বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

সরকার ভীতসন্তস্ত্র বলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে -অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবনবিনাশী সকল বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও তারা সকল রাজনৈতিক দলের কাছে সুন্দরবন রক্ষায় রামপালসহ বিভিন্ন বিষাক্ত প্রকল্প বন্ধের দাবিকে তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান। আর এসব দাবিতে অক্টোবর-নবেম্বর মাসে জনসংযোগ, প্রচার ও বিভিন্ন অঞ্চলে সভার নতুন কর্মসূচি দিয়েছে। এর পাশাপাশি  আগামী ১০ নবেম্বর, নূর হোসেন দিবসে, বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ‘সুন্দরবনের জন্য বৈশ্বিক সংহতি’ পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
গতকাল শনিবার সকালে পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে জাতীয় কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একর্মসূচির ডাক দেয়া হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠন করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সংগঠক রুহিন হোসেন প্রিন্স। এসময় টিপু বিশ্বাস, বজলুর রশীদ ফিরোজ, নজরুল ইসলাম, বহ্নি শিখা জামালী, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, শামসুজ্জোহা, নাসিরউদ্দিন নসু, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন, শহীদুল ইসলাম সবুজ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে রূপপুর প্রকল্পের ব্যয়, পরিবেশ সমীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের শে^তপত্র দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আনু মুহাম্মদ বলেন, দুটো দায়মুক্তি আইন বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে রাহুর মতো চেপে আছে। এর একটি ২০১০ সালে প্রথমে ৪ বছরের জন্য বহাল করা হয়, এরপর তার মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে গৃহিত সকল প্রকল্প দরপত্র ছাড়া, বিদ্যমান আইনী বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে বাস্তবায়ন করার এখতিয়ার নেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক আদালতের দারস্থ হতে পারবে না। এই দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই একের পর এক অসম্ভব ব্যয়বহুল ক্ষতিকর প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি নির্বাচনের তফসিলের আগে এসব দায়মুক্তি আইন বাতিল, সকল রাজনৈতিক দলকে তাদের ইশতেহারে দায়মুক্তি আইন বাতিল করে সর্বজনের সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবি যুক্ত করার আহ্বান জানান। এর পাশাপাশি  সম্মেলনে ফুলবাড়ীতে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
 সম্মেলনে বলা হয় সরকার দেশী-বিদেশী লুটেরাদের স্বার্থে জাতীয় সম্পদ ধ্বংসের কর্মকা- অব্যাহত রেখেছে। একমাত্র গণআন্দোলনই জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় সরকারকে বাধ্য করতে পারে। সচেতন মানুষকে এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার নিজেদের কর্মকা-ে ভীত সন্তস্ত্র বলেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করেছে। কারণ তাদের নিজেদের মধ্যেই অপরাধী মন কাজ করছে। তারা এসব কাজের বৈধতা দিতে ডিজটিাল আইন করেছে। তবে এনিয়ে দেশের জনগণের একটি অংশের নিরবতা অস্বাভাবিক।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণকে এধরণের আইন কালাকানুন করে মৃত সৈনিকে পরিণত করতে চায়। তারা চায় জনগণকে মৃত সৈনিক বানিয়ে রাখতে। আর এর ফাঁকে তারা ভুড়িভোজের উৎসবে মেতে উঠবে। তবে এই আইনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য তিনি সম্পাদক পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে নিবর্তনমূলক বললেও তো কম বলা হয়, এটা রীতিমত একটা সন্ত্রাসী আইন। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির কারণে জনগণের বাকস্বাধীনতার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তাকে রুদ্ধ করাই এই আইনের লক্ষ্য। তাছাড়া জামিন পাবার মত মৌলিক অধিকারকে এই আইনের একাধিক ধারার মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। এটা দেশের সংবিধান, আইনের চেতনা বা মানবাধিকারের বিরোধী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ