মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০
Online Edition

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করে সরকার দেশের ষোল কোটি মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে

গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী -সংগ্রাম

# ১১ অক্টোবর ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি
স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, যারা জনগণের ভোটে পাস করে না তারা কখনো জনগণের কল্যাণে কাজ করে না। জনগণের কাছে তাদের কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসেনি বলেই জনবিরোধী আইন পাসের সাহস দেখিয়েছে। দেশী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ, সাংবাদিকসমাজসহ বিবেকবান মানুষের মতামত উপেক্ষা করে সরকার নিজেদের ফ্যাসিবাদ সুরক্ষা দিতে এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে জংলী আইন পাস করেছে। এ আইনের মাধ্যমে দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রের সংবিধানের স্পষ্ট লংঘন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে একটি ভয়াবহ কালো আইন পাস করে সরকার দেশের ষোল কোটি মানুষের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ আইনের কার্যকারিতা বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। এরপরও যদি এ আইন বাতিল না করা হয় তাহলে বর্তমান ফ্যাসিবাদি সরকারকে দেশের মানুষ পতন ঘটাতে বাধ্য করবে। 
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে’ বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজে’র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিএইজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, সাংবাদিক নেতা নুরুল আমিন রোকন, আব্দুল আওয়াল ঠাকুর, আহমেদ মতিউর রহমান, মোদাব্বের হোসেন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাজাহান সাজু, আলমগীর হোসেন, কামরুজ্জামান কাজল প্রমুখ। 
রুহুল আমিন গাজী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সরকার দেশের ১৬ কোটি মানুষের অধিকার হরণ করেছে।  দেশী ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ, সাংবাদিকসমাজসহ বিবেকবান মানুষের মতামত উপেক্ষা করে সরকার নিজেদের ফ্যাসিবাদ সুরক্ষা দিতে এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে জংলী আইন পাস করেছে। সংবিধান বিরোধী এ জংলী আইন মানতে দেশের মানুষ বাধ্য নয়।
তিনি বলেন, সাংবাদিকসমাজসহ দেশের মানুষ এ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। চোর শোনেনা ধর্মের কাহিনী। যে দেশের মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করে নেয় সরকার। সে দেশে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা যায় না। যে সরকার সংবিধান বিরোধী জনগণের কণ্ঠরোধকারী অপরাধের সাথে জড়িত তাদেরকে পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। যতদিন পর্যন্ত দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত না হবে ততদিন সাংবাদিক সমাজ আন্দোলন চালিয়ে যাবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে এই ভয়াবহ কালো আইন পাস করে সরকার দেশের ষোল কোটি মানুষের মতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।  
বিএফইউজের সভাপতি বলেন, এদেশের মানুষ বাকশালী আইন মানেনি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মানুষের অধিকার হরণকারী এ কালো আইনও মানবে না। এ দেশের মানুষ সর্বশক্তি দিয়ে এ কালো আইন প্রতিহত করবে। সাংবাদিকরা রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও তাদের লেখার স্বাধীনতা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করবে। কেননা দেশের সংবিধান পরিপন্থী কোনো আইন সাংবাদিকরা মেনে নেবে না।
শওকত মাহমুদ বলেন, দেশের মানবাধিকার সংস্থা, বুদ্ধিজীবী, সুশীলসমাজ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও দেশের বিবেকবান মানুষের বিরোধীতা সত্ত্বেও সরকারের কিছু মানুষের প্রতিহিংসার কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো জঘন্য আইন পাস করা হয়েছে। যারা এ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন না তারাও এ আইনের ক্ষতিকারক দিক থেকে রেহাই পাবেন না। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।  সকলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে এ আইনের কার্যকারিতা বাতিল করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে।    
তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে আজ অধিকাংশ মিডিয়া। তারপরও সরকার তাদের বিশ্বাস করতে পারছে না। এ আইন পাশ হলে কোনো মিডিয়া কর্মীই পার পাবে না। তাই অবিলম্বে এ আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামুন। এ আইনের প্রত্যেকটা লাইনে লাইনে রয়েছে বাকস্বাধীনতা হরণের মতো অন্যায় নির্দেশনা। যা দেশের সংবিধান পরিপন্থী। এ আইন পাশ হলে একদিকে যেমন মুক্ত সংবাদমাধ্যম তাদের স্বাধীনতা হারাবে অন্যদিকে দেশের মানুষের মত প্রকাশের কোনো স্বাধীনতা থাকবে না।
এম আবদুল্লাহ বলেন, আমরা শুনেছি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করেছেন। রাষ্ট্রপতির উচিত ছিল এ আইনে স্বাক্ষর না করে রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে দায়িত্ব পালন করা। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তা না করে ফ্যাসিবাদী সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি বলেন, আইনে বলা আছে যারা সংবিধান লংঘন করবেন তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে মৃত্যুদ-। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংবিধান বিরোধী। যারা এ আইন পাস করেছেন, যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে সংবিধান লংঘনের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে এ কালো আইন দেশের সাংবাদিক সমাজ, সুশীল সমাজ, এমনকি দেশের কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নেয়নি। তারপরও তাদের মতামতের তোয়াক্কা না করে তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় এ আইন পাস করা হয়েছে।  এ আইনের কারণে দেশের মানুষ কথা বলার অধিকার হারাবে। সাংবাদিকরা সত্য কথা লিখতে পারবে না। এ জন্য সবাইকে এ আইন প্রতিহত করার শপথ নিতে হবে। এ আইন বাতিল না করলে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারকে দেশের মানুষ পতন ঘটাতে বাধ্য করবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দুনিয়ার কোনো দেশে এরকম কালো আইন নেই। সরকারের কিছু চাটুকার ছাড়া এ আইন সবাই প্রত্যাখ্যান করেছে। সকল মহলের মতামতকে উপেক্ষা করে সংসদে বিশ্ব বেহায়ার মতো এ আইন পাস করা হয়েছে। এ আইন প্রয়োগ করে যারা সত্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না। এটা দেশের সংবিধান বিরোধী। এ আইন দেশের কোনো বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারেনা। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এ কালো আইন প্রতিহত করা হবে।  
মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করতে সরকার একক সিদ্ধান্তে এ কালো আইন পাস করেছে। গণতন্ত্র পরিপন্থী ফ্যাসিবাদ সুরক্ষা আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। তিনি বলেন, যারা মিথ্যার ওপর ঠিকে থাকে তারা কখনো কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। তেমনি সরকার সাংবাদিকদেরকেও বিশ্বাস করতে পারছে না। মিথ্যার ওপর বেশি দিন টিকে থাকা যায় না। এ আইন বাতিল না করলে দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় সাংবাদিকসমাজ আরও কঠোর আন্দোলনে নামবে। দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরবে ইনশাল্লাহ। সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামে একটি ভয়াবহ কালো আইন পাস করেছে সরকার। এ আইন সরকার ও সাংবাদিকসমাজকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ঠকবাজরা প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে। যা আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনে দেখেছি। এবারও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো গণবিরোধী আইন পাস করা হয়েছে।
ইলিয়াস খান বলেন, ১৯৭৫ সালেও আওয়ামী লীগ সরকার সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করতে চারটি সংবাদপত্র রেখে বাকি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিলো। বাকশালের মতো কালো আইন করেছিলো। কিন্তু দেশের জনগণ সে আইন প্রত্যাখান করেছিল। আজও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে ভয়াবহ জঘন্য এ আইন পাশ করা হলে দেশের মানুষ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করবে। 
কর্মসূচি: গণতন্ত্র গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিরোধী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে আগামী ১১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ