বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

খুলনার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্লাস চলাকালীন সময়ে নিয়ন্ত্রণহীন শিক্ষার্থীরা

খুলনা অফিস: টিফিন পিয়িডের আগে থেকেই মাঠে শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছোটাছুটি। স্কুল ছাড়তে গেটে ভিড় তাদের ফেরাতে হিমশিম খাচ্ছে গেটরক্ষক। কোনো শিক্ষার্থী গেট দিয়ে ঝোপ বুঝে কোপ দিচ্ছে আর কেউ দেওয়াল টপকে উধাও। শিক্ষকরা বলেছেন শ্রেণিকক্ষের তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী হওয়ায় ক্লাস চললেও শিক্ষার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আর অভিভাবক সমাবেশেও অভিভাবকদের তেমন সাড়া মেলেনা। এসব কোনো নাটকের কাহিনী নয় বিরাজমান খুলনা মহানগরীর সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর সার্কিট হাউজ মাঠের পাশে অবস্থিত সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকার কথা ৯৬০ জন। ক্লাসের প্রতি শাখায় ৬০ জন হিসেবে। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ২ হাজার ৬৫৪ জন। যেখানে ক্লাসের শাখা প্রতি রয়েছে শিক্ষার্থী সংখ্যায় ভিন্নতা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী প্রায় তিনগুণ। এদিকে স্কুলটিতে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে অভিভাবকদের সাথে প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে অভিভাবক সমাবেশ করা হয়। কিন্তু সেখানেও তেমন সাড়া মেলেনা অভিভাবকদের। এদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে বলা ছাড়া তেমন কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না বলেও জানা গেছে। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে মাত্র ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে টিফিন পিরিয়ডের আগেই মাঠে শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা যায়। একই সাথে গেটেও। ওই দিনের শিক্ষক সমাবেশে ৩২২ জন অভিভাবকে দাওয়াত দেয়া হলেও হাজির হয় মাত্র ১২২ জন।
শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লাসে শিক্ষার্থীরা আসলেও নিয়মিত ক্লাস হয় না। ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা পেছন দিয়ে বের হয়ে আসে। স্যাররা কোনো খোঁজখবর রাখেন না। আর গেট দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করলে গেটরক্ষক মাঝে মাঝে মারতেও উদ্যত হয়।
অপরদিকে শিক্ষকরা বলেন, ক্লাস নিয়মিত হয়। কিন্তু ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকে। তাছাড়া ক্লাস চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীরা বাইরে থাকলেও তাদের শিক্ষকরা সেভাবে ডেকেও পারে না। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সাধারণত এক শিক্ষক ক্লাস থেকে বের হলে অন্য শিক্ষক যাওয়ার এই মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়। অভিভাবক সমাবেশে অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে ও চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত দিলেও খুব একটা আসতে চায় না।
সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঠাকুরদাস দেবনাথ বলেন, স্কুলে এ পরিমাণ শিক্ষার্থী কিভাবে ভর্তি করা হয়েছে তা তিনি জানেন না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস চলাকালীন সময়ে মাঠে থাকলে তাদেরকে ক্লাসে ফেরার জন্য তাগিদ দিলেও কথা শুনতে চায় না। তাদের বিষয়ে অভিভাবকরাও খুব বেশি আগ্রহ দেখায় না। তাদের নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কষ্টকর। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন।
এ ব্যাপারে খুলনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নিভা রাণী পাঠক বলেন, স্কুলটি বেসরকারি থাকার সময় বেশি পরিমাণে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীর পরিমাণ ঠিক থাকবে। আর ক্লাসে একটু গ্যাপ থাকলেও সে সময়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে যাবে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ