মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা খাতা-কলমে লাখ লাখ হলেও প্রকৃতপক্ষে কয়েক হাজার!

ইবরাহীম খলিল : প্রতি বছর বাংলাদেশে আসা পর্যটকের সংখ্যা খাতাকলমে দেখানো হয় ৫ থেকে ৭ লাখ। কিন্তু পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িতরা একথা মানতে নারাজ। তারা বলছেন দেশ থেকে লাখ লাখ পর্যটক বিদেশে গেলেও দেশে আসছে একেবারেই কম। দেশে ঠিক কি পরিমাণ পর্যটক আসছে সেই হিসাব নেই পর্যটন নিয়ে কাজ করা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। পর্যটন কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে যে হিসেব পাওয়া যায় তাতে বোঝা যায় ৫ থেকে ৭ লাখ পর্যটক আসে বাংলাদেশে। এর একটি হিসেব পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাছে আছে। তবে সেই সংখ্যা ঠিক কত তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম মেলার শেষ দিন কথা হয় বিডি ইন বাউন্ডের সভাপতি ও সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজমের সভাপতি রেজাউল একরামের সঙ্গে। তিনি জানান, ট্যুরিস্ট আসলেতো ঘরে বসে থাকবে না। তারাতো হাফপ্যান্ট পড়ে বিভিন্ন স্থানে যাবে। আমি বলবো বছরে ৫ থেকে ৭ হাজার ট্যুরিস্ট এই দেশে আসে। কিন্তু এই দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে। নানা কারণে। ভ্রমণের নামে চিকিৎসা করতে যাচ্ছে। মেলায় এসে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করছে।
এদিকে দেশ বিদেশে ভ্রমণে নানা রকমের ছাড়ের ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম ফেয়ার। মেলার শেষ দিন এবং ছুটির দিন হওয়ায় ভ্রমণ প্রিয় প্রচুরসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছে। মেলায় আগত ব্যক্তিরা অনেকেই ছাড়ের জন্য বুকিং দিয়েছেন। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে স্বাস্থ্য সেবা যে যারা কাজ করছেন এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ অংশ নিয়েছে নিজেদের প্রচারের জন্য।  মেলায় নানা বয়সের দর্শনার্থী আসেন। মেলায় অধিকাংশ দর্শনার্থীই বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজ সম্পর্কে জানতে আসেন বলে জানান অনেকেই।
গতকাল মেলায় গিয়ে দেখা গেছে সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় মানুষের সমাগমও বেড়েছে। মেলায় দেশি-বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের ভ্রমণ প্যাকেজগুলোর উপড় ছাড় দিয়ে বুকিং নিয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলায় প্রায় প্রত্যেকটি স্টলেই ছাড় পাওয়া গেছে। একারণে মেলায় ছাড় পেয়ে দর্শনার্থীরাও সন্তুষ্ট। তারা জানান, দেশ বিদেশের বিভিন্ন ট্যুরিজম ও হসপিটালিটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ ট্যুরিজম বিশেষজ্ঞ ও ব্যক্তিরা এবারও মেলায় অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের পর্যটন বিষয়ক তথ্যাবলী উপস্থাপনাসহ মেলা উপলক্ষে ভ্রমণ টিকিটে মূল্য ছাড় দিয়েছে।
মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ওমরাহ প্যাকেজের উপড় ছাড় দিচ্ছে ‘গ্র্যান্ড ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস’। মেলায় বুকিং দিলেই ওমরাহ’র এক্সিকিউটিভ প্যাকেজের উপর ৭০০০ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজের উপড় ৫০০০ টাকা এবং ইকোনমি প্যাকেজের উপড় ৪০০০টাকা ছাড় পাওয়া গেছে।
মেলায় বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজের উপড় ছাড় দিচ্ছে ‘ট্যুরিজম উইন্ডো’। তাদের ভ্রমণ প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে-ভারত, নেপাল, ভূটান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বালি, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, মিসর, তুরস্ক, দুবাই, চীন, কম্বোডিয়া, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃত ভ্রমণ প্যাকেজ।
ভ্রমণ বিষয়ক বই নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছিল পালক পাবলিকেশনস। বিক্রেতা জানালেন, ভ্রমণের আগে জানা দরকার কিভাবে নিরাপদে ভ্রমণ করা যায়। এছাড়া কি কি দেখা যায় তা জানা দরকার আগে। এজন্য পালক ভ্রমণ বিষয়ক বই নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে। মেলায় ২৫ ভাগ ছাড়ে বই বিক্রি করেছেন বলেও জানান তিনি।
মেলায় ‘দুবাই’ ও ‘কাশ্মীর’ ভ্রমণ প্যাকেজে ছাড় দিচ্ছে ব্রাইট ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস। মাত্র ৪৪,৯৯৯ টাকায় দুবাই ভ্রমণ প্যাকেজ ৪ দিন ৩ রাত এবং মাত্র ৩৯,৯৯৯ টাকায় কাশ্মীর ভ্রমণ প্যাকেজ ৫ রাত ৬ দিন।
মেলায় বিভিন্ন প্যাকেজের উপড় বিশেষ ছাড় দিয়েছে ‘ড্রিম ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম লিমিটেড’। তাদের প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকক, ব্যাংকক-পাতায়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক, মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া-বালি, কুয়ালালামপুর-লাংকাউই, ইস্তানবুল, মিশর, তুরস্ক-মিশর, দুবাই, দুবাই-মিসর, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, চায়না-গুয়াংজু, ভূটান, কাঠামান্ডু-পোখাড়া, কাঠমান্ডু-পোখাড়া-নাগারকোট, কাশ্মীর, দিল্লি-আগড়া-জয়পুর প্রভৃতি ভ্রমণ প্যাকেজ।
এই মেলায় অংশগ্রহণকারী একমাত্র বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। মেলা উপলক্ষে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ১২টি রুটে টিকিট মূল্যে ১২ শতাংশ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি বিমানসংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, কলকাতা, দোহা, দাম্মাম ও মাসকাট আন্তর্জাতিক রুট এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অভ্যন্তরীণ রুটে টিকিটের মূল দামের ওপর এ ছাড় দেয়া হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন গন্তব্যে ভ্রমণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের আকর্ষণীয় প্যাকেজেও দিচ্ছে সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেন্ট হলিডেজ। ব্রেকফাস্টসহ হোটেল, বিমানবন্দর টান্সফারসহ ভ্রমণের নানা সুবিধা আছে হলিডে প্যাকেজে।
মেলায় ‘নোভেম ইকো রিসোর্ট’ এর ফেসবুক পেজে লাইক দিলেই ১০% ছাড় দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাছাড়া মেলায় তাদের ৫০০০ টাকার ভাউচার কার্ড পাওয়া গেছে মাত্র ২৫০০ টাকায়। নোভেম ইকোরিসোর্টটি শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত।
মেলায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্যাকেজের উপড় বিশেষ ছাড় দিয়েছে ‘ড্রিম ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম লিমিটেড’। তাদের প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে- ব্যাংকক, ব্যাংকক-পাতায়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর-ব্যাংকক, মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর-মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া-বালি, কুয়ালালামপুর-লাংকাউই, ইস্তানবুল, মিশর, তুরস্ক-মিশর, দুবাই, দুবাই-মিশর, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, চায়না-গুয়াংজু, ভূটান, কাঠামান্ডু-পোখাড়া, কাঠমান্ডু-পোখাড়া-নাগারকোট, কাশ্মীর, দিল্লি-আগড়া-জয়পুর প্রভৃতি ভ্রমণ প্যাকেজ।
এবারে ট্যুরিজম মেলায় প্রথম বারের মত স্টল নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ আছে তা অনেকেই জানেন না। তাই ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্পর্কে জানান দিতেই মেলা স্টল নেয়া হয়েছে। তারা জানান, ট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা দিতে বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশে ১ হাজার ২শ’ ৮৩ জন পুলিশ সদস্য রায়েছে।
মেলার আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান বিআইটিএফ-এর প্রধান নির্বাহী রেজাউল একরাম জানান, খাতা কলমে দেশে খাতা কলমে অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে অনুযায়ী ট্যুরিস্ট আসে ৫ থেকে ৭ লাখ। কিন্তু আমি বলবো আসে ৫ থেকে ৭ হাজার। তিনি প্রশ্ন করেন দেশে ট্যুরিস্ট আসলেতো আর ঘরে বসে থাকবে না। আপনি বলেনতো কয়জন ট্যুরিস্টের দেখা পান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ