শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ময়মনসিংহের কড়ইতলী পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড়

আনছারুল হক রাসেল হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার কড়ইতলী স্থল বন্দরের পাশে বেসরকারীভাবে গড়ে তুলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পার্ক। ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের একদম কাছে বিশাল জায়গাজুড়ে গড়ে তুলা এই পার্কে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। কড়ইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোর্টার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন উদ্যোগে নির্মিত এই পার্কটি ২০১৭ সনে স্থানীয় সংসদ সদস্য জুয়েল আরেং আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। সেই থেকে পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
পাহাড়ি অঞ্চল ও মনোরম পরিবেশ হওয়ায় এখানে আগত দর্শনার্থীরাও বেশ খুশি। এখানে বাচ্চাদের জন্য রয়েছে দোলনা, ময়ুর, হরিণ, বক, জিরাফ সহ নানা প্রজাতির ভাস্কর্য। শুধু তাই নয় এখানে দুর্লভ প্রজাতির ফলজ, বনজ, ঔষধি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ রয়েছে। তাছাড়া এখানে এমনভাবে একটি কফি হাউজ তৈরি করা হয়েছে, বাংলাদেশে বসে কফি খাওয়ার সাথে সাথে সীমানার ঐ পাড়ের পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, যা দেখতে সত্যিই অসাধারণ। স্থল বন্দর এলাকা হওয়ায় ভারত থেকে আমদানী কয়লার বিশাল মজুদ রয়েছে এখানে। দেখলে মনে হয় কয়লার বড় বড় পাহাড়।
পার্কের পশ্চিম পার্শ্বে রয়েছে সরকারী গজারী বন। ব্যাপক জায়গা জুড়ে উক্ত গজারী বনের ভিতর দিয়ে হাটা দিন দুপুরেও ভয়ের কারণ হয় অনেকের। একটু হাটলেই দেখা মেলে ভারতীয় রাস্তা। ভারতীয় কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই এখানে। ভারতে উঁচু উঁচু পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা মনোমুগ্ধকর দৃশ্যগুলো উপভোগ করা যায় খুব কাছ থেকেই।
এই পার্কটিতে ঘুরতে আসা ঢাকার সাহেদ আলী বলেন, আমরা ঢাকা থেকে এই পার্কে ঘুরতে এসেছি, এখানকার যে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ যা সত্যিই অসাধারণ। আরেক দর্শনার্থী বগুড়ার এয়াকুব আলী জানান, এখানে আত্মীয়বাড়ি বেড়াতে এসে এই পার্কের কথা শুনে দেখতে আসি, এই পার্কটির চারপাশে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। এই এলাকায় এমন একটি পার্ক হওয়াতে বেশ খুশি স্থানীয়রাও।
পার্কটির উদ্যোক্তা কড়ইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোর্টার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও স্থানীয় ভূবনকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান এম.সুরুজ মিয়া বলেন, পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এখানে অনেকেই বেড়াতে আসেন। কিন্তু এখানে বসা বা প্রকৃতিটাকে ভালোভাবে উপভোগ করার জন্য কোন জায়গা ছিলো না। তারপর আমি এই উদ্যোগ নেই এখানে একটি পিকনিক স্পট করার। সেই থেকে শুরু করি কাজ। প্রায় ১ বছরের মাথায় মানুষের কাছে বেশ সাড়া পাই। আমার ইচ্ছে আছে এখানে আরো ৫ একর জমি ক্রয় করে এই পার্কটির আয়তন বৃদ্ধি করা। এই ঈদেও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো এখানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ