ত সাকিব অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং চোট নিয়েই এশিয়া কাপ খেলতে যান। তবে ঝুঁকি নিয়েই এশিয়া কাপে খেলতে গিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। ফলাফল মোটেও ভালো কিছু হয়নি। সাকিবের ইনজুরি আক্রান্ত আঙ্গুলটাই পড়ে গেছে মহা ঝুঁকিতে। যা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না বলে নিজেই বলেছেন সাকিব। বিসিবি সভাপতি পাপন বলেন, ‘এশিয়া কাপে খেলার জন্য সাকিবকে ফোর্স করা হয়নি। সে নিজে থেকেই খেলেছে। ডাক্তার এবং ফিজিও সবার পরামর্শ নিয়েই খেলেছে। তা ছাড়া এশিয়া কাপ খেলতে গিয়েই এমন হয়েছে তা কিন্তু নয়।’ অবশ্য সাকিবের আঙ্গুলের চোটটা পুরোনো। এ বছর শুরুর দিকে ত্রিদেশীয় সিরিজে আঙ্গুলে চোট পান সাকিব। পরে শ্রীলংকায় নিদাহাস ট্রফির শেষ দিকে ফিরেন। দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও খেলেছেন ভালোভাবে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোটটা মাথাচাড়া দেয়। যে কারণে ব্যথানাশক ইনজেকশন দিয়ে খেলতে হয়েছে সাকিবকে। এরপর এশিয়া কাপেও ব্যথানাশক ইনজেকশন ব্যবহার করে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। ৪টি ম্যাচও খেলেন। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের দিন দেশে ফিরে আসতে হয়। আঙ্গুলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ভর্তি হতে হয় হাসপাতালেও। বর্তমানে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট ও টি- টোয়েন্টি অধিনায়ক। নাজমুল হাসান পাপনের অনুরোধ সিদ্ধান্ত পাল্টে এশিয়া কাপ খেলতে গেছেন এবং বিশ্রাম না নিয়ে এশিয়া কাপ খেলার কারণেই আঙ্গুলে এতবড় ইনফেকশন। এখন সেই ইনফেকশন তার আঙ্গুলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। অন্তত আড়াই থেকে তিন মাস খলতে পারবেন না। তারপরও আঙ্গুল সম্পূর্ণ ভালো হবে না। মোটকথা, ইচ্ছার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপ খেলতে গিয়েই কঠিন ইনজুরির শিকার সাকিব। কার দোষে সাকিবের এ অবস্থা? নাজমুল হাসান পাপন বলেন, ‘নাহ; এখানে সে অর্থে কেউ দোষী নয়। কারো চাপে কিংবা অনুরোধে সাকিব এশিয়া কাপ খেলতে নামেনি। সে নিজের ইচ্ছে এবং গরজেই খেলেছে। ডাক্তার এবং ফিজিও- সবার পরামর্শ নিয়েই খেলেছে।’ এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। যে কারণে ২০১৮ সালের অক্টোবর-নবেম্বর থেকে পিছিয়ে আগামী বছর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়ে রয়েছে। আগামী ৫ জানুয়ারি বিপিএল শুরুর দিন তারিখ চূড়ান্তও করা আছে। এরপরও বিপিএল নিয়ে আছে নানা চাপা গুঞ্জন। অনেকেরই প্রশ্ন, আচ্ছা এবার কি সত্যিই বিপিএল অনুষ্ঠিত হবে? বাংলাদেশ জাতীয় দলের আবার ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে নিউজিল্যান্ড সফর। এমন প্রশ্নও আছে, বিপিএল কি সত্যিই জানুয়ারিতে শুরু হবে? কিংবা শুরু হলেও পূর্ব নির্ধারিত সময়েই হবে? তবে বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন জানিয়ে দিলেন, বিপিএল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। এমনকি নির্বাচন পিছিয়ে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারিতে গেলেও বিপিএল পেছানো হবে না। যদি জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিছিয়ে যায়? বিপিএলের সময় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মধ্যে পড়ে গেলে, শুধু নির্বাচনের দিনটাতে খেলা বন্ধ থাকবে। বিপিএল পেছাবে না।’ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দল সাজানো নিয়েও কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। কারণ জিম্বাবুয়ের সাথে হারলে রেটিং পয়েন্ট কমে যাবে। র‌্যাংকিং নীচে নেমে যাবে। সে শঙ্কাও আছে। কাজেই শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সাথে সিনিয়রদের কাউকে বিশ্রামে রেখে নতুন কাউকে সুযোগ দেয়ায় থাকছে ঝুঁকি। তাই মনে হচ্ছিল শেষ পর্যন্ত আর দল নিয়ে কোনোরকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। নাজমুল হাসান পাপন জানিয়ে দিলেন, দল নিয়ে কিছু এক্সপেরিমেন্ট চালানো হবে। পাপন বলেন, ‘সামনে যেহেতু ওয়ার্ল্ড কাপ। সে কারণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক্সপেরিমেন্ট করা হবে। নতুনদের প্রাইমারি স্কোয়াডে এনে দেখবো। ভালো মনে হলে রাখবো- এই আরকি!’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ